বিগত কয়েক মাসের প্রধান জটের জাল খুলেছে. রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন, আর "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকার নেতৃত্ব দেবেন বর্তমানের রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. কিন্তু কোন দেশের বর্তমান নেতা তাঁর সুযোগ নিলেন না – দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তা বেশ কিছুদিন ধরে উত্তর রহিত অবস্থায় পড়ে ছিল. আজ রাশিয়ার প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেল – "রাশিয়া – ১", "প্রথম চ্যানেল", "এন টিভি" র প্রধান ওলেগ দবরোদিয়েভ, কনস্তানতিন এর্ন্স্ট ও ভ্লাদিমির কুলিস্তিকভ, এঁদের সুযোগ হয়েছিল এই প্রসঙ্গ ও আরও নানা প্রসঙ্গ নিয়ে প্রশ্নের, যা দেশের মানুষের কাছে কৌতুহলের বিষয়, সেই গুলির জবাব সরাসরি ও সম্পূর্ণ উত্তর দেশের রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের মুখ থেকেই শুনতে পাওয়ার.

    আপনি কেন নিজের উচ্চাশা সন্তুষ্ট করা থেকে বিরত থাকলেন এবং দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রার্থী হলেন না? এই মূল প্রশ্ন দিয়েই দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে সাক্ষাত্কার শুরু হয়েছিল:

   "আমার জন্য প্রধান উচ্চাশা সেই বিষয়েই রয়েছে, যাতে আমার দেশ ও মানুষের জন্য সুবিধা করে দেওয়া সম্ভব হয়. এটা শুনতে হয়ত কিছুটা ঘোষণা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এটা একেবারেই সত্যি. কারণ সম্বন্ধে যা বলতে পারি, তা হল ভ্লাদিমির পুতিনের ও দিমিত্রি মেদভেদেভের, দুজনেরই জন্য প্রার্থী পদ প্রস্তাব করেছে, তাঁকে এর আগে, আমাকে বর্তমানের সময়ে, "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দল. তাই আমরা দুজনেই একই রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করি.

    তাহলে প্রশ্ন আসে: একই রাজনৈতিক দলের হয়ে, কাছাকাছি বিশ্বাস নিয়ে, আমরা তা হলে কি পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে বাধ্য? আমি বহু ধরনের রাজনৈতিক তালিকা তৈরী সম্বন্ধে পড়েছি: "কি করে এটা হতে পারে যে, রাজনৈতিক মঞ্চে বেরিয়ে এসে কেন বলা হচ্ছে না: আমরা শেষ অবধি তর্ক করবো, এই তো আমরা এবারে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করবো!..." কিন্তু, মনে রাখবেন, বিশ্বের কোন দেশেই তা করা হয় না. একই রাজনৈতিক শক্তির যাঁরা প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন, তাঁরা বেছে নেন, কে কোথায় যাবেন. আমরা কি এই রকম কোন পরিস্থিতির কথা মনে করতে পারি, যেমন, বারাক ওবামা হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন? আর আমি মনে করিয়ে দেবো যে, তাঁরা দুজনেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ছিলেন, দুজনেই ডেমোক্র্যাটিক দলের এবং তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কে কোথায় সবচেয়ে ভাল করতে পারেন, তারই ভিত্তিতে. এই বারে আমরাও সেই রকমের সিদ্ধান্তই নিয়েছি. ভাবতে ভাল লাগছে যে, বর্তমানের রাষ্ট্রপতির প্রতি যথেষ্ট উঁচু দরের ভরসা লোকে করছেন, কিন্তু আবার অন্য দিক থেকে, আমি খেয়াল করেছি যে, প্রধানমন্ত্রী পুতিন বর্তমানে আমাদের দেশে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও তাঁর রেটিং কিছুটা বেশী.

    প্রায়ই আমাদের কাছ থেকে লোকে অপেক্ষায় থাকে, যাতে আমরা কোন একটা সময়ে ঝগড়া করবো ও রাজনৈতিক মঞ্চে শুরু করবো সক্রিয় ভাবে বিরোধের. আমি বলতে চাই যে, এটা কখনোই হবে না. আমরা নির্বাচনে জয়ী হতে চাই: যেমন ডিসেম্বর মাসে লোকসভা নির্বাচনে, তেমনই মার্চ মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে. নিজেদের উচ্চাশা সন্তুষ্ট করার জন্য নয়".

    আর তা স্বত্ত্বেও, রাশিয়ার লোকসভা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোন রকমেরই আগে থেকে ঠিক করা ব্যাপার নেই, উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. "নির্বাচন জনগন করে থাকেন, আর এটা ফাঁকা আওয়াজ নয়, একেবারেই তা নয়. যে কোন রাজনৈতিক নেতাই নির্বাচনে উড়ে যেতে পারেন, তাঁর রাজনৈতিক শক্তিও পারে", - ঘোষণা করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি বলেছেন:

    "সম্মেলনের সিদ্ধান্ত – এটা শুধু দলের পরামর্শ দুইজন প্রার্থীকে নির্বাচনে সমর্থন করার, তার চেয়ে বেশী কিছু নয়. নির্বাচন করেন জনগন, কোন ফাঁকা আওয়াজ তাতে নেই ও তা ঠিক সেই রকমেরই ব্যাপার. কেউই কোন কিছু থেকে আগে থেকেই নির্দিষ্ট হয়ে নেই. এখানে কোথা থেকে আগে থেকে ঠিক করার কথা আসছে?

    জানেন, যদি আমরা, যেমন – এক মুহূর্তের জন্যও মনে করি যে, - গেন্নাদি আন্দ্রেয়েভিচ জ্যুগানোভের সঙ্গে, ভ্লাদিমির ভল্ফোভিচ ঝিরিনোভস্কির সঙ্গে, সের্গেই মিখাইলোভিচ মিরোনভের সঙ্গে আগে থেকেই চুক্তি করতে পেরেছি, যে তাঁরা কেউই নির্বাচনে লড়বেন না, আর আমরা এতই সব মহানেরা, থেকেই যাচ্ছি. তাহলে এটা কোন কৃত্রিম ব্যাপার হতে পারত. কিন্তু তাঁরা তো নির্বাচনে যাচ্ছেন. লোকেরাই এখন ঠিক করুন, কাদের জন্য ভোট দেওয়া দরকার, কার প্রভাব বেশী".

    যখন একটা জট খুলেছে: বর্তমানের রাষ্ট্রপতি "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের নির্বাচনের প্রার্থী তালিকার প্রথমে রয়েছেন ও প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হচ্ছেন, তখন অন্য একটা জট পাকিয়েছে: দেশের অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিনের পদত্যাগ. এই পদত্যাগের কারণ নিয়মানুবর্তীতা, নাকি নীতিগত ভাবে বিরোধ? প্রশ্ন ছিল দিমিত্রি মেদভেদেভের কাছে, তিনি উত্তরে বলেছেন:

    "কুদরিনের সঙ্গে যা ঘটেছে – এটা রাষ্ট্রীয় নিয়মানুবর্তীতার ঘটনা, তার চেয়ে বেশী কিছু নয়. আমাদের দেশে জোট প্রশাসন নেই, আমাদের পার্লামেন্ট পরিচালিত রাষ্ট্র নয়, রাষ্ট্রপতি পরিচালিত. যে সহমত নয় – সরে যাবে. এটা শক্ত অবস্থান, আর আমি পরেও তা ধরে রাখতেই চাই. আর আমি বিশ্বাস করি যে, রাষ্ট্রের নেতৃত্বে যেই থাকুন, তিনি এই নীতি থেকেই আচরণ করবেন".

    "আলেক্সেই কুদরিনের সম্বন্ধে যা বলা যায়, তা হল আমার এই রকমের একটা বোধ রয়েছে যে, তিনি এই পদে স্রেফ বেশী দিন রয়ে গিয়েছেন, তাঁর সত্যিই, হতে পারে যে, নিজেরই বিরক্তি হয়েছে. তিনি আমার কাছে ফেব্রুয়ারী মাসে অথবা মার্চে এসেছিলেন ও বলেছিলেন যে বুঝতে পারছেন আগামী মন্ত্রী সভায় (প্রসঙ্গতঃ, তিনি কোন ধরনের প্রস্তাবের সম্বন্ধেই জানতেন না, যা আমরা পরে সম্মেলনের জন্য বলবো ঠিক করেছিলাম) তাঁর কাজ করার কোনও মানে হয় না. তাই এই সমস্ত বক্তৃতা, আমার জন্যই ছিল অবাক হওয়ার মতো. তাঁর নিজের সম্বন্ধে যা বলতে পারি. তা হল আলেক্সেই কুদরিন – অভিজ্ঞ ব্যক্তি, খুব ভাল বিশেষজ্ঞ, তিনি নিজের জন্য কাজ খুঁজে নেবেন ও দেশের জন্য প্রয়োজনীয়ই থাকবেন".

    দেশের নেতা "সঠিক কাজের দল" সম্বন্ধেও মন্তব্য করেছেন, যার সম্মেলনই শুরু হয়েছিল নেতা মিখাইল প্রোখোরভের পদত্যাগ দিয়ে, মেদভেদেভ বলেছেন:

    "যদি "সঠিক কাজের দল" সম্বন্ধে বলতে হয়, তবে দুঃখের কথা হল তাঁদের একটানা দুর্ভাগ্যই চলছে দায়িত্বশীল নেতা খোঁজার কাজে. আর তা, যা বিগত সময়ে ঘটেছে, তা অবশ্যই দলকে দুর্বল করে দিয়েছে. আমি মনে করিয়ে দিই যে, আমি অন্য দলের তালিকায় নেতৃত্ব দিচ্ছি, আর তাই "সঠিক কাজের দলের" পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না, তাদের জটিলতা নিয়েও. কিন্তু শুধু এই টুকুই বলবো যে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, আর এটা আমাদের দলের সঙ্গেও একই ধরনের ব্যাপার হয়েছে যে, যেমন আমাদের সম্মেলনে আমি বলেছিলাম যে, আমাদের দল মহত্ হৃদয়ের, আমাদের পার্লামেন্টের উচিত্ হবে রাশিয়ার সমস্ত মানুষেরই নির্বাচনের পছন্দের মতো হওয়ার: সেখানে "বাম" পন্থী মধ্য, "দক্ষিণ", সংরক্ষণ শীল, ডেমোক্র্যাটিক সমস্ত মতের লোকেরই থাকা দরকার. সব মিলিয়ে সেই সমস্ত লোকেদেরই, যাদের জন্য জনগন ভোট দিয়েছেন, অথবা ভোট দিতে চেয়েছেন. আর তাই পার্লামেন্টের আইন সঙ্গত হওয়ার ক্ষমতা, যেখানে এই ধরনের সমস্ত শক্তিই রয়েছে, তাই অনেক বেশী".

    ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁর সংশোধন ও নবীকরণের কাজ, যা তিনি চার বছর ধরে করছেন, তা চলবে মন্ত্রীসভাতেও. কোন জমে থাকার মত ব্যাপার হবেই না, বলে উল্লেখ করে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "শুধু এই জমে যাওয়াতেই অসুবিধা নয়, জমে যাওয়া বা থেমে থাকা সব সময়েই খুবই খারাপ ফল দিয়ে থাকে, আর তার কারণ হল, প্রশাসন নিজের মধ্যেই নবীকরণের শক্তি খুঁজে বের করতে বাধ্য. এটা কোন রকমের লাফ দিয়ে হতে পারে না, এই সবাই চলে গেল পদত্যাগ করে এই ভাবে. একটা পরম্পরা থাকার দরকার, যখন আমরা বুঝতে পারি, কে রাষ্ট্রের হাল ধরেছে, কিন্তু নবীকরণ হতেই হবে ও তা হতে হবে খুবই সিরিয়াস ধরনের. আমি এই রকম করার চেষ্টা করেছি যাতে, এই নবীকরণের কাজ স্থায়ী ভাবে হতে পারে. বিগত বছর গুলিতে, বিগত তিন বছরে আমার সিদ্ধান্তের জন্যেই দেশের অর্ধেক রাজ্যপালের পরিবর্তন হয়েছে, আর এটা শুধু পেনশনের যোগ্য বয়সের লোকেরাই নন, এঁরা খুবই নানা ধরনের লোক. এটা সর্বত্রই হতে বাধ্য: রাজ্যপালদের জায়গায়, পুলিশ বাহিনীতে, পুর সভাতে, আর অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারেও. সরকারকে ঝাঁকানোর দরকার নেই, যেন তা একটা পেয়ারা গাছ নয়, যে পড়বে তার থেকে কিছু. আমি প্রায়ই লোকেদের কাছ থেকে এই ধরনের মেসেজ পেয়ে থাকি: "এক্ষুণি এই মন্ত্রীকে বদল করুন! কি করে লজ্জা হচ্ছে না? আমাদের দূর্ঘটনা হয়েছে, আর তিনি এখনও পদে বহাল রয়েছেন!" কিন্তু আমরা বুঝতে বাধ্য যে, সমস্ত দুর্ঘটনাই মন্ত্রীদের উপরে নির্ভর করে না, তবুও মন্ত্রীসভারও বদল হওয়া দরকার".

    দিমিত্রি মেদভেদেভের ইন্টারনেট সক্রিয়তাকেও টেলিভিশন চ্যানেল গুলির নেতৃত্ব মনোযোগ না দিয়ে ছাড়েন নি. আপনি কি নিজের উপরে ব্লগ লেখকদের চাপ অনুভব করেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মেদভেদেভ বলেছেন:

    "জানেন, যদি আমি এই চাপ এই কথার সোজা মানে অনুযায়ী বোধ করতাম, তবে আমার রাষ্ট্রপতি হিসাবে কাজ করতে খুবই কষ্ট হত. কিন্তু আপনি ঠিকই বলেছেন, আমি ইন্টারনেটকে অনেক মনোযোগ দিয়ে থাকি. "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার" সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া, "সঠিক কাজের দলের" জটিল পরিস্থিতি, পদত্যাগ, সবই নানা রকমের. এমন লোক আছেন, যাঁরা বলে থাকেন: "একেবারে বিপর্যয়, গণতন্ত্রের অবসান হল". আর এমন লোকও আছেন, যাঁরা হাততালি দেন ও বলেন: "অবশেষে হয়েছে, আরও কঠোর করতে হবে". আমাদের দেশের বহু লোকের অবস্থান ব্লগ জগতে প্রতিফলিত হয়ে থাকে. অন্য ব্যাপার হল, স্বাভাবিক কারণেই ইন্টারনেটে বেশী অল্প বয়সী লোক, বয়স্ক লোকেদের তুলনায়. আর ইন্টারনেট সামাজিক নেটওয়ার্ক যে এই সমস্ত ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা খুবই ভাল ব্যাপার".

    দিমিত্রি মেদভেদেভ একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আগের মতই দেশের বর্তমানের প্রধান, আর এর অর্থ হল, সক্রিয়ভাবে যেমন দেশের ভিতরে, তেমনই দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজ করে যাচ্ছেন. "তাই আমি কোন ছুটিতে চলে যাবো না ও কোন আলাদা নির্বাচনী প্রকল্প নিয়েও কাজ করবো না, - উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. – লোকে যেন রাষ্ট্রপতির কাজ দিয়ে তাঁর বিচার করেন, মন্ত্রীসভার ক্ষেত্রেও তাই, তাঁদের কাজ দিয়েই. এটাও হচ্ছে গণতন্ত্র". আসন্ন প্রাক্ নির্বাচনী লড়াই নিয়ে রাষ্ট্রপতি যেমন বলেছেন যে, "তা হবে খুবই তীক্ষ্ণ, কঠোর, কিন্তু আশা করবো যেন ভদ্র হয়. আর এর জন্য রয়েছে সমস্ত রকমের আইন সঙ্গত ব্যবস্থা".