ভারত নিজেদেরকে একটি পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র তৈরীর কাজ অব্যহত রাখছে।শক্রবার ভারত পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অগ্নি-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে.ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্তানী টাইমস জানিয়েছে যে,পূর্বাণঞ্চলীয় উড়িষ্যা  অঙ্গরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি চান্ডিপুরে থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।

শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই ভারত ৩য় বারের মত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে যা সঙ্গত কারণেই দেশটির পারমানবিক শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তোলারই ইঙ্গিত প্রদান করছে।গত ২৪ সেপ্টেম্বর চান্ডিপুরে থেকেই ‘শাআউরইয়া’ নামের

অপর একটি ব্যালিষ্টিক রকেট উত্তক্ষেন করা হয়।এ রকেটের বিশেষত্ব হচ্ছে যে,এটি একই সাথে ভূমি ও সাবমেরিন থেকে উত্তক্ষেপন করা যাবে।এদিকে ‘শাআউরইয়া’ উত্তক্ষেপনের ২দিন পরই পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে 'পৃথিবী-২' নামের স্বল্পপাল্লার ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

ভারতকে একটি পারমানবিক শক্তিধর  রাষ্ট্রে পরিনত করার জাতীয় প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘অগ্নি-২’ ক্ষেপনাস্ত্র তৈরী করা হয়।অগ্নি-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০ মিটার লম্বা, এক মিটার চওড়া এবং ওজন প্রায় ১৭ টন।

দক্ষিণ এশিয়ার দুইটি প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে।তবে ১৯৯৮ সালে দুইটি দেশই যখন একাধিক ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় তখন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারন করেছিল।সর্বশেষ ‘অগ্নি-২’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা যা পারমানবিক শক্তি বিষয়ে দিল্লীর নিজস্ব মতাদর্শের পরিচয় তুলে ধরেছে।এমনটি বলছিলেন সামরিক বিষয়ক রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ব্লাদিমীর দভোরকিন।তিনি বলছেন, ‘অগ্নি-২ হচ্ছে মাঝারিপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র এবং এর প্রধান কাজ হচ্ছে ভারতের কৌশলগত ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডারকে আরও মজবুত করা।তাছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের সাথে ভারতের রয়েছে টানটান উত্তেজনা।সর্বশেষ সময় পাকিস্তান বেশ কয়েকবার ভরতের সাথে পাল্লা দিয়ে পারমানবিক  ক্ষেপনাস্ত্র তৈরী করেছে,ফলে সঙ্গত কারণেই ভারত এর প্রতিত্তর জানাচ্ছে’।

অন্যদিকে ভারতের পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার আরও একটি কারণ হচ্ছে চীন।ভ্লাদিমীর দভোরকিন মনে করছেন যে,১৯৬৪ সালে চীনে যখন পারমানবিক অস্ত্র সরবরাহ করা হয় তখনই ভারতের জন্য সামরিক শক্তিতে পারমানবিক অস্ত্র যুক্ত করার চিন্তাভাবনা শুরু হয়।তাছাড়া চীন ১৯৬২ সালে  ভারতের সাথে সীমান্ত যুদ্ধে পরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে।তবে সময়ের সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।নতুন ‘অগ্নি-২’ ক্ষেপনাস্ত্র যা চীনের পশ্চিম,মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চল বরাবর তাক করা আছে।এছাড়া পরমাণু অস্ত্রবাহী শক্তিশালী ক্ষেপনাস্ত্র অগ্নি-৩ যা গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন বেইজিং এবং সাংহাইয়ে নিক্ষেপ করতে সক্ষম।

পরিশেষে ভারত,পাকিস্তান ও চীনের পারমানবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি এই দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক পরিসরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।তবে পারমানবিক সমৃদ্ধশালী  দেশ তৈরীর অবশ্যই আঞ্চলিক মাত্রা আছে।