পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র "ফুকুসিমা – ১" এ দূর্ঘটনা সারা বিশ্বেই গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে ও পারমানবিক শক্তির উপরে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে. ভারতের হিন্দু সংবাদপত্র জানিয়েছে যে, ভারতবর্ষ পারমানবিক কেন্দ্রের জন্য ই পি আর ধরনের রিয়্যাক্টর ফরাসী আরেভা কোম্পানীর কাছ থেকে কেনার শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া স্থগিত রেখেছে, তার সার্টিফিকেশন নতুন করে না হওয়া পর্যন্ত. সংবাদপত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, ফরাসী পারমানবিক কেন্দ্র গুলির নিরাপত্তার মান আরও ভাল হওয়া দরকার. বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    "হিন্দু" সংবাদপত্রে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় সমাজে দেশের ভবিষ্যতের পারমানবিক শক্তি নিয়ে খুবই বিতর্কের সময়ে. পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করা নিয়ে প্রতিবাদের বন্যা তামিলনাডু রাজ্য অবধি পৌঁছেছে. ডিসেম্বর মাসের শেষে সেখানে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম পারমানবিক রিয়্যাক্টরটি চালু হওয়ার কথা. কিন্তু স্থানীয় জনগন, প্রাথমিক ভাবে যারা এই পারমানবিক কেন্দ্র স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছিল, তারাই এই চালু হওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন. পারমানবিক কেন্দ্রের চালু হওয়া বন্ধ রাখার চেষ্টা করে, তাঁরা নিজেদের অঞ্চলকেই অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও শুধু নতুন শক্তি ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করছে না, নতুন বিনিয়োগ, নতুন কর্মক্ষেত্র ও বড় করে দেখলে নতুন সম্ভাবনা থেকেও বঞ্চিত করছে.

    আসলে, ভারত কি পারমানবিক শক্তি ছাড়া টিকে থাকতে পারবে? এই প্রশ্ন শুধু ভারতেই করা হচ্ছে না. মস্কো শহরের জ্বালানী শক্তি ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ মনে করেন যে, ভারতের পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করতেই হবে, তিনি তাই বলেছেন:

    "এটা একটা দেশ, যারা খুবই গুরুত্ব সহকারে আগ্রহী নিজেদের শক্তির ভিত্তি বৃদ্ধিতে, আর পারমানবিক শক্তি ছাড়া আসন্ন ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যার সমাধান করা খুবই শক্ত. আমার মতে, সেই ধরনের আলোচনা, জনসমক্ষে বিতর্ক, যা আজ ভারতে শান্তিপূর্ণ ভাবে পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার বিষয়ে করা হচ্ছে, আর তার সঙ্গে পারমানবিক ক্ষেত্রে রাশিয়া- ভারতের সহযোগিতা নিয়ে হচ্ছে, তা শেষ অবধি, এই দেশে আরও নিরাপদ উত্পাদনের দিকে ঠেলে দেবে, আরও নিরাপদ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দিকেই. পারমানবিক নিরাপত্তার বিষয়ে মান আরও উঁচু করা হবে, অংশতঃ, জাপানের কিছু সময় আগে ঘটনার জন্যই".

    রাশিয়ার পারমানবিক রিয়্যাক্টর ভিভিএআর -১০০০ কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে গরম অবস্থায় পরীক্ষা সফল ভাবে পার হয়েছে, অর্থাত্ কাজ করার ক্ষমতা পরীক্ষা ও প্রকল্পের মান সংক্রান্ত পরীক্ষা পাশ হয়েছে. ভিভিএআর – ১০০০ এটি তৃতীয় প্রজন্মেরও চেয়ে বেশী গুণ সম্পন্ন রিয়্যাক্টর. ফরাসী কোম্পানী আরেভা উত্পাদিত ই পি আর রিয়্যাক্টরের চেয়ে, যা এখনও বিশ্বের কোন পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রেই কাজ করে নি, রাশিয়ার এই ভিভিএআর – ১০০০ রিয়্যাক্টর নিজের ভরসা যোগ্যতা বিভিন্ন দেশের পারমানবিক কেন্দ্রে কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছে. চিনে, যেমন রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরী তিয়ানভান পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে চিনের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন রাশিয়ার রিয়্যাক্টরকে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বলে. বর্তমানে এই পারমানবিক কেন্দ্রের প্রথম ব্লকের রিয়্যাক্টর গুলি প্রায় ৬ হাজার ৬শো কোটি কিলো ওয়াট- ঘন্টা বিদ্যুত উত্পাদন ইতিমধ্যেই করেছে, এক রকমের না থেমে কাজ করার বিশ্ব রেকর্ড. রিয়্যাক্টর ব্যবস্থার সমস্ত যন্ত্রপাতি ও তার সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবস্থা এমন জায়গায় বসানো হয়েছে, যা তার উপরে বড় মাপের বিমান পড়লেও ভাঙে না. এই প্রকল্পে আলাদা করে অনেক ঠাণ্ডা করার ও পারমানবিক বিচ্ছুরণ আটকে রাখার বন্দোবস্ত রয়েছে. এমনকি সবচেয়ে খারাপ ভাবে ঘটনার পরিবর্তন হলেও, আর তার মধ্যে শক্তি ও জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও, যা জাপানে "ফুকুসিমা" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে হয়েছিল, কোন রকমের বিপর্যয় ঘটার মতো ঘটনা রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে ঘটবে না. "নতুন রিয়্যাক্টর গুলির প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে কোন রকমের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা রাখে" – এই কথা বলা হয়েছে ৯ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভারত সরকারের কার্যকরী কমিটির রিপোর্টে, যা নতুন, আরও কঠোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম দিয়ে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য বানানো হয়েছে.

    অবশ্যই স্থানীয় জনসাধারন এই খবর নাও জানতে পারেন. কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তি গুলির সক্রিয় কর্মীরা, যারা আজ প্রতিবাদ মিছিল করাচ্ছে, তারা এটা না জেনে পারেন না. তাদের নিজেদের দলের জন্য খুবই নীচু মাপের কাজ কর্মের লক্ষ্য সাধনের জন্য, তারা সরকারের দেশের জ্বালানী সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টাকে নষ্ট করছে, ভারতের পক্ষ থেকে আন্তর্রাষ্ট্রীয় চুক্তি পালনে বাধা দিচ্ছে. তামিলনাডু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা খোলাখুলি ভাবেই লোক প্রিয় হওয়ার রাজনীতিগত অবস্থান নিয়েছেন ও কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র চালু করার বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিচ্ছেন. আর একই সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে ও ভারতের পারমানবিক শক্তি সংস্থাকে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন, যারা খুব ভাল করেই আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল আছেন, আর সব মিলিয়ে দেশের পারমানবিক শক্তির অর্থ সম্বন্ধেও.