বিনিয়োগের বাজারে অবস্থার যথেষ্ট পরিশোধনের বিপদ এখনও রয়েছে, রেডিও রাশিয়ার সঙ্গে এক ব্যক্তিগত সাক্ষাত্কারে রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের উপ অর্থমন্ত্রী সের্গেই স্তরচাক এই ঘোষণা করেছেন. কিন্তু এক গুচ্ছ আবশ্যক শর্ত এই কথা বলা সম্ভব করেছে যে, নতুন অর্থনৈতিক ঝটকা এড়ানো যাবে.

    ২০০৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বিশ্বে আজ অনেকটাই. কিন্তু এক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না যে, ২০১১ সাল ২০০৮ সালের থেকে আলাদা এই কারণে যে, এখন বিশাল সংখ্যক মানুষ পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করছেন ও সঙ্কট রোধের জন্য কাজ করছেন, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই স্তরচাক বলেছেন:

    "বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা শুরু হয়েছে আগে থেকেই, এই বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার আগে থেকেই, তার পরে নয়. এটা আমাদের বলার ভিত্তি দেয় যে, সম্ভাবনা আছে নতুন অর্থনৈতিক সঙ্কটকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার. যে সমস্ত লোকেদের উপরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রণের ও সঙ্কট নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণের, তাঁরা ২০০৮ সালের থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে চেষ্টা করছেন আগে থেকেই সাবধান হয়ে খেলার. আমার মনে হয় যে, এটা তাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে. আর তাদের পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব না হলে খুবই অবাক হওয়ার ব্যাপার মতো হবে. কিন্তু যদি তাঁরা এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে তখন আমাদের সমস্ত ধরনের অর্থনৈতিক উন্নতির মডেলকেই, যা আজ রয়েছে, তা আবার করে দেখতে হবে".

    একই সঙ্গে, ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট নিয়ে বলতে গিয়ে, ভুলে গেলে চলবে না যে, সেই মডেল, যা আজ বিভিন্ন বাজারে পারস্পরিক প্রবেশ দিয়ে তৈরী হয়েছে, তা বহু কোটি মানুষকে তাঁদের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য সাহায্য করেছে. সের্গেই স্তরচাক বলেছেন:

    "২০০১ থেকে ২০০৩ সালে বিশ্বে যে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তা একেবারে সঙ্কটের পূর্ব পর্যন্ত যথেষ্ট উঁচু হারে হয়েছিল ইউরোপে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, সেই সমস্ত বাজার অর্থনীতি সদ্য তৈরী হওয়া দেশ গুলির জন্য বলা বাহুল্য হবে যে, তারা অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা করে পুষ্ট হয়েছে সেই সমস্ত বিনিয়োগের ক্ষমতা থেকে, যা এক দেশের বাজার থেকে অন্য দেশের বাজারে এসেছিল. অন্য বাজার থেকে মূলধন আকর্ষণ করার ক্ষমতা পেয়েই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চিন. গত ২০ বছরে বহু লক্ষ, বহু সহস্র লক্ষ মানুষ দারিদ্রের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পেরেছে".

    সের্গেই স্তরচাক বলেছেন যে, আধুনিক বিনিয়োগ ব্যবস্থায় প্রধান ভূমিকা নেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উচিত্. অন্য কোন কাঠামো, যা বিশ্বের সমস্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে এক জায়গায় করতে পারে, তা বাস্তবে নেই. নিজেদের পক্ষ থেকে ব্রিকসের সদস্য দেশ গুলি (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারতবর্ষ, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) প্রাথমিক লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে ভূমিকা বৃদ্ধি করাই হয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

    "দেশ গুলির উচিত্ হবে সেই সমস্ত আইন নির্ণয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে কাজ করা, যা তাদের আজ রয়েছে. ব্রিকস দেশ গুলি, অংশতঃ রাশিয়া ও চিন, নিজেরা একা কোন রকম "অর্থ জমা" করে ইউরোপকে কোন অর্থের পূঁজি দিতে পারে না. "ইউরোপ" এই ধারণা অতিবাস্তব. তা বহু সার্বভৌম ঋণ গ্রহণ কারী নিয়ে গঠিত. তাদের মধ্যে কিছু জটিলতা অনুভব করছে নিজেদের বর্তমানের ঋণ সংক্রান্ত বাধ্যতা পরিষেবা করার যোগানে. কিন্তু বেশীর ভাগ যথেষ্ট শক্ত পায়েই দাঁড়িয়ে আছে ও হয় সেই বকেয়া পুনঃ বিনিয়োগ করছে অথবা মিটিয়ে দিচ্ছে. কোন রকমের সম্মিলিত তহবিল বা ভান্ডার, কোন রকমের কিছু সাহায্য সকলকেই ও এক সঙ্গে করা যেতে পারে না. ব্রিকস স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গতি বৃদ্ধি করা. আমরা যে কোন অন্য ধরনের গঠন, দেশ গুলির মধ্যে পারস্পরিক কাজের প্রযুক্তিগত কৌশল, অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিপদের কথা ভেবে তৈরী করতে পারি. কিন্তু আসলে একমাত্র একটি যন্ত্রই বাস্তবে রয়েছে – এটা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল".

    সের্গেই স্তরচাকের কথামতো, অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই "সাহায্য" নামের ধারণা, যা আজ খুবই বেশী করে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়. সব সময়েই মনে রাখতে হবে যে, বাস্তবের বিনিয়োগ পরিস্থিতি সামনেই রয়েছে, যা নিজের মত করেই পরিবর্তিত হয়ে থাকে. ঋণ গ্রহণ কারী ও দাতা, বিশেষত, এটা যদি রাষ্ট্র হয়, সব সময়েই একে অপরের সঙ্গে চুক্তিতে আসে. আর কখনোই সার্বভৌম দেশের ক্ষেত্রে কোন রকমের সাহায্যের কথা হওয়া উচিত্ নয়.