ইরানের, ভারত ও পাকিস্তানের শহরগুলি বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে. ভাল অবস্থা নয় মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোর শহরেরও. এই সম্বন্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রকাশিত এক বায়ু দূষণ নিয়ে প্রবন্ধে লেখা হয়েছে.

    এশিয়ার দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, ফলে পরিবেশ দূষণ ও জ্বালানীর বিপুল ব্যবহার এখন মারাত্মক পরিমানে হচ্ছে. বিগত বছর গুলিতে এশিয়াতে পরিবেশ সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে এক শোক প্রকাশের যোগ্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে. এই বিপজ্জনক লক্ষণ, যেমন পরিবেশ বিশারদেরা তেমনই চিকিত্সকেরাও নিজেদের গবেষণায় দেখিয়েছেন.

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এখন শরীরের জন্য খারাপ এমন একটি বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন – বায়ু দূষণ বৃদ্ধি. সবচেয়ে খারাপ হাওয়া ইরানের পশ্চিমে আখভাজ শহরে. সেখানে ১০ মাইক্রন বা তার কম ঘনত্বের হাওয়াতে মিশে থাকা পদার্থের গড় বার্ষিক ঘনত্ব ৩৭২ মাইক্রো গ্রাম প্রতি কিউবিক  মিটারে. আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী এই সূচক বছরে ২০ মাইক্রো গ্রামের বেশী হওয়া ক্ষতিকারক. চিকিত্সকেরা ধারণা করেছেন যে, এই ধরনের কণা ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে, রক্তের প্রবাহে মিশতে পারে ও হৃতপিণ্ডের রোগ, শ্বাসের রোগ আর শ্বাস নালীর নীচের অংশে খুবই ক্ষতিকারক সংক্রমণ ঘটাতে পারে.

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এশিয়ার বহু দেশেরই খারাপ পরিস্থিতির কথা বলেছেন. তাই এশিয়াতে অন্য যে কোন জায়গার চেয়ে বেশী করে দরকার হবে জনসাধারনকে পরিবেশ থেকে বিপদ সম্বন্ধে তথ্য যোগানোর. এই কথা রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে উল্লেখ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মস্কো শহরের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার গোরেলিক বলেছেন:

    "কোন রকমের আকাশ কুসুম কল্পনা করে লাভ নেই যে, যদি হাওয়াতে কালো মেঘ না দেখা যায়, যা দেখলেই মনে হয় কিছু একটা ভাল নয়, তাহলেই হাওয়া খারাপ নয়. তাছাড়া ফলপ্রসূ রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া নিতে হবে, যাতে পরিস্থিতি ঠিক হয়. বোঝাই যাচ্ছে যে, আবহাওয়ার নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে".

    এশিয়াতে পরিবেশের পরিস্থিতি খুবই দ্রুত খারাপ হচ্ছে বলে যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, তা এই সমস্ত দেশে অর্থনৈতিক উন্নতিকেই সবচেয়ে বড় মূল্যবোধের বস্তু বলে মনে করার জন্য. পরিবেশ রক্ষার জন্য অর্থ আলাদা করে দেওয়া বড় খরচ সাপেক্ষ ও কেউই তা করতে চায় না. কারখানা যত দ্রুত তৈরী হয়, তত দ্রুত মানুষের শিক্ষা, স্বভাব, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বোধ বাড়ে না. তাই পরিবেশ সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানের জন্য প্রয়োজন বর্তমানের উন্নতির স্ট্র্যাটেজি. আর এটা – এক বছরে করার মতো কাজ নয়, কারণ সমস্ত "নোংরা" কারখানাই এখন ইউরোপ আমেরিকা ছেড়ে রওয়ানা দিয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার দিকে, যেখানে প্রাণের দামই প্রায় দেওয়া হয় না. সুতরাং ধোঁয়াশা এখনও বহু দিনই এই সব দেশের উপর থেকে যাবে না.