রাশিয়ার রাজনীতির ভারী ওজনের লোকেরা প্রাক্ নির্বাচনী সম্মেলন করছে. "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" ও "ন্যায় সঙ্গত রাশিয়া" - নিজেদের পক্ষের লোকেদের জড় করেছে মস্কো শহরে, আর কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরা – ঐতিহ্য মেনেই – মস্কো উপকণ্ঠে. এই সব সম্মেলনের লক্ষ্য – পরিকল্পনা সমর্থন, যা নিয়ে দলগুলি পার্লামেন্ট নির্বাচনে যাবে, আর প্রার্থী তালিকা তৈরী করা লোকসভার সদস্য পদের জন্য.

    প্রশাসন ও মানুষের নাগরিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা, সামাজিক রাজনীতি ও নূতন মান সংক্রান্ত নিয়মাবলী, ব্যবসা এবং রাষ্ট্রের নূতন অর্থনৈতিক উদ্যোগ ইত্যাদি নিয়ে বিতর্ক দিয়ে শুরু করা হয়েছে "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের দ্বাদশ সম্মেলন. অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা, সংবাদ মাধ্যমে এই সম্মেলন নিয়ে খবর দেওয়ার জন্য মাধ্যমের প্রতিনিধির সংখ্যা এই সবই আগের সমস্ত সম্মেলনের রেকর্ড ভেঙেছে.

    প্রধানমন্ত্রী ও "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের নেতা ভ্লাদিমির পুতিন প্রাক্ নির্বাচনী প্রার্থী তালিকা নেতৃত্ব করবেন কি না? এই প্রশ্নেরই উত্তর কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর কাছ থেকে সাংবাদিকেরা আশা করছেন. কিন্তু সম্মেলনের প্রথম দিনেও এই উত্সুক প্রতীক্ষা থেকেই গেল. তার ওপরে, "নাগরিক সমাজ: সহযোগিতা ও ন্যায়" নামের বিভাগে বক্তৃতা দিতে গিয়ে, পুতিন আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গকেই রেখে দিলেন আলোচনার বাইরে. আর তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক নয় এমন ধরনেই ব্যবসাদারদের মোটেও সমালোচনা না করে বরং অভিনন্দন বার্তায় পুষ্প বর্ষণ করলেন, তিনি বললেন:

    "গত ১০ বছরে ব্যবসাদারদের মানসিকতা একেবারেই পাল্টে গিয়েছে. আমি এই বিষয়ে কথা বলছি ভাল করে জেনে শুনেই আর দায়িত্ব নিয়েও. আমাকে সত্যই আনন্দ দিয়েছে সঙ্কটের সময়ে ব্যবসাদারদের ব্যবহার. এমন সময়ও ছিল, যখন কিছু ব্যবসায়ী এসে রাষ্ট্রের হাতে নিজেদের ব্যবসা তুলে দিতে চেয়েছিলেন. আর তা স্বত্ত্বেও আমরা অন্য পথ দিয়ে চলেছি – বেঁচে থাকতে সাহায্যই করেছি. বেশীর ভাগই, যাঁদের বলা হয়ে থাকে ব্যবসার ক্যাপ্টেন তৈরী ছিলেন নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষয় করে কারখানা ও কর্ম সংস্থান বাঁচিয়ে রাখতে".

    এই ধরনের বাস্তব প্রধানমন্ত্রীর মতে, ব্যবসার গুণগত পরিবর্তন সম্বন্ধেই বলে ও তার সমাজের প্রতি সম্পর্ক সম্বন্ধেও. তিনি একই সঙ্গে নিজের আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, সক্রিয়ভাবে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মিলিত উদ্যোগ উত্পাদনকে দেশের বাজারে টিকে থাকতে সাহায্য করবে, আর তার সঙ্গে বিশ্বের বাজারেও নিয়ে যাবে.

    এখানে কথা অবশ্যই হয়েছে, মানবাধিকার রক্ষা নিয়েও, যা প্রাথমিক ভাবে রাষ্ট্রই দিতে বাধ্য. আর তা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বা পরবর্তী স্তর বলে কোন ভাগ করা যেতে পারে না, বলে উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

    "এক ধরনের লোক আছেন, তারা প্রায়ই আমাকে কাজে অকাজে সমালোচনা করে থাকেন, যারা আবার মানবাধিকার কর্মী বলেও পরিচিত. তারা অল্পই, কিন্তু তারা, সাধারণত সেই সমস্ত সমস্যার দিকেই দেখেন, যা লোকের প্রতি দিনের জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না. কিন্তু এই সমস্যা গুলিরও সমাধান না করলে সমাজ উন্নতি করবে না, নিজেদের সম্পূর্ণ বলে মানতে পারবে না, নিজেদের প্রশাসনের সঙ্গে যোগ টেরই পাবে না".

    কে "ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া" দলের প্রাক্ নির্বাচনী প্রার্থী তালিকার শীর্ষ স্থানে থাকবেন এই বহু প্রতীক্ষিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে শনিবারে. যিনি এই তালিকায় নেতৃত্ব করবেন, তিনি পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হবেন কি না, সেই প্রশ্ন অবশ্য ধাঁধা হয়েই থাকবে. সুতরাং আগামী ডিসেম্বর মাসের সম্মেলন পর্যন্ত এই আগ্রহের বিষয় তোলাই রইল.

    "ন্যায় সঙ্গত রাশিয়া" নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে তাড়াহুড়ো করছে না. এই দলের প্রধান সের্গেই মিরোনভ শুক্রবারে নিজেদের দলের সম্মেলনে একটি ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন "ন্যায়রুশ" দলের লোকেরা প্রস্তাব করেছে অন্যান্য বিরোধী দল – রুশ প্রজাতন্ত্রের কমিউনিস্ট পার্টি, "লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক" দল ও "আপেল (ইয়াবলকা)" দলকে এক সাথে ভবিষ্যতে নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ করার, যাতে কারচুপি না হয়.

    আর কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরা এর মধ্যেই তাঁদের প্রাক্ নির্বাচনী প্রার্থী তালিকায় প্রথম দশ নেতৃস্থানীয় লোকের নাম প্রকাশ করেছেন, যদিও কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন হয়েছে রুদ্ধ দ্বার ভাবেই. তালিকার প্রথমে রয়েছেন পার্টির নেতা গেন্নাদি জ্যুগানোভ, দ্বিতীয় নম্বরে অ্যাডমিরাল ভ্লাদিমির কোমোয়েদভ. দশ জনের মধ্যে ঢুকেছেন একই সঙ্গে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর উপ সভাপতি ও নোবেল বিজয়ী ঝোরেস আলফিওরোভ ও সোভিয়েত দেশের বীর পদক দুইবার পাওয়া পাইলট ও মহাকাশচারী স্ভেত্লানা সাভিত্স্কায়া. অন্য দল গুলির কারা পার্লামেন্টের সদস্য পদ পাওয়ার জন্য লড়াই করতে নামবেন, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জানতে পারা যাবে.