রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় হিনা রব্বানি খারের বক্তৃতা প্রায় চাঞ্চল্যকর হয়েছে. পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁদের দীর্ঘ দিনের প্রতিদ্বন্দী ভারতবর্ষের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন জলপাই এর শাখা. তিনি দিল্লীকে আহ্বান করেছেন সমস্ত সমস্যার সমাধান, এমনকি কাশ্মীর নিয়েও গবীর ও নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমেই করার. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্তানের মন্ত্রীর বক্তৃতার সুর পাল্টানোর মতো চমক জাগানো ব্যাপার, বোধহয় ব্যাখ্যা করা যেতে পারে সেই কঠিন পরিস্থিতিরই কারণে, যা আজকের পাকিস্তান দেখছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভয় দেখিয়েছে ইসলামাবাদকে আর আর্থিক ও সামরিক সাহায্য না করার, আমেরিকার রাজনীতিবিদেরা এমনকি পাকিস্তানের জমিতে সামরিক অপারেশনের সম্ভাবনাও বাদ দেন নি. তার ওপরে খুবই জটিল আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়েছে চরমপন্থী ঐস্লামিকদের তরফ থেকে বিপদের আশঙ্কা বাড়ায়. দেশ বর্তমানে আর্থিক সঙ্কটের মুখে. পরিস্থিতি বাধ্য করেছে নতুন জোট ও কম করে হলে নিজের বৃহত্তম প্রতিবেশী ও সহকর্মী ভারতবর্ষের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর.

    কিন্তু পাকিস্তানের সেনা বাহিনী কি এটা হতে দেবে, যারা এখনও দেশের সবচেয়ে বড় বিচারক ও দেশের রাজনীতি নিরুপণ করে, ভারতের কাছাকাছি যাওয়া বা কিছু বদল করতে তারা কি দেবে? শান্তিপ্রিয় বক্তৃতা শ্রীমতী খার দিলেও এর পরে কি কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে – সম্ভবতঃ নয়, এই কথা উল্লেখ করে প্রফেসর সের্গেই লুনেভ বলেছেন:

    "ইতিহাসে একাধিকবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক খুবই চরম হয়েছে, ঠিক তার পরেই যখন পাকিস্তানের সরকার ভারতের সঙ্গে একেবারেই শান্তির সম্পর্কের ঘোষণা দিয়েছে. কিন্তু কখনোই এটা শান্তির পথে করতে দেওয়া হয় নি. এই ধরনের বাস্তব ঘটনা অনেক রয়েছে. ১৯৯৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী লাহোর গিয়েছিলেন বাসে চড়ে. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাস চলাচল শুরু হয়েছিল. লাহোরে এই শহরের নামেই যৌথ ঘোষণা করা হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মৈত্রী সম্পর্কের. ঠিক একই সময়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ছুরি শানিয়েছিল ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য. শুরু হয়েছিল কারগিল যুদ্ধ".

    আজও বিশেষ কোন পরিবর্তন ঘটে নি. পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী দল লস্কর এ তৈবার জঙ্গীরা ভারতের মুম্বাই শহরে ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে নিরীহ জনতা হত্যার রক্ত ধুয়ে যাওয়ার আগেই আড়াই বছর পরে প্রায় বরফ স্তব্ধ ভারত পাক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে সীমিত ওভারের ক্রিকেট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের সেমি ফাইনালে ভারত ও পাকিস্তানের খেলা দেখতে নিয়ে এসেছিলেন. তারপর থেকে বেশ কয়েকটি সাক্ষাত্কার নানা উচ্চ পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যেই হয়েছে, অথচ পাকিস্তান আজও মুম্বাই হামলার অভিযুক্তদের ভারতের হাতে তুলে দেয় নি বা শাস্তিও দেয় নি. ভারত ও পাকিস্তানের উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ে সিয়াচেন উপত্যকা থেকে সেনা অপসারণের বিষয়েরও কোন সুরাহা হয় নি.

    আজ এমন এক পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে, যখন পাকিস্তানের পক্ষে শেষ সময় এসেছে কোন একটা সহমতে এসে এই শান্তি আলোচনার নামে ঘূর্ণাবর্ত থেকে বের হওয়ার. কারণ এর আগে এই ধরনের শান্তি বাণী বর্ষণের পরেই পাকিস্তান ভারতকে আক্রমণ করেছিল.