ভারত ঘোষণা করেছে ২০১২ সালে নিজেদের দেশে তৈরী ব্যালিস্টিক রকেট বাহী প্রথম পারমানবিক ডুবোজাহাজ "আরিহন্ত" নৌবাহিনীর সঙ্গে সংযোজন করবে বলে ঘোষণা করেছে. এর আগে পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীতে রুশ, জার্মান ও ফরাসী ডুবোজাহাজ গুলিই ছিল, খবর প্রকাশ করেছে রাশিয়ার "ইজভেস্তিয়া" সংবাদপত্র.

    বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, এই ডুবোজাহাজের গঠন সোভিয়েত প্রকল্প "স্কাত" অনুযায়ী করা হয়েছে. "আরিহন্ত" সৃষ্টির সময়ে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারেরা ব্যবহার করেছেন রাশিয়ার আরও আধুনিক ডিজেল চালিত ডুবোজাহাজ "ভারশাভিয়ানকার" ডিজাইন. দুটি ডিজাইনের সঙ্গেই ভারতীয় নাবিকেরা খুব ভাল করেই পরিচিত. নতুন পারমানবিক ডুবোজাহাজ, যা ব্যালিস্টিক মিসাইল সজ্জিত হবে, আগামী বছরেই বাহিনীতে যুক্ত হতে হবে. এটি আঞ্চলিক ভাবে শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন করবে প্রথম ভারতীয় নৌবাহিনীর রকেট বাহী জাহাজ হয়ে.

    রাশিয়া সক্রিয় ভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করছে জানা আছে যে, "আরিহন্ত" ও অন্যান্য পরবর্তী পারমানবিক ডুবোজাহাজের জন্য ভারতীয় নাবিকেরা প্রশিক্ষণ নেবেন রাশিয়ার ডুবোজাহাজ "নেরপা" তে, যেটিকে ভারতকে লিজ দেওয়া হতে চলেছে এই বছরের শেষে. এই কথা উল্লেখ করে "রসআবারোনএক্সপোর্ট" এর প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কো বলেছেন:

    "আমরা বুঝতে পারি যে, সামরিক নৌবহর তৈরী করা সব সময়েই খুবই পরিশ্রম সাধ্য কাজ, সব সময়েই দামী, কিন্তু এই কাজই ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত ও মজবুত করতে পারে এক মহাল সামুদ্রিক ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র হিসাবে".

    ভারতের রকেট বাহী ডুবোজাহাজে যেমন "স্কাত", তেমনই "ভারশাভিয়ানকার" আকৃতি খুবই স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়া যেতে পারে. সেই সমস্ত তথ্য, যা আমাদের কাছে আছে, সে গুলি অনুযায়ী ভারতীয় জাহাজ সেই রকমেরই গঠনের হাল বা পিছনের দিকে দুটি খোল এবং সামনের দিকে দেড় টি. শক্তি উত্পাদনের ব্যবস্থাও একই রকমের: একটি রিয়্যাক্টর, একটি টারবাইন, একটি প্রপেলারের রড. "ভারশাভিয়ানকার" কাছ থেকে এই জাহাজে ধার করা হয়েছে সামনের দিকের গড়ন, যেখানে রয়েছে হাইড্রোঅ্যাকাউস্টিক অ্যান্টেনা ও ছটি টর্পেডো নিক্ষেপের যন্ত্র: এখানে ভারতীয় ডুবোজাহাজ একদম একই রকমে সোভিয়েত স্থাপত্য পুনরাবৃত্তি করেছে, এই কথা লেখা হয়েছে "ইজভেস্তিয়া" কাগজের প্রবন্ধে.

    একই সঙ্গে ডুবোজাহাজের গঠনে নতুন সংযোজনও রয়েছে. যাতে প্রধান অস্ত্র অর্থাত্ মাঝারি পাল্লার কে – ১৫ "সাগরিকা" ধরনের ব্যালিস্টিক রকেট রাখা যায় – তাই ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের দরকার পড়েছে ডুবোজাহাজের শরীরে এক বাড়তি কামরা চারটি নিক্ষেপের কূপ সমেত তৈরী করার. প্রতিটি কূপে একসাথে তিনটি কে – ১৫ ধরনের রকেট রাখা যাবে, যে গুলি ৭০০ কিলোমিটার অবধি উড়ে যেতে পারে. জাহাজের কেবিনের গড়ন ও পাল্টানো হয়েছে. উপরিল্লিখিত সোভিয়েত ডুবোজাহাজ গুলিতে যেখানে গভীরে ওঠা নামার স্টিয়ারিং থাকত জাহাজের খোলে, ভারতীয় জাহাজে কিন্তু আলাদা করে এটা রাখা হয়েছে কেবিনে.

    কিন্তু ভারতীয় জাহাজকে সোভিয়েত জাহাজের সাধারন পুনরাবৃত্তি মনে করলে ঠিক হবে না বলে মনে করেন সামরিক নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ ও "রাশিয়ার নৌবহরের জাহাজ ও নৌকা" নামের হ্যান্ড বুকের রচয়িতা আলেকজান্ডার মজগাভৈ. অবশ্যই ভারতীয়রা তাঁদের ভাল করে জানা ডিজাইন ব্যবহার করেছেন কারণ ৬৭০ নম্বর প্রকল্পের কে – ৪৩ নামের জাহাজ ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ভারতীয় নৌবহরের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল, আর দশটি "ভারশাভিয়ানকার" সাহায্যে বর্তমানে ভারতীয় ডুবোজাহাজ বাহিনীর প্রধান শক্তি তৈরী করা হয়েছে. কিন্তু নতুন জাহাজ তার কাজের লক্ষ্যে ও প্রধান অস্ত্রে খুবই ব্যতিক্রম: "আরিহন্ত" – এটা বিশেষজ্ঞের মতে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "স্ট্র্যাটেগ" নামের জাহাজের একটা নিজস্ব রূপ. তাঁর কথামতো, ভারতের এখন দরকার এমন ডুবোজাহাজ, যেখান থেকে পাকিস্তান ও চিনের এলাকায় পারমানবিক হানা দেওয়া সম্ভব হতে পারে. আর "আরিহন্ত" এই কাজের জন্য খুবই চলতে পারে বলে মনে করেন আলেকজান্ডার মজগাভৈ.