বৃহস্পতিবার বিশ্বের শেয়ার বাজারে এই বছরের হেমন্তের শুরু থেকে একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পতন লক্ষ্য করা হয়েছে. শেয়ার বিশাল পরিমানে বেচা শুরু হয়েছিল প্রথমে এশিয়ার বাজার গুলিতে, তারপরে সেই ঢেউ এসেছে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও. বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে সমস্যার আশঙ্কাই এই পতনের জন্য দায়ী – অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় তহবিলের ঘোষণা, ইউরোপ থেকে পাওয়া খারাপ পরিসংখ্যাণ ও ইতালির পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে উদ্বেগ.

শেয়ার বাজারের ব্যবসাদারদের একটা প্রবচন আছে – "বাজারে রক্ত থইথই করছে". এই প্রবচনই সবচেয়ে নিখুঁত ভাবে শেয়ার বাজারের পরিস্থিতিকে বর্ণনা করতে পারে. সেখানে বর্তমানে যে মনোভাব তৈরী হয়েছে, তা আরেকটু হলেই আতঙ্কে পরিনত হতে পারে. এশিয়ার শেয়ার বাজারে শেয়ার বেচে দেওয়ার ঢেউ উঠেছে বেশী করেই – সেখানে সূচক গুলির পতনের গভীরত্ব শতকরা ৯ ভাগ হয়েছে. এর পরে বিশ্লেষকেরা বিবেচনা করছেন, এই সব বেচে দেওয়া কি বিষয় প্ররোচনা দিয়েছে. এখানে একই সঙ্গে কয়েকটি কারণ যোগ হয়েছে. প্রথমতঃ, ইউরোপে প্রকাশিত হয়েছে খুবই দুর্বল পরিসংখ্যানের তথ্য. রেটিং সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুয়োরস্ একসাথে ইতালির সাতটি ব্যাঙ্কের রেটিং ও ইতালি দেশেরই রেটিং কমিয়ে দিয়েছে. কিন্তু সবচেয়ে বড় নেতিবাচক মানসিকতার অংশ এসেছে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই. মুডিস সংস্থা বুধবারে সন্ধ্যায় আমেরিকার বৃহত্তম ব্যাঙ্ক গুলির যেমন, ওয়েলস ফার্গো, সিটি গ্রুপ ও ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার রেটিং কমিয়ে দিয়েছে. আর সব কিছু শেষ করতে মার্কিন রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় তহবিল ঘোষণা করেছে দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রকমের ঝুঁকির আশঙ্কা, এই কথা উল্লেখ করে "নর্ড ওয়েস্ট ক্যাপিটাল" ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান আন্দ্রেই কাবানভ বলেছেন:

"রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় তহবিলের সিদ্ধান্ত সেই বিষয়ে, যে পরিমানগত ভাবে নরম করার তৃতীয় অধ্যায় সোজাসুজি ভাবে শুরু না করা. বিনিয়োগ কারীরা সমস্ত বাজারেই শেয়ার কেনা বন্ধ করে নগদ অর্থেই বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন. তাই সোনা ও খনিজ তেলের দামও পড়ছে. কতদিন এই রকম চলবে, বলা কঠিন, কিন্তু এর গতি এতই শক্তিশালী যে, তা কালই শেষ হবে, তা বলা যায় না. অন্য দিক থেকে, যে কোন গতিই পেছিয়ে আসা ছাড়া হয় না, তাই, আমি মনে করি যে, দুটি শেয়ার কেনা বেচার দিন (সোমবার ও মঙ্গলবার)পার হলে পতনের গতি কিছুটা থামবে".

এশিয়া বাজার গুলির পরে রাশিয়ার শেয়ার বাজারেও নেতিবাচক মনোভাব পৌঁছেছে. মস্কো আন্তর্জাতিক বিদেশী মুদ্রা বাজারের সূচক পড়েছে শতকরা সাড়ে সাত ভাগ, আর শতকরা আট ভাগেরও বেশী হয়েছে পতন রাশিয়ার স্টক মার্কেটে. তার মধ্যে আবার শেষের টিতে সূচক মানসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্ক ১৪০০ পয়েন্টের নীচে পড়েছে ও বর্তমানে ২০১০ সালের আগষ্ট মাসের স্তরে রয়েছে. সারা দিনের মধ্যে এমনকি বেশ কয়েকবার ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে, কয়েকটি শেয়ারের দাম অনেক পড়ে যাওয়াতে. ইউরোপ ও দাঁড়িয়ে থাকতে পারে নি. প্রাচীন সভ্যতায় সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য শেয়ার গুলি শতকরা তিন থেকে পাঁচ শতাংশ হারিয়েছে.

সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই একটি ধারণায় সহমত যে, বর্তমানের পতন, তা কম বিরতি ও কিছু সংশোধন স্বত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরেই ঘটবে. বাজারের আশাব্যঞ্জক কিছু কারণ প্রয়োজন, এশিয়া, ইউরোপ বা আমেরিকার প্রশাসন এখন সেই রকম কিছু উপস্থিত করতেই পারছে না.