প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিনের জায়গায় কে আসবেন? এই প্রশ্নই আপাততঃ উদ্বিগ্ন করে রেখেছে সাংবাদিক, রাজনীতিজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের. সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম করা হচ্ছে জনা দশেকের. এর মধ্যে রয়েছেন বর্তমানের স্বাস্থ্যও সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকভা, "ভ্নেশতর্গ – ২৪" ব্যাঙ্কের সভাপতি মিখাইল জাদোরনভ ও বর্তমানের উপ অর্থমন্ত্রী সের্গেই শাতালভ. আর তাও কে অর্থমন্ত্রী হবেন? – আপাততঃ প্রশ্নই রয়ে গিয়েছে.

    আলেক্সেই কুদরিনের পদত্যাগ ঘটেছে খুবই হঠাত্ করে ও দ্রুত. কিন্তু নতুন লোকের এই পদ গ্রহণ তত তাড়াতাড়ি হবে না. আর এখানে ব্যাপারটা শুধু ব্যক্তিগত গুণাবলী নিয়েই নয়, যা ছিল প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর. তিনি বহু দিন ধরেই এই মন্ত্রকের ভার সামলাচ্ছিলেন, প্রথমে প্রথম উপ প্রধান পদে, তারপরে প্রায় এগারো বছর ধরে এর প্রধান পদে, তাই তিনি জানতেন সমস্ত রকমের জলের গভীরে ও প্রকাশ্যে থাকা বাধা গুলি সম্বন্ধে, বিনিয়োগের বাজারে ছিলেন একজন বিখ্যাত ও সম্মানিত ব্যক্তি, আর তা শুধু রাশিয়াতেই নয়, তার বাইরেও. কিন্তু তাও উপযুক্ত বদলি খুঁজে পাওয়া যাবে, আর এই বিষয়ে সন্দেহ করার কোন অবকাশই থাকছে না, অন্ততঃ এই বিশাল তালিকা দেখে তা মনে হতেই পারে, এই রকম মনে করে "উন্নয়ন কেন্দ্র" তহবিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ভালেরি মিরোনভ বলেছেন:

    "বেশ কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ভাল রকমের পেশাদার লেক, কিন্তু এই পদে শুধু পেশাদার থাকলেই হবে না, বরং তাকে প্রভাবশালীও হতে হবে ও উপরের মহলে খুবই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকতে হবে. অর্থমন্ত্রীর উপরে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয় বাজেট তৈরী ও সেই অর্থ বন্টনের সময়ে, আর তাই তাকে নির্দিষ্ট ইমেজ ও ক্যারিসমা বজায় রাখতে হয়. আলেক্সেই কুদরিনের প্রাক্তন উপ প্রধানেরাও এই পদের প্রার্থী তালিকাতে রয়েছেন, যেমন সের্গেই শাতালভ. একই সঙ্গে দেখা হচ্ছে আর্কাদি দ্ভরকোভিচ কেও, যিনি রাষ্ট্রপতির সহকারী, আরও আছেন প্রাক্তন বিনিয়োগ মন্ত্রী গেরমান গ্রেফ. তাঁর প্রার্থী হওয়াটা সবচেয়ে যুক্তি সঙ্গত হতেই পারত. প্রশাসনে কাজের বিশাল অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক. কিন্তু, আমি যা বুঝতে পারি, তিনি নিজের চেয়ার পাল্টানোর জন্য খুব একটা উত্সুক হয়ে নেই. বরং আর্কাদি দ্ভরকোভিচ এই চেয়ারে কম যুক্তি সঙ্গত মনে হবে না. তিনি আপাততঃ রাষ্ট্রপতির পরামর্শ দাতা, আর দিমিত্রি মেদভেদেভ, যখন প্রধানমন্ত্রী হবেন, তখন তাঁর এই রকম একজন লোকের দরকার পড়বে, যাঁকে তিনি নিজেই চার বছর ধরে জানেন".

    বিনিয়োগ বৃত্তের বেশীর ভাগ প্রতিনিধিরাই একেবারেই মনে করেন যে, আজকের অর্থ মন্ত্রণালয় – এটা ভাল করে বাঁধা বাজনার যন্ত্রের মত. আর অর্থমন্ত্রীর পদে কোন জননেতার থাকার দরকার নেই. তার ওপরে বাজেট সম্বন্ধে সমস্ত বিগত ঘোষণা এই দপ্তরের প্রধান করেন নি, করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে. খুবই সম্ভাব্য যে, এই পদে তথাকথিত অন্তর্বর্তী কালীণ সময়ে কাউকে রাখা হতে পারে, এই কথা মনে করে "ফিনাম ম্যানেজমেন্ট" কোম্পানীর প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেকজান্ডার ওসিন বলেছেন:

    "আসন্ন বছর দুয়েক এই পদ হবে একটা প্রযুক্তিগত পদ. বর্তমানে অর্থনীতির দিক পরিবর্তন বেশী করে হচ্ছে সক্রিয় ভাবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে, কম করে দেখা হচ্ছে দীর্ঘসূত্রী ঐতিহ্য অনুযায়ী বাজেট ঘাটতির দিকে. তাই এই পদ আপাততঃ থাকবে প্রযুক্তিগত পদ হিসাবেই, অন্ততঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যন্ত, হতে পারে, বারো সাল পর্যন্ত, এমনকি ১৩ সাল পর্যন্তও. তারপরে দেখতে পাওয়া যাবে, কি ভাবে রাজনীতির পরিবর্তন হচ্ছে, যা একেবারেই অন্য ধরনের হতে পারে. এখন সরকারি খরচ বাড়ছে সাড়ে চোদ্দ শতাংশ".

এই কারণে পদ ভর্তি করার জন্য অন্তর্বর্তী কালীণ অস্থায়ী অর্থমন্ত্রী নিয়োগ করা একেবারেই কঠিন নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা. আর সেই ধরনের অস্থায়ী মন্ত্রী হিসাবে নাম করা হচ্ছে কুদরিনের সহকারী দেরই – সের্গেই স্ত্ররচাক, তাতিয়ানা নেস্তেরেঙ্কো ও সের্গেই শাতালভের.