সির্ত শহর, যেখানে সম্ভবতঃ লুকিয়ে আছেন লিবিয়ার প্রাক্তন নেতা মুহম্মর গাদ্দাফি খুবই নিশ্ছিদ্র বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে. অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সভার সশস্ত্র বাহিনী সির্ত শহরের কাছে বিমানবন্দর ও সামুদ্রিক বন্দরের উপরে নিয়ন্ত্রণ বহাল করেছে. শহরের দিকে যাচ্ছে বাড়তি সেনা বাহিনী, ট্যাঙ্ক ও একই সঙ্গে বহু রকেট ছোঁড়া যায়, এমন সাঁজোয়া গাড়ী থেকে অগ্নি বর্ষণ চলছে শহরের উপরে, ন্যাটো জোটের বিমান বাহিনী থেকেও বোমা বর্ষণ চলছে সমানে. বর্তমানের লিবিয়ার আইন সঙ্গত প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও একটি অগ্নিকুণ্ড বানি- ওয়ালিদ শহর. অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সভা সমাধানের জন্য ইচ্ছুক – ন্যাটোর সহায়তা নিয়ে প্রাক্তন জামাহিরির নেতার পক্ষের লোকেদের শেষ দুর্গও দখল করা হবে. এছাড়া এই দেশে জীবন কখনোই নিরাপদ হবে না, এই কথা ঘোষণা করেছেন লিবিয়ার অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সভার উপ প্রধান আবদেল হাফিজ গুগা. তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্কার নিয়েছেন "রেডিও রাশিয়ার" সাংবাদিক প্রতিনিধি ইমাদ তুফাইলি.

প্রশাসন লিবিয়ার প্রায় সমস্ত এলাকার উপরেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বহাল করতে পেরেছে. সেখানে কি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরেছে? দখল নেওয়া শহরগুলির সমস্ত মানুষেরাই কি নতুন সরকারকে সমর্থন করে? এর উত্তরে গুগা বলেছেন:

"স্বাধীন হওয়া জায়গার মানুষেরা একাত্মা হয়ে সভার ক্ষমতাকে মেনে নিয়েছে, তাদের এই অন্তর্বর্তী কালীণ সময়ে দেশকে স্বাধীন করার ভূমিকাকেও সমর্থন করেছে. কেউই এই সরকারের আইনের সঙ্গে সঙ্গতি নিয়ে সন্দেহ করছে না. অবশ্যই কি ভাবে মন্ত্রী পরিষদ গঠন হবে, তাই নিয়ে নানা রকমের দৃষ্টিকোণ রয়েছে, কিন্তু এটা একেবারেই কোন বিরোধ নয়, বরং আলোচনা. এখনও সির্ত ও বানি- ওয়ালিদ শহরে রয়েছে যুদ্ধের ফ্রন্ট, আর যতদিন না আমরা এই গুলি জয় করতে না পারবো ও সমস্ত সীমান্তবর্তী চৌকি গুলির উপরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বহাল করতে না পারবো, আমরা আমাদের দেশে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা অর্জন করতেও পারবো না. আর এটা – আমাদের প্রাথমিক কাজ".

কখন নতুন লিবিয়ার সরকার গঠিত হবে? উত্তরে গুগা বলেছেন:

"আগামী সপ্তাহের শুরুতে আমরা আশা করছি কার্যকরী পরিষদ গঠন করতে পারবো, দেশের উপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়া পর্যন্ত যা কার্যকরী থাকবে. তারপরে শুরু হবে অন্য অন্তর্বর্তী কালীণ সময়, যখন সরকার গঠন করা হবে ৮ মাসের জন্য. একই সঙ্গে পরিকল্পনা হয়েছে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রকাশের, যা এই অন্তর্বর্তী কালীণ সরকার তৈরী করবে".

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে লিবিয়ার অবস্থান কি? এই প্রশ্নের উত্তরে গুগা বলেছেন:

"লিবিয়া অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের নেতৃত্বে নিজেদের আইন সঙ্গত জায়গা সেই সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাতে নিতে পেরেছে যেমন, রাষ্ট্রসঙ্ঘ, আরব লীগ, আফ্রিকা সঙ্ঘ, আর তারই সঙ্গে অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনেও. পুনর্গঠিত রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ও সর্বজনীন ভাবে স্বীকার করা হয়েছে".

আপনি ভবিষ্যতে রাশিয়া ও লিবিয়ার সম্পর্ককে কি ভাবে দেখতে পাচ্ছেন? এর উত্তরে গুগা বলেছেন:

"রাশিয়া আমাদের মিত্র দেশ. রাশিয়া অন্তর্বর্তী কালীণ সভাকে স্বীকার করেছে ও সব সময়েই রাশিয়া অবস্থান আমাদের দেশের জন্য ইতিবাচকই ছিল. রাশিয়া আমাদের দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের রক্ষায় নিজেদের অবদান এই ভাবে রেখেছে, যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভার লিবিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ভেটো প্রয়োগ করার অধিকার নেয় নি. তাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে".

লিবিয়ার নতুন প্রশাসনের শাসনে ভবিষ্যত কি হতে চলেছে? উত্তরে গুগা বলেছেন:

"আমি মনে করি এখন নতুন প্রশাসন নিয়ে বলার কোন মানে হয় না, কারণ তা এখনও নেই. আমরা কোন নতুন প্রশাসন নই ও নিজেদের সেই ভাবে অনুভবও করছি না. নতুন প্রশাসন নিজের ক্ষমতায় প্রবেশ করবে দেশ জোড়া ভোট গ্রহণ করে নতুন সংবিধান সংক্রান্ত প্রশ্ন গৃহীত হওয়ার পরে. আর আমাদের দেশের ভবিষ্যত সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা হল আমরা যেমন আগেও বলেছি যে, আশা করি এটা এক সার্বভৌম রাষ্ট্রই হবে, যেখানে বহু দলীয় রাজনীতি ও আইনের প্রাধান্যই স্বীকৃত হবে. আশা করবো যে, আমরা শেষমেষ এই পথেই চলবো".

আবদেল হাফিজ গুগা জানিয়েছেন যে, আজ অন্তর্বর্তী কালীণ সভার প্রাথমিক কাজ হল, দেশকে পুনর্স্থাপন করা. আর এই কাজের জন্য যে গাদ্দাফির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের থেকেই অর্থ যোগান দেওয়া হবে, তা ন্যায্য.