রাশিয়া দূরের মহাকাশে ফিরে আসছে. এই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কদম রাখা হতে চলেছে এই বছরের শেষে. এখানে কথা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় আন্তর্গ্রহ স্টেশন ফোবোস – গ্রুন্ত স্টেশনকে মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ থেকে পৃথিবীতে মাটির নমুনা নিয়ে আসার জন্য পাঠানোর.

    এই উপগ্রহ পাঠানোর কথা হয়েছে বৈকানুর মহাকাশ স্টেশন থেকে নভেম্বর মাসে জেনিথ রকেট পরিবাহক দিয়ে. ১১মাস ধরে মহাকাশ যান এই লাল গ্রহের কক্ষপথে পৌঁছনোর কথা. কয়েক মাস এই কক্ষপথে থেকে দূর থেকে মঙ্গল গ্রহের নিরীক্ষণ করে তার ফোবোস উপগ্রহে নামার জায়গা ঠিক করবে. তারপরে মাটিতে নামার যান সেখানে নেমে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে. এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা আশা করেছেন সৌর মন্ডলে হওয়া প্রক্রিয়া গুলি সম্বন্ধে আরও বেশী করে জানার.

    এই স্টেশনের সমস্ত যন্ত্রপাতিই একেবারে নতুন, সেগুলি রাশিয়া, বিদেশ ও যৌথভাবে নির্মিত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি দিয়ে একেবারে ঠাসা. তার মধ্যে রয়েছে – রাশিয়া ফ্রান্সের যৌথ প্রচেষ্টায় মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়াতে মিথেন গ্যাসের প্রসার পরীক্ষা করার যন্ত্র. ফোবোস এর সঙ্গে একসঙ্গে পাঠানো হচ্ছে চিনের উপগ্রহ ইনখো, যা লাল গ্রহের কক্ষপথে আন্তর্গ্রহ মহাকাশ স্টেশন থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে সেখানে চৌম্বক ক্ষেত্র নিরুপণের কাজ করবে. সুতরাং এই মিশন খুবই জটিল, উল্লেখ করেছেন রসকসমস সংস্থার প্রধানের সহকারী ভিতালি দাভিদভ, তিনি বলেছেন:

    "এক সময়ে ফোবোস পাঠানোর সময় আমরা পেছিয়ে দিয়ে ছিলাম, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই মিশন সাফল্যময় হবে. সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল. আমরা এই মিশনের ভরসা যোগ্যতা বাড়তি কিছু কাজ করার পরেই বাড়াতে পেরেছি. বর্তমানে আমাদের এই মহাকাশ যানকে উড়ান ক্ষেত্রে তৈরী করার কাজ পেছিয়ে দেওয়ার মতো কোনও কারণ নেই. বিশেষ এক দল তৈরী করা হয়েছে, যারা এই ফোবোস – গ্রুন্ত এর সমস্ত কাজ দেখছে, রসকসমস সংস্থার প্রধান প্রতি সপ্তাহে একবার এই দলের কাজের রিপোর্ট শুনে থাকেন. আমরা আশা করছি যে, মিশন সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তবায়িত করা যাবে ও চিনের উপগ্রহ, যা এই ফোবোস এর সঙ্গে একসাথে পাঠানো হবে, সেটিও নিজের কাজ করতে পারবে. এই কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকির. যদি সমস্ত সম্ভাবনা একসাথে দেখা হয়, তবে একেবারে শ্বাসরোধ হয়ে আসে".

    ফোবোস – গ্রুন্ত মিশনের পরবর্তী মিশন হতে চলেছে মার্স – নেট. যা ২০১৭ সালে বাস্তবায়িত করা হবে. পরবর্তী কালে সম্ভবতঃ লাল গ্রহের জন্য মহাকাশ যান পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের পিঠ থেকেই পাঠানো হতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে পাইলট – মহাকাশচারী রাশিয়ার রকেট নির্মাণ কোম্পানী এনার্জির প্রধান রকেট নির্মাতার সহকারী ভ্লাদিমির সলোভিয়েভ বলেছেন:

    "বিশ্বের কাছের কক্ষপথে একটা বেস তৈরী করা দরকার. সেখানে রকেট দিয়ে বড় মাপের ব্লক পাঠানো যেতে পারে. তারপরে জুড়ে, পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে. এর পরে এই ঘাঁটিতে মহাকাশচারীরা যাবে ও কক্ষপথে জোড়া মহাকাশযান পরীক্ষা করে দেখবে. তারপরে এই যান যাবে চাঁদে ও অন্যান্য অ্যাস্টেরয়েড গুলিতে. আর দূরের গ্রহ বা চাঁদে যাওয়ার আগে তৈরী করা দরকার চাঁদের কাছে যোগাযোগের স্বয়ংক্রিয় উপগ্রহ, যাদের সাহায্যে নেভিগেশন ও তথ্য পাঠানো চলতে পারে".

    শেষবারের মতো সোভিয়েত দূর মহাকাশে পাঠানো যানের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৮৭ সালে (ভেগা প্রকল্প), কিন্তু তা শেষ হয় নি মহাকাশ যানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যাওয়াতে, আর এখন প্রায় ২৫ বছর পরে, নতুন রাশিয়ার মিশন করা হচ্ছে দূর মহাকাশে রাশিয়ার অগ্রগতির একটা ভিত্তি তৈরী করার জন্য. ফোবোস – গ্রুন্ত প্রকল্পে বিশেষজ্ঞরা চাইছেন লাল গ্রহে অভিযানের প্রধান প্রযুক্তি গুলিকে পরীক্ষা করে দেখতে.