ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চেয়ে গতকাল জাতিসংঘে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার ভাষনকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা লাভের বিষয়টি আগামী সোমবার বিবেচনা করবে।এ বিষয়ে নিউইয়র্ক থেকে বিস্তারিত জানিয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি এলিজাবেথ ইসাকোভা।

সাধারণ পরিষদে ভাষন দেওয়ার জন্য মাহমুদ আব্বাস আসন ছেঁড়ে দাঁড়ালেই করতালির মধ্যদিয়ে উপস্থিত সবাই তাকে স্বাগত জানায়।প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা এ সময় নিজ নিজ আসন থেকে উঠে দাড়িয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চেয়ে জমা দেওয়া আবেদনপত্রটির একটি কপি সম্মেলনে উপস্থিত সবাইকে দেখিয়ে বলেন,‘আমি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিনিধি  কমিটির পক্ষথেকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান এবং  ফিলিস্তিনির স্বাধীনতার স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি।বিশ্বাষযোগ্যতা হারিয়ে ফেলা হচ্ছে শন্তির সবচেয়ে প্রধান শত্রু এবং হতাশা হচ্ছে আতংকবাদের মধ্যস্থতাকারী,কিন্তু আমার দেশের জনগনের অন্যান্যদের মত  স্বাধীন ও স্বার্বোভৌম দেশে বাস করার সময় এসেছে’।

মাহমুদ আব্বাসের ভাষায়, ‘বিগত বছরগুলোতে ইসরাইলের সাথে আলোচনার সব ধরনের সম্ভাবনার পথই ফিলিস্তিন ব্যাবহার করেছে।কিন্তু ওই সব চেষ্টা ইসরাইলের আগ্রাসী মনোভাবের জন্য নত্সাত হয়ে গেছে।তেলাবিবের রাজনৈতিক মতাদর্শের অভাবের কারণেই আলোচনা প্রক্রিয়ার কোন ইতিবাচক অগ্রগতি হয় নি।তবে আমরা ইসরাইলি জনগনের কাছে শান্তির হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি।আসুন,আলোচনার সেতুঁ গড়ে তুলি’ ।

এদিকে মাহমুদ আব্বাসের দেওয়া ভাষণের ১ ঘন্টার পরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুও ফিলিস্তিনের সাথে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব পাঠান। তিনি বলেন,আমরা বর্তমানে একটি দেশে একটি নির্দিষ্টি অনুষ্ঠানে এবং একই ভবনে অবস্থান করছি।সুতরাং, চলুন সাক্ষাতে মিলিত হই।আমাদের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।

 রাশিয়া শুরুতেই জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষেই রাশিয়া ভোট দিবে।রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের দেয়া বিবৃতিতে জানানো হয়,মস্কো মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্য ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন আলোচনার অগ্রগতির মধ্যে কোন বিরোধিতা দেখছে না।এদিকে মাহুমদ আব্বাসের ভাষণের সময় নিশ্চত হয়ে গেছে যে,মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া,যুক্তরাষ্ট্র,জাতিসংঘ ও ইউরোপী ইউনিয়নের সভা অনুষ্ঠিত হবে।