রাশিয়া ও ভারত পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান তৈরি করছে. ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী এ.কে.এন্টনির মস্কো সফরের সময় এ প্রকল্পের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে. পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান তৈরীর য়ৌথ প্রকল্প আগামী কয়েক বছরে দু দেশের বৃহত্তম যৌথ প্রতিরক্ষা কর্মসূচি হয়ে উঠতে পারে. এ বিষয়টি আলোচনা করে আমাদের ভাষ্যকার গেওর্গি ভানেত্সভ লিখছেন :

   ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মস্কোয় এসেছেন সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত রুশ-ভারত আন্তঃসরকারী কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য. আলাপ-আলোচনার সময় “কা-১৫২” “নের্পা” মার্কা বহুলক্ষ্য সম্বলিত পারমাণবিক সাবমেরিন আগামী ১০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া এবং ভারতীয় নৌবাহিনীকে “বিক্রমাদিত্য” বিমানবাহী জাহাজ হস্তান্তর এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক-অর্থনৈতিক সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয় স্পর্শ করা হবে. ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মস্কো উপকন্ঠের ঝুকোভস্কি শহরও পরিদর্শন করবেন, সেখানে তাঁকে দেখানো হবে “তে-৫০-১” এবং “তে-৫০-২” মার্কা পঞ্চম প্রজন্মের রুশী ফাইটার বিমান.

   বিমানের সরকারী নাম - ফ্রন্ট এভিয়েশনের পরিপ্রেক্ষিতপূর্ণ এভিয়েশন সমাহার – “প.এ.ক ফ.এ”, আর কাজের সময়ের নাম “তে-৫০”. এ বিমানের ভারতীয় ধরণের নক্সা ও প্রযুক্তিগত প্রকল্প প্রণয়নের চুক্তি, যার নাম দেওয়া হয়েছে “এফ.জি.এফ.এ” (ফিফ্থ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট), স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১০ সালের ২১শে ডিসেম্বর দমিত্রি মেদভেদেভের ভারত সফরের সময়, মনে করিয়ে দিয়ে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ রুসলান পুখোভ বলেন :

   এ কর্মসূচি রাশিয়ার বিমানবাহিনীকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাথে যুক্ত করবে, রাশিয়ার শিল্পক্ষেত্রকে ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রের সাথে আগামী তিরিশ বছরের জন্য সহযোগিতার বন্ধনে আবদ্ধ করবে. আমার মনে হয় যে, “ব্রামোস” কর্মসূচির সাথে মিলে এ কর্মসূচি যৌথ সামরিক-প্রযুক্তি ক্ষেত্র সৃষ্টির এক ধরণের সেতু স্বরূপ হয়ে উঠবে, আর ভবিষ্যতে ভারতীয়দের সাথে আমাদের আরও অনেক বেশি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে.

   পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটারের একসারি আসাধারণ বিশেষত্ব আছে. তা একই সঙ্গে আক্রমণের বিমান, ফাইটার বিমান এবং বোমারু বিমানের কর্তব্য পালন করতে পারবে, যেকোনো আবহাওয়ার পরিবেশে এবং দিন-রাতের যেকোনো সময়ে সামরিক কর্তব্য পালন করতে পারবে. এতে থাকবে উচ্চ মাত্রার ইলেকট্রোনিক-কম্পিউটারভিত্তিক এভিওনিক্স. তার রাডার আকাশে, মাটিতে এবং কয়েক শো কিলোমিটার দূরে যা-কিছু ঘটছে সে সবই দেখতে পারবে. তা একই সঙ্গে বহুসংখ্যক লক্ষ্যের প্রতি নজর রাখতে এবং সেগুলির দিকে বিমানের অস্ত্রগুলি তাক করতে পারবে. রকেট বর্ষণ দ্বারা সবকটি লক্ষ্যের দিকে অগ্নি বর্ষণ করতে পারবে, আর তা যেমন আকাশে, তেমনই মাটিতে. তাছাড়া, এ ধরণের বিমানের রেডিও-লোকেশন সরঞ্জাম জায়গার মানচিত্র তৈরি করতে পারবে, অন্যান্য বিমানের ট্যাক্টিক্যাল পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাঠাতে পারবে এবং রেডিও-ইলেকট্রোনিক রক্ষা সুনিশ্চিত করতে পারবে. এই “তে-৫০” মার্কা বিমান মাত্র ৩০০-৪০০ মিটার রানওয়ে ব্যবহার করে উড়তে ও নামতে পারবে, ঘন্টায় ২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে উড়তে পারবে এবং একনাগাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবে. নতুন বিমানের অস্ত্রসজ্জা বিমানের ভিতরের অংশেই থাকবে, যার দরুণ নিরাপত্তার মান বৃদ্ধি পাবে. এ বিমানে নতুন ধরণের ইঞ্জিন বসানো হবে, পৃথিবীতে তা অনুপম, যার কল্যাণে বিমানের পাইলটিংয়ের নতুন নতুন সুযোগ-সম্ভাবনা দেখা দেবে, সর্বপ্রথমে – সুপার-ম্যানুভারিবিলিটি. টার্বোজেট ইঞ্জিন সহজেই সুপারসোনিক গতি তোলার সুযোগ দেবে, এতে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহৃত হবে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্লাজমিক ইগনিশন সিস্টেম.

   এ সবকিছু বিশেষজ্ঞদের এ কথা বিবেচনার সুযোগ দেয় যে, এ বিমান বিশ্বস্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে পঞ্চম প্রজন্মের চীনা ও মার্কিনী ফাইটার বিমানের সাথে. যেমন রাশিয়র “তে-৫০” বিমানের প্রাধান্য হল এই যে, সুপারসোনিক গতিতেও তা রকেট বর্ষণ করতে সক্ষম. মার্কিনী “রাপ্টর” বিমানে ভেতরের অংশ থেকে রকেটের বের হওয়ার জন্য বিমানকে সা-সোনিক গতিতে আনতে হয়.

   রাশিয়ার এক-আসন সম্বলিত রাশিয়ার ফাইটার বিমানের চেয়ে পার্থক্যে ভারতীয় ফাইটার বিমান হবে দুই-আসন সম্বলিত. ভারত ২৫০-৩০০টি পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান তৈরি এবং বিমান বাহিনীতে সজ্জার জন্য ২০ বছরে ৩৫০০ কোটি ডলার খরচ করতে প্রস্তুত.