মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত্ হবে পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত সম্ভাব্য কাজ নিয়ে ভেবে দেখার, তার মধ্যে সামরিক কাজ কর্মও থাকতে পারে, এই কথা বলেছেন রবিবারে আমেরিকার এক প্রভাবশালী সেনেট সদস্য লিন্ডসি গ্রেম, যিনি সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত সেনেট পরিষদের এক অন্যতম সদস্য. ফক্স টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি পাকিস্তানকে "হাক্কানি নেটওয়ার্কের" জঙ্গীদের সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন. যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা বজায় রাখে, তাহলে আমরা বাধ্য হব সমস্ত রকমের কাজ নিয়েই ভেবে দেখতে, তার মধ্যে আমাদের সেনাবাহিনীকে রক্ষা করার কাজও থাকতে পারে বলে সেনেট সদস্য জানিয়েছেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

আমেরিকা- পাকিস্তানের সম্পর্ক বর্তমানে উত্তেজনার চরমে পৌঁছেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনীর অনুপ্রবেশের বিপদ বর্তমানের পাকিস্তানে এখন আগের চেয়ে সবচেয়ে বেশী বাস্তব. এই বিষয়ে সরাসরি ভাবে বলা হয়েছে ওয়াশিংটনে, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশকে সামরিক অপারেশন নাম দিয়ে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দপ্তর গুলির কর্তা পরিষদের সভাপতি অ্যাডমিরাল মাইকেল মাল্লেন পাকিস্তানকে দোষ দিয়েছেন প্রতিবেশী আফগানিস্তানে হিংসা পাচার করার. তিনি বলেছেন, হাক্কানি দল কাজ করছে যেন "এক সত্যিকারের বাহিনী, পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনীর প্রধান শক্তি – আন্তর্বিভাগীয় গুপ্তচর সংস্থার এক অংশের মতই". যদি পাকিস্তানের সরকার যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেয়, আমেরিকার লোকেরা নিজেরাই পাকিস্তানের এলাকায় ঢুকে পড়ে হাক্কানি দলকে ধ্বংস করতে যেতে পারে.

ইসলামাবাদ এই হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের মতো করেই উত্তর দিচ্ছে. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফর রত পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিনু রব্বানি হারকে ফিরে আসতে আদেশ দিয়েছেন. পাকিস্তানের মন্ত্রীসভার প্রধান একই সঙ্গে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের সভা ডেকেছেন ওয়াশিংটনের থেকে বিপদের আশংকার সম্বন্ধে সম্মিলিত অবস্থান নির্ণয় করার জন্য এবং রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারীকে বর্তমানের পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানিয়েছেন. পাকিস্তানের সেনা বাহিনীও পাশে দাঁড়িয়ে নেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক বিশেষ সভা দেশের সমস্ত সেনাবাহিনীর জেনেরাল দের নিয়ে পদাতিক বাহিনীর নেতা আশফাক পারভেজ কায়ানি করেছেন. পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রেহমান মালিক ঘোষণা করেছেন যে, "পাকিস্তানের জনগন কখনোই আমাদের জমিতে অন্য দেশের সৈন্যের জুতো পড়তে দেবে না. কোনদিনও না! আমাদের প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে, কিন্তু তারাও আমাদের সার্বভৌমত্ব সম্মান করতে বাধ্য".

হাক্কানি দলও ওয়াশিংটনের হুমকির বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে. পাকিস্তানের "প্রজাতি অধ্যুষিত" এলাকায় যদি মার্কিন যুক্ত সেনা নামানোর কথা ভাবে, অংশতঃ উত্তর ওয়াজিরস্থানে, তবে তাদের আফগানিস্তানের চেয়ে আরও বেশী করে ক্ষতি হবে, ঘোষণা করেছে এই দলের নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি.

আমেরিকার রাজনীতি এই অঞ্চলে সম্পূর্ণ ভাবেই ধ্বংস হতে বসেছে. আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা বাহিনী সরিয়ে নিতে গিয়ে, আমেরিকা তালিবদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করতেই পারে নি. তাদের সমস্ত চেষ্টা আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার ও শান্তি আলোচনার ব্যর্থ হয়েছে. এটা স্পষ্ট হয়েছে "হাক্কানি" জঙ্গীদের কাবুল শহরে আমেরিকার রাষ্ট্রদূতাবাস ও ন্যাটো জোটের প্রধান দপ্তর আক্রমণ করায়, এই কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেহমুদ কুরেশী বলেছেন:

"এখনই দেখা যাচ্ছে যে, আফগানিস্তানে আমেরিকা এক ব্যাকুল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছে.একই দিনে কাবুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতাবাস ও ন্যাটো জোটের প্রধান কার্যালয়ের উপরে রকেট হামলা, আফগানিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের হত্যা, যার আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী ছিল, - এটা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার প্রমাণ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের সমস্ত অসাফল্য ও হিসেবের অভাব এখন পাকিস্তানের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, আর তারই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রশাসন ও পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ও সেনা বাহিনীর সঙ্গেও হিসেব মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি"?

আর রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ইভগেনি সাতানোভস্কি তাঁর দৃষ্টিকোণ থেকে এই ভাবে বিষয়টিকে দেখেছেন. তিনি বলেছেন:

"পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি করতে পারে? অর্থ যোগান না দিতে পারে, কিন্তু তখনই পাকিস্তানের ঘাটতি মেটানোর জন্য সৌদি আরবের স্পনসর জুটে যাবে ও চিন প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকেও সাহায্য জুটবে. পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করাও সম্ভব নয়. এই দেশ কম বড় যুদ্ধ করে নি, তার মধ্যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধও রয়েছে. তাদের সেনা বাহিনী এলাকার এক অন্যতম সেরা বাহিনী. পাকিস্তানের অস্ত্র ভাণ্ডারে ১১০ টি পারমানবিক বোমা রয়েছে. আর আমেরিকার পাকিস্তানে হাত পা বাঁধা. খুবই কঠিন হবে বলা যে, যদি ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিতে তৈরীও হয়, তবে উত্তর ওয়াজিরস্থানে সামরিক অপারেশন হলে তার ফল কি হবে. আমেরিকার রাজনীতি এই অঞ্চলে এক কানা গলিতে আটকেছে".

পাকিস্তান একই সময়ে নিজেদের আফগানিস্তানের সীমান্তে ঘাঁটি গড়ে থাকা বিমান বাহিনীকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করার অবস্থায় থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে. ভারতীয় সংবাদপত্র হিন্দুস্থান টাইমস এর খবরে প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের এলাকা থেকে উত্তর ওয়াজিরস্থানের উপরে মার্কিন বিমান বাহিনীর বিমান হামলার আশঙ্কা থাকার জন্যই.