সিরিয়াতে সরকারি ফৌজ প্রায় পুরো রাস্তান শহরের উপরেই নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পেরেছে, যে শহর অধিকার করার জন্য বিরোধী পক্ষ কিছুদিন ধরেই যুদ্ধ করছিল, খবর দিয়েছে ব্রিটেনের টেলি রেডিও কর্পোরেশন বি বি সি, সিরিয়ার কর্মীদের উল্লেখ করে. কিছু তথ্য অনুযায়ী, বিরোধী পক্ষের সারিতে চরমপন্থী ঐস্লামিক দলের লোকেরা সামিল হয়েছে. তারা বিরোধীদের সমস্ত মিছিলেই অংশ নিচ্ছে ও আহ্বান করছে শান্তির মিছিল পরিত্যাগ করে হাতে অস্ত্র ধরতে. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, এই দেশ এর আগে গৃহযুদ্ধের এত কাছাকাছি কখনও হয় নি ও বিদেশী অনুপ্রবেশের লক্ষ্যও আগে হয় নি.

    বিরোধীদের যে চরমপন্থী ঐস্লামিক দলের লোকেরা সমর্থন করছে, সেই বাস্তব বিষয় রাষ্ট্রপতি আসাদের জন্যই অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলেও পক্ষেই যেতে পারে, বলে মনে করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ, তিনি বলেছেন:

    "আসাদের প্রশাসন এখন সমস্ত রকমের সম্ভাবনাকেই ব্যবহার করছে বিশ্ব সমাজের চোখে কিছুটা হলেও সমর্থন পাওয়ার আশায় ও কিছুটা বিশ্রামের সময় বের করে নিতে, যাতে তাদের উপরে চাপ দেওয়া বন্ধ হয়. তার ওপরে এটা দেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য খুবই সন্তোষ জনক ব্যাখ্যা. আসাদ বলছেন, যে বিদেশী চরমপন্থীরা, যারা তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে আজ অংশ নিচ্ছে, তারা চায় সিরিয়া পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে, আর সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি নিজে দেশের জনগনের সঙ্গে এই ঘটনাকেই বাধা দিচ্ছেন. এটা আসাদ কেন শক্তি প্রয়োগ করছেন, তার জন্য একটা ভাল ব্যাখ্যা".

অন্য দিক থেকে সম্ভাবনা রয়েছে যে, আসাদ বিরোধীদের সক্রিয়তা রুখতে পারবেন না, যা এখন "মুসলমান ভাইয়েরা" সমর্থন করছে. তখন দেশে শুরু হবে গৃহযুদ্ধ, এই কথা বলে সাবধান করে দিয়ে রাজনীতিজ্ঞ ও প্রাচ্য বিশারদ গিওর্গি মিরস্কি বলেছেন:

"১৯৮২ সালে বর্তমানের রাষ্ট্রপতির পিতা হাফেজ আসাদ, হামা শহরে যখন "মুসলমান ভাইয়েরা" বিদ্রোহ করেছিল, তখন সাঁজোয়া গাড়ী দিয়ে শহরের অর্ধেক গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন. তখন বিশ হাজার লোক নিহত হয়েছিল. মুসলমান ভাইয়েরা চুপ করে গিয়েছিল, কিন্তু কিছুই ভোলে নি. আর এখন সেই সময় এসেছে, যখন তারা আবারও মাথা চাড়া দিয়েছে. আমি সন্দেহ করি না যে, খুবই অল্প সময়ের মধ্যে সিরিয়াতে "মুসলমান ভাইদের" চরমপন্থী সশস্ত্র বাহিনী তৈরী হবে, যারা বাশার আসাদের রক্তকে আরও দূষিত করবে".

কিন্তু গৃহযুদ্ধের পথ ধরে দেশে বিদেশী অনুপ্রবেশও শুরু হতে পারে. আপাততঃ পশ্চিমের দেশ গুলি সিরিয়ার ব্যাপারে সক্রিয় নাক গলানো বন্ধ রেখেছে. তারা এখনও ইরাক, লিবিয়া ও আফগানিস্তানের সামরিক অনুপ্রবেশ নিয়ে ব্যস্ত. এরই পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিরিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত তৈরীর কাজ চলছে, যাতে প্রশাসনের কঠোর কাজকে নিন্দা করা হয়েছে. রাশিয়া প্রথম থেকেই এই দলিলের হাল্কা বয়ানের পক্ষে, যা এই বিরোধকে আর বাড়তে না দিতে সাহায্য করে. শেষ আলোচনার সময়ে চারটি ইউরোপীয় দেশ – জার্মানী, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও পর্তুগাল  - বয়ান থেকে "নিষেধাজ্ঞা" কথাটি প্রত্যাহার করেছে. এখন তারা প্রস্তাব করছে সিরিয়ার বিরুদ্ধে "নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ব্যবস্থা" নিতে. সম্ভবতঃ পশ্চিমের দেশ গুলি আরব দুনিয়ায় আরও একটি বিরোধকে উস্কানি দিতে চাইছে না. এই কথা সত্য যে, চরমপন্থী ঐস্লামিকেরা খুব সম্ভবতঃ, অন্য ধারণা পোষণ করে ও তা স্বত্ত্বেও আসাদের সঙ্গে যুদ্ধ জুড়বে.