ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ পারমানবিক শক্তি উন্নয়নের কোন বিকল্প দেখতে পাচ্ছেন না. "আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, কিছু আগে বা পরে এই সত্য সমস্ত দেশই স্বীকার করবে, যারা চায় নিজেদের ও পরিবেশকে কার্বন যৌগের অতিরিক্ত দূষণ থেকে রক্ষা করতে", - এই কথা তিনি "হিন্দু" সংবাদপত্রে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন. এই প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় যোগদান করে ফিরে আসার পরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ফেলে রাখা যায় না এমন প্রশ্ন হয়েছে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু রাজ্যে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মীয়মাণ "কুদানকুলাম" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টর ব্লকের নভেম্বর মাসের উদ্বোধন নিয়ে বিরোধ পরিস্থিতির সমাধান.

    বিষয় টি নিয়ে বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" বিপর্যয়ের পরে অনেকেরই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র সম্পর্কে অবস্থান খুবই বিপরীত হয়েছে. মানুষ পরমাণু শক্তিকে ভরসা করা বন্ধ করেছে, ভয় পেতে শুরু করেছে. যে সমস্ত দেশে পারমানবিক শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র রয়েছে, তাঁরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে সমস্ত কেন্দ্র পরীক্ষা করে সেগুলির নিরাপত্তার সম্বন্ধে বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছেন. জার্মানী এমনকি ভবিষ্যতে পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করা থেকে বিরত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. রাশিয়া, ভারত, চিন ও অন্যান্য কিছু দেশ পারমানবিক শক্তি থেকে বিরত হতে চায় নি, কিন্তু পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র গুলির নিরাপত্তার মান খুবই উঁচু করেছে.

    ভারত ফরাসী কোম্পানী "আরেভা" থেকে ই পি আর ধরনের পারমানবিক রিয়্যাক্টর কেনার সম্বন্ধে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পেছিয়ে দিয়েছে, যতদিন না সেই রিয়্যাক্টর আবার করে সার্টিফিকেশন শেষ করে. কর্নাটক রাজ্যের ৩৫টি গ্রাম, যেগুলি "কাইগা" পারমানবিক কেন্দ্রের কাছে, তাঁরা এক বিশাল জন সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, জানতে পেরে যে, ভারতের পারমানবিক শক্তি সংস্থা বর্তমানে কার্যকরী চারটি রিয়্যাক্টরের সঙ্গে এই কেন্দ্রে আরও দুটি যোগ করতে চেয়েছেন. স্থানীয় জনতার প্রতিবাদ কুদানকুলাম বিদ্যুত কেন্দ্র পর্যন্তও পৌঁছেছে, যা বর্তমানে বাস্তবে প্রায় তৈরী হয়ে গিয়েছে. ১০০০ মেগা ওয়াট শক্তি সম্পন্ন প্রথম ব্লকটির চালু হওয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে পেছিয়ে নভেম্বর করা হয়েছে. একই শক্তির দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর চালু করা পেছিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী বছর পর্যন্ত. এই সিদ্ধান্ত, রাশিয়ার সম্মিলিত রাজনীতি গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ মনে করেছেন যে, ভারত বা রাশিয়ার কারও স্বার্থেই করা হয় নি, তাই তিনি বলেছেন:

    "ভারতের ভিতরে যে প্রকল্প বর্তমানে রাশিয়া তৈরী করছে দুটি পারমানবিক শক্তি উত্পাদন ব্লক নিয়ে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ. ভারত একটি জনবহুল দেশ ও খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পরিবেশ দূষণের জন্য. তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র ব্যবহার করা হলে, যা কয়লা থেকে চলে, তা মানুষের জীবনে খুবই ক্ষতি করে. যদি ভারত পারমানবিক শক্তি উন্নয়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তারা নিজেদের দেশের উন্নতিশীল অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতি করবে প্রয়োজনীয় শক্তির সঙ্কুলানের ব্যবস্থা নষ্ট করে, তার ওপরে ভারতের বর্তমান অর্থনীতির বৃদ্ধি হচ্ছে যথেষ্ট বেশী ভাবেই – বছরে শতকরা সাত শতাংশ. এই ধরনের বৃদ্ধিতে বিদ্যুত শক্তির অভাব দেশে খুবই গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে".

    কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষজ্ঞদের কাছে কোন রকমের উদ্বেগের কারণ ঘটায় নি. রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো এই প্রকল্পের পারমানবিক বিচ্ছুরণ নিরোধের ক্ষমতা সম্বন্ধে বলেছেন:

    "এই প্রকল্প, যা আজ কুদানকুলামে তৈরী হচ্ছে, তা খুবই বিরল নিরাপত্তার ব্যবস্থায়. এত বেশী সংখ্যক সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়া উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা বিশ্বের কোন পারমানবিক কেন্দ্রেই নেওয়া হয় নি".

    এই ব্লক সমস্ত পরীক্ষাই সাফল্যের সঙ্গে পার হয়েছে, তার মধ্যে তথাকথিত গরম প্রবাহের পরীক্ষাও করা হয়েছে ও তা চালু হওয়ার জন্য তৈরী. এখানে আপত্তি উঠেছে কোনও প্রযুক্তিগত কারণে নয়, বেশীর ভাগ রাজনৈতিক কারণেই. স্থানীয় জনতার প্রতিবাদের মধ্যে স্পষ্ট করেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে দেশের বিরোধী দল ও এই এলাকার রাজনৈতিক দল মারুমালার্চি দ্রাভিড় মুন্নেত্রা কাঝগম (এম ডি এম কে)কর্মীদের সক্রিয়তা, যারা এই তীক্ষ্ণ বিরোধকে আসন্ন নির্বাচনে ফায়দা লোটার জন্য ব্যবহার করছে. ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ ঘোষণা করেছেন যে, "তামিলনাডু রাজ্যের নেতৃত্ব বিদ্যুত কেন্দ্রের চালু হওয়ার বিরুদ্ধাচরণ করবে এই রকম মনে করার কোনও ভিত্তি আমার নেই". তিনি একই সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, তামিলনাডু রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন স্বয়ং সম্পূর্ণ শক্তির অভাবে ব্যাহত হবে. দ্রুত উন্নতিশীল এই রাজ্যে বিদ্যুতের প্রয়োজন মেটাতে "কুদানকুলাম" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র চাই, বলে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী.