আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস. ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা বিভিন্ন দেশের মানুষদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য এই দিবস পালনের ব্যবস্থা করেন. এই উত্সব উত্তর গোলার্ধে পর্যটনের কাল শেষ হওয়া ও দক্ষিণ গোলার্ধে শুরুর উদ্দেশ্যে নিবেদিত. এই বছর বিশ্ব পর্যটন দিবস হতে চলেছে "পর্যটন সংস্কৃতির মধ্যে মেলবন্ধন করে" এই জিগির তুলে. প্রধান উত্সব উপলক্ষে অনুষ্ঠান হতে চলেছে ইজিপ্টের আসুয়ান শহরে. বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সাধারন সম্পাদক তালেবা রিফাই বলেছেন এটা মিশরের পর্যটনকে সহায়তা করার জন্য করা হচ্ছে, যেখানে এই বছরের তিন মাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারণে দুশো কোটি ডলারেরও বেশী ক্ষতি হয়েছে.

বিশ্ব পর্যটন দিবস – এটা সকলের জন্যই উত্সব, যারা বেড়াতে ভালবাসেন. পর্যটকদের সব জায়গায় দেখা যায় বিরল স্থাপত্যের নিদর্শনের কাছে, আগ্নেয় গিরির মাঝে, দারুণ হোটেলের বারান্দায়, সমুদ্র তীরে অথবা পাহাড়ী ঝর্নার কাছে. গত বছরে বিশ্বে ৯৪ কোটি লোক বেড়াতে গিয়েছেন, যাদের মধ্যে এক কোটি কুড়ি লক্ষ রাশিয়ার লোক.

আজ পর্যটনের সঙ্গে বিশ্বের প্রায় তিরিশ রকমের শিল্প সরাসরি অথবা কাছাকাছি জড়িয়ে গড়ে উঠেছে. আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের আয় অনেকদিন আগেই লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে. রাশিয়া পর্যটনের দেশ বলে মর্যাদা নিজের ক্ষমতার জন্যই অর্জন করতে পেরেছে, বিদেশী অতিথিদের দেখানোর জন্য এখানে অনেক কিছুই রয়েছে. সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও পর্যটনের ক্ষমতায় রাশিয়ার বিশ্বের পাঁচটি নেতৃস্থানীয় দেশের মধ্যেই রয়েছে. সাধারণত বিদেশী পর্যটকরা রাশিয়াতে মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও পুরানো রুশ শহর গুলি, তথাকথিত স্বর্ণ বলয়ের জায়গা গুলিতেই আসেন. কিন্তু রাশিয়া জুড়ে সমস্ত রকমের পছন্দের জন্যই, যা আজ পর্যটন সংস্থা গুলি প্রস্তাব করতে পেরেছে, তা অনেকদিন আগেই সহস্র পার হয়ে গিয়েছে.

অনেক ট্যুর এখানে বিরল ধরনের. সেই বৈকাল হ্রদের কথাই ধরা যাক, যা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ. বিশ্বের সমস্ত কোণ থেকেই লোকে উড়ে আসেন পূর্ব সাইবেরিয়ায়, যাতে নিজের চোখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিস্টি জলের ভান্ডার দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে সারা বিশ্বের শতকরা কুড়ি শতাংশ অলবণাক্ত জল রয়েছে, সবচেয়ে বড়, গভীর, পরিস্কার আর প্রাচীনতম হ্রদ.

বিদেশের অতিথিরা যাঁরা পৃথিবীর শ্বাস প্রশ্বাস শুনতে চান, তাঁরা বেছে নেন রাশিয়ার সুদূর পূর্বের কামচাত্কা অঞ্চলের উষ্ণ প্রস্রবনের এলাকা, সেটিও ইউনেস্কোর তালিকায় রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে ক্রোনোত্স্ক রাষ্ট্রীয় জৈব পরিবেশ সংরক্ষিত অরণ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ভাইস ডিরেক্টর ভ্লাদিমির মসোলভ বলেছেন:

    "এটা খুবই বিরল প্রাকৃতিক জায়গা, যা শুধু রাশিয়াতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের. জানা আছে যে, বিশ্বের মাত্র চারটি জায়গাতেই এই ধরনের উষ্ণ প্রস্রবনের এলাকা রয়েছে".

    "পাথুরে দৈত্যকূলের এলাকারও" আলাদা করে বিদেশী ভক্ত জুটেছে, এই ভাবেই "সাইবেরিয়ার মুক্তো" নামের পূর্ব সাইবেরিয়ার ক্রাসনোইয়ারস্ক রাজ্যে রাষ্ট্রীয় সংরক্ষিত অরণ্য দেখতে আসা বিদেশী পর্যটকদের কাছে এই "পাথুরে স্তম্ভের" প্রাকৃতিক অঞ্চল একটা প্রিয় জায়গা হয়েছে. এই অঞ্চলে প্রায় একশ খাড়া পাথুরে জায়গা দেখতে পাওয়া যায়, যাদের আকৃতি নানা অদ্ভূত রকমের ও একেকটি এমনকি একশ মিটারের সমান বেশী উঁচু. উনবিংশ শতকের শেষে সেখানে থামে চড়া নামে এক ধরনের পাহাড়ে চড়ার মতো ব্যাপার শুরু হয়েছিল. সমস্ত পর্যটকরাই প্রকৃতির এই কীর্তির মানুষের উপরে যে ভাল প্রভাব ফেলে তা লক্ষ্য করেছেন: এখানে লোকে আসে ক্লান্ত হয়ে, আর যায় তাজা ও শক্তিতে ভরপুর হয়ে, এই কথা উল্লেখ করে পাহাড় চড়া ভালেরি খোয়াস্তেঙ্কো বলেছেন:

    "এই বিষয়ে নানা ধরনের ধারণা রয়েছে. কেউ বলেন, এই স্তম্ভ গুলি আসলে পিরামিড – যা থেকে শক্তি নির্গত হয়. অন্যরা বলেন – যে সেখানে জৈব ভাবে সক্রিয় এলাকা রয়েছে. এই অদ্ভূত ঘটনা কেউই ঠিক করে পরীক্ষা করে দেখেন নি. কিন্তু তা হয়".

    নিজেদের পর্যটনের প্রতীক এখন রাশিয়ার প্রতিটি অঞ্চলই বানিয়ে নিচ্ছে. রাশিয়ার উত্তরে ভোলগদা এলাকায় আবার দুটো প্রতীকী জায়গা আছে – যা বিশ্বের লোকেরা চেনে, এটা ভোলগদা অঞ্চলের ক্রুশ কাঁটা দিয়ে তৈরী জিনিসের এলাকা ও রাশিয়ার প্রধান শীত বুড়োর বাড়ী.

    বিগত কিছু সময়ে রাশিয়ার বিদেশী পর্যটকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ছিল ঘটনা উপলক্ষে পর্যটন, যেমন মস্কোর থেকে অল্প দূরে ভ্লাদিমির রাজ্যের সুজদাল শহরে শশা উত্সবে যাওয়া.