"২০১২ সালের সমস্যা", যা গত বছর ধরে রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের চিন্তা জুড়ে ছিল, তা বিগত ছুটির দিনগুলিতে মনে হচ্ছে, নিজেই একটা সমাধান খুঁজে পেয়েছে. ভ্লাদিমির পুতিনের সিদ্ধান্ত – রাষ্ট্রপতির পদে ফেরা, আর দিমিত্রি মেদভেদেভের – পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেওয়া যেমন রাশিয়ার তেমনই বিদেশের বিশেষজ্ঞদের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে. তাদের মধ্যে কিছু লোকে অবশ্যই মনে করেন যে, এখনও উত্সুক থাকার কারণ রয়েই গেল: সব কিছুই ঠিক হবে মার্চ মাসে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের পরে. তা স্বত্ত্বেও এমনকি তারাও, যারা "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের সম্মেলনের ফলকে নেতিবাচক করেই মন্তব্য করেছেন, তারা উল্লেখ করেছেন: পুতিনের রাষ্ট্রপতির আসনে প্রত্যাবর্তনের অর্থ হল, প্রাথমিক ভাবে স্থিতিশীলতা – তা যেমন দেশের ভিতরের, তেমনই পররাষ্ট্র রাজনীতিতেও স্থিতিশীলতা.

    ট্যান্ডেমের সবচেয়ে নিকট বৃত্তের লোকেদের জন্যে এই সমাধান চমকে দেওয়ার মত করেই হয়েছে. উপ প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর শুভালভ সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন যে মন্ত্রীসভাতে কেউই এই ধরনের ঘটনার পরিবর্তন সম্বন্ধে অবহিত ছিলেন না. একই সময়ে কিছু সংবাদ মাধ্যম ক্রেমলিনের প্রশাসনের উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে জানিয়েছে যে, তারা আগে থেকেই জানতেন যে: পুতিনের ক্রেমলিনে ফিরে আসার সম্বন্ধে কথাবার্তা অনেক দিন আগেই হয়েছিল, আর মেদভেদেভের দলের তালিকার প্রথমে থাকা এটা – নতুন করে তৈরী করা.

    কিছু রাজনীতিজ্ঞ জোর গলায় বলছেন যে, এই ধরনের পরিবর্তনই তাঁরা আঁচ করতে পেরেছিলেন ও রাশিয়ার রাজনীতিতে কিছুই পরিবর্তন হয় নি. অন্যরা – যাঁদের মধ্যে "রাজনীতি" তহবিলের সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ রয়েছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়ার রাজনীতির ক্ষেত্রে "নতুন করে কাঠামো তৈরীর" অপেক্ষা আছে. নিকোনভ বলেছেন:

    "অবশ্যই রাশিয়ার রাজনীতিতে নির্দিষ্ট বলার মতো মৌল লক্ষ্যনীয় ভাবে বেড়েছে. নেতৃত্বদানকারী ট্যান্ডেম সেই শক্তি নিয়ে এগিয়েছে, যা "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলকে, আমি মনে করি আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে ও তারপরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিততে সাহায্য করবে. নির্দিষ্ট করে দেওয়ার মতো মূল জিনিস ঢোকানো হয়েছে. একই সময়ে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া বিরোধী কূলে তৈরী করবে, যেখানে সমালোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে ভ্লাদিমির পুতিনকে দেখা হয়ে থাকে, আর তা পশ্চিমেও, যেখানে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথেষ্ট নিরাসক্ত ভাবেই দেখা হয়ে থাকে".

    আরও একটি বিষয়ও রয়েছে, যা- ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া দলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় ও ভ্লাদিমির পুতিনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের ফলে – দেশে প্রশাসনের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে. এক দিকে, রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ ও প্রধানমন্ত্রী পুতিন এই সম্মেলনে বলেছেন যে, মন্ত্রীসভাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে. কিন্তু তা হলেও মূল পদাধিকার লোকেদের নতুন করে আবার "বিষয়ে প্রবেশ" করতে হবে না বলে উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সেই মাকারকিন:

    "এখানে বাজী ধরা হবে সমস্ত অভিজ্ঞ, পোড় খাওয়া লোকেদের উপরেই. হতে পারে যে, কেউ হয়ত মন্ত্রীসভার প্রশাসন থেকে এসে রাষ্ট্রপতি প্রশাসনে ঢুকবেন. যখন ২০০৮ সালে পুতিন ক্রেমলিন থেকে মন্ত্রীসভায় গিয়েছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে একদল সরকারি কর্মী চে গিয়েছিলেন, যাঁরা আগে রাষ্ট্রপতি প্রশাসনে কাজ করতেন, যদিও বলা ঠিক হবে যে, মোটেও সকলেই নয়".

    একই সময়ে বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞরাই রাশিয়ার রাজনৈতিক মঞ্চে চরিত্র বদল নিয়ে আলোচনা করছেন, তা যেমন ধরে নেওয়া হয়েছে যে হবেই, তেমনই মনে করা হচ্ছে যে, এখানে আচমকা ঘটনাও ঘটতে পারে. রাশিয়ার রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন এর কথামতো, পরিস্থিতি নির্দিষ্ট হতে পেরেছে এই ক্ষেত্রেই যে মেদভেদেভ রাষ্ট্রপতি হবেন না. আর পুতিন সম্বন্ধে রাজনীতিবিদ মনে করেছেন যে, আপাততঃ সব পরিস্কার – সমস্তই ঠিক করে দেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন.