জলদস্যূতা উত্তর প্রস্তুতি এই জিগির তুলে এই বছরে বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালন করা হচ্ছে. ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে এই দিনটিকে উত্সবের দিন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, যাতে বিশ্ব সমাজের মনোযোগ পৃথিবীর সমুদ্র রক্ষার সমস্যা গুলির প্রতি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়. আর এটা শুধু সমুদ্র দূষণের সমস্যাই নয়, বরং বর্তমানে বেশী করে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাও.

মানবেতিহাসে সমুদ্র পরিবহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে. আজকেও সমুদ্র পরিবহনের গুরুত্ব অপরিসীম বিশ্বের মাল পরিবহনের শতকরা ৬৫ শতাংশই এর ভাগে পড়ে, কারণ তা রেল পরিবহনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সস্তা. একই সঙ্গে নাবিকদের সবচেয়ে মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে জলদস্যূরা, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর রাষ্ট্র ও আইন ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ ভাসিলি গুত্সুলিয়াক বলেছেন:

"কয়েক বছর আগেও জলদস্যূর সমস্যা এত তীক্ষ্ণ ছিল না. সামুদ্রিক জাহাজের উপরে আক্রমণের ঘটনা আগেও ঘটেছে, কারণ জলদস্যূ সব সময়েই ছিল, কিন্তু আজ যেন তা অভূতপূর্ব এক আকারে প্রসারিত হয়েছে. প্রায় প্রত্যেক দিনই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও বাণিজ্য জাহাজের উপরে আক্রমণ করা হচ্ছে. যদি আগে এই ঘটনা ঘটত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে, তবে আজ আমরা সোমালির কাণ্ডের সঙ্গে লড়াই করছি".

বিশেষজ্ঞের কথামতো, এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা বর্তমানে সবচেয়ে উচ্চ মহলেই হচ্ছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি প্রধান বিভাগ – নিরাপত্তা পরিষদে জলদস্যূ দমনের জন্য কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. অংশতঃ, বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে, সোমালির উপকূলে এখন থেকে অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে, আর যা আগে কখনও করা হয়নি, তা হল – নিরাপত্তা পরিষদ স্থলপথে পদাতিক ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে, যাতে জলদস্যূর কুকীর্তি করা একেবারেই অঙ্কুরেই বিনাশ হতে পারে. কিন্তু এমনকি এই ব্যবস্থা নেওয়াতেও ফল হয় নি, আর তাই এই বিষয়ে আলোচনা সমুদ্র দিবসেই করা সব থেকে ভাল বলে বিশ্বাস করেন ভাসিলি গুত্সুলিয়াক.

জলদস্যূরা থাক জলদস্যূদের মতো, কিন্তু সমুদ্র দিবসে ভুলে গেলে চলবে না বিশ্ব মহাসমুদ্রের সংরক্ষণের কথা. স্থল অঞ্চলের চেয়ে এর প্রসার দুই ভাগেরও বেশী. আর তাই আমাদের গ্রহের সঠিক নাম দেওয়া যেতে পারত, মাটির পৃথিবী না বলে জলের পৃথিবী. সুদূর প্রাচ্যের প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা সাখালিনের পরিবেশ রক্ষণের প্রধান দিমিত্রি লিসিতসিন বলেছেন:

"জীবনের উত্স হল জল, আর আমরা সবাই নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই মহাসমুদ্রের কাছে ঋণী. অবশ্যই দূষণ কমানো উচিত্. আমাদের খিদে কমিয়ে মাছ ধরা কমানো ও আমাদের সমুদ্রের প্রতি যত্ন নিয়ে আচরণ করা উচিত্".

বিগত সময়ে সমুদ্রের তল হতে প্রচুর পরিমানে খনিজ তেল ও গ্যাসের মত কার্বন যৌগ আহরণে সমুদ্র দূষণের সম্ভাবনা প্রচুর বেড়েছে, এই কথা উল্লেখ করে প্রখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞানী শিরশভ নামাঙ্কিত মহাসমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর ও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সদস্য – প্রতিনিধি লিওপোল্ড লবকোভস্কি বলেছেন:

"এটা বাস্তব সত্য, আর বহু কোম্পানী বর্তমানে সমুদ্রের গভীরে কাজ করছে, যেমন কাস্পিয়ান সমুদ্র, কৃষ্ণ সাগর, যদি আমাদের দেশ সম্বন্ধে বলতে হয়. এখন আবার আর্কটিক অঞ্চলে কাজ হবে, হিম সাগর, কার্স্ক, অখোত্স্ক ইত্যাদি সমস্ত সমুদ্রেই খনিজ আহরণের কাজ হবে. রাশিয়ার চারপাশে প্রায় সমস্ত সমুদ্রেই খনিজ তেল ও গ্যাস রয়েছে, আর একবিংশ শতাব্দীতে শুরু হয়েছে এই সবের উপরে খুবই বিশাল ও বড় মাপের কাজকর্ম. এটা করতে গিয়ে অনেক ঝুঁকিও থাকছে".

মানুষের কাজকর্মের ফলে বেড়েছে বায়ু দূষণের পরিমান, যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও ফল বিপর্যয় আর বহু জায়গার জলে ডুবে যাওয়া. নিজেদের রক্ষার অভিপ্রায়ে মানুষের তাই উচিত্ হবে মহাসমুদ্রের সংরক্ষণ, কারণ সমস্ত পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাবই এর উপরে পড়ে.