শীর্ষস্থানীয় ইউরোপীয় দেশ গুলিতে আসন্ন সময়ে আর্থিক অবনয়ন হতে চলেছে, এরকম সম্ভাবনা খুবই বড় ধরনের, শতকরা চল্লিশ ভাগেরও বেশি. অর্থনৈতিক পতনের মুখে ইতালি, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স. খুব ভাল কিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আশা করা হচ্ছে না. আর ব্রিকস দেশ গুলির ক্ষেত্রে এত নেতিবাচক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা, অন্য দিকে খুবই কম. এই ধরনের সিদ্ধান্ত রয়েছে আমেরিকার বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক গোল্ডম্যান স্যাক্স এর গবেষণায়.

তাদের বিশ্লেষজ্ঞেরা গত দেড়শ বছরের মহাফেজ খানার দলিল অনুসন্ধান করে অর্থনৈতিক অবনয়ন সম্বন্ধে সমস্ত তথ্য যেখানে বিভিন্ন আলাদা দেশে ১০ বছরেরও বেশী সময় ধরে অর্থনৈতিক অবনয়ন হয়েছিল, সে গুলিকে এক নিয়ম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন. তার মধ্যে সবচেয়ে কাছের বিগত সময়ের তাজা তথ্য – যেমন ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জাপানের অর্থনীতির কথাও রয়েছে. সব মিলিয়ে দীর্ঘায়িত ও গুরুত্বপূর্ণ অবনয়নের সংখ্যা হয়েছে ৯০টিরও বেশী.

এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বর্তমানের পরিস্থিতিতে সঙ্কটের মডেল তৈরী করা হয়েছে. আর তার ফল দেখা গিয়েছে খুবই অনাকাঙ্খিত. প্রথম স্থানে – বেলজিয়াম, যাদের অবনয়নের সম্ভাবনা শতকরা ৫৩ শতাংশ. তারপরে ইতালি, জাপান, অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্স. "বে. কা. এস" বিনিয়োগ জোটের প্রধান বিনিয়োগ পরিকল্পনা কারক ম্যাক্সিম শেইন এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

"সার্বিক জাতীয় উত্পাদনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ঋণের অনুপাত বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড দেশে যথেষ্ট বেশী. বেশীর ভাগ উন্নত দেশের মতোই সেখানে প্রচার করা হয়েছিল যে, আমরা এখন ঋণ করবো ও ভাল করে বাঁচবো, আর পরে, দূর ভবিষ্যতে সেগুলির জন্য কাজ করবো, আর সেটা কি আর কবে, তাই নিয়ে কেউই মাথা ঘামায় নি. বোধহয় এই ব্যাপারটাই বেকারত্বের পরিমান, বাস্তু সম্পত্তির দামের গতি হীনতা ও শেয়ারের থেকে স্বল্প আয়ের বিষয়ে প্রভাব ফেলেছিল".

অবনয়নের সম্ভাবনা মূল্যায়ণ করতে গিয়ে বিশ্বের নানা দেশে সার্বিক জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কতটা, মূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্বের পরিমান, বাস্তু সম্পত্তির দাম ও শেয়ার বাজারের চাল চলন নিয়েও গবেষণা করা হয়েছে. সেই ধরনের কিছু ম্যাক্রো ইকনমিক সূচকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই অবনয়ন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু এখানে প্রশ্ন হল, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি. গোল্ডম্যান স্যাক্স এর বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের সম্ভাবনা দেখেছেন শতকরা ৪৩ শতাংশ, এটা তাঁদের তৈরী তালিকায় ষষ্ঠ. আর উন্নতিশীল দেশ গুলি এই তালিকার একদম শেষে রয়েছে, আর সেখানে অবনয়নের সম্ভাবনা খুবই কম. রাশিয়া ও চিনের শতকরা আধ শতাংশ. ভারতের – এক শতাংশ. ব্রিকসের আরও দুই অংশীদার দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের সূচক কিছুটা বাজে – যথাক্রমে শতকরা সাড়ে নয় ও সাড়ে চোদ্দ শতাংশ.

এই গবেষণা পত্রের লেখকেরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ভবিষ্যদ্বাণী তাঁরা শতকরা একশ ভাগই সঠিক তা বলতে চান না. এটা ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে সঙ্কটের সম্ভাবনা সম্পর্কে তালিকা তৈরীর প্রচেষ্টা ছাড়া বেশী কিছু নয়.

আর তারা উল্লেখ করেছেন যে, নেতৃস্থানীয় দেশ গুলির সরকার চাইলে অবনয়ন এড়াতে পারেন, কিন্তু তা হতে পারে শুধু জনপ্রিয় নয়, এমন সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েই. বিনিয়োগ জোট "কালিতা – বিনিয়োগ" এর বিশ্লেষক আলেক্সেই ভিয়াজভস্কি উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্র গুলি নিজেরাই নিজেদের অর্থনৈতিক কানা গলিতে নিয়ে গিয়েছে ও সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া সহজ হবে না, তিনি বলেছেন:

"প্রাথমিক ভাবে জনপ্রিয় হবে না, এই ধরনের ব্যবস্থা – এটা সরকারি অর্থনীতিকে সঠিক কাঠামো দিতে হবে নিয়মানুবর্তীতার বিষয়ে. এটা সরকারি খরচ কমানো, বাড়তি খরচ ছাঁটাই, যা যথেষ্ট কম প্রয়াসেই কমানো সম্ভব. আর সেই ধরনের ব্যবস্থা, দুঃখের হলেও আমরা লক্ষ্য করতে পারছি কম বেশী করা হচ্ছে গ্রীস দেশে করা হচ্ছে, জ্যান্ত অবস্থাতেই কাটা হচ্ছে, সরকারি কর্মচারী ছাঁটাই করা হচ্ছে. এই একই ব্যবস্থা হতে চলেছে উন্নত দেশ গুলিতেও. কারণ ২০০৮ সালে কি ঘটেছিল, তখন ব্যক্তিগত সমস্যার ঋণ গুলিকে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দিতে পারতো, তা সরকারি ঋণের স্তরে তুলে কিনে ফেলা হয়েছিল. প্রথমে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম ও পরে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তুলে নিয়েছিল প্রাথমিক ভাবে সমস্যায় পড়া গৃহ ঋণের সুদ সংক্রান্ত বকেয়া গুলি কিনে নিজেদের হিসাবের খাতায়. আর এখন এই সমস্যা সরকারি স্তরে পৌঁছে গিয়েছে".

গোল্ডম্যান স্যাক্স সংস্থার গবেষণাতে আরও একটি খামতি রয়েছে. তাঁরা আলাদা করে বিভিন্ন দেশে অবনয়নের সম্ভাবনা বিচার করেছেন. কিন্তু বিশ্লেষকেরা যেমন সাবধান করে দিয়েছেন যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা ইউরোপীয় সঙ্ঘে একবার অবনয়ন শুরু হয়, তাতে বাকিদের স্বাস্থ্যও ভাল হবে না.