সর্ব্বোচ্চ শান্তি সভার প্রধান বুরখানুদ্দিন রব্বানি হত্যা তালিবদের সঙ্গে আলোচনার ধারণার উপরে ও সমস্ত জাতীয় শান্তি সংহতি প্রক্রিয়ার উপরেই এক প্রবল আঘাত হয়েছে. এই ধরনের মত রেডিও রাশিয়াকে ব্যক্ত করেছেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উপ সাধারন সম্পাদক মিখাইল কনারোভস্কি.

মিখাইল কনারোভস্কি পেশাদার আফগান বিশেষজ্ঞ, প্রথম রুশ রাষ্ট্রদূত হিসাবে তালিব পরবর্তী আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন. তিনি ব্যক্তিগত ভাবে বুরখানুদ্দিন রব্বানিকে জানতেন ও বেশ কয়েকবার তাঁর সাথে দেখাও করেছেন.

"ইনি এমন এক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি, আমি যতটা তাঁকে দেখেছি ও বুঝেছি, শুধু দেশের তাজিক প্রজাতির আফগান সমাজের অংশ ও অন্যান্য প্রজাতির সংখ্যালঘু অংশের জন্যই প্রভাবশালী ছিলেন না, যদিও এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ. কিন্তু তিনি একই সঙ্গে পুস্তুন নেতাদের কাছেও মর্যাদার যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন, যা তাঁর ব্যক্তিত্বকে সারা জাতির মানেই উন্নত করেছিল".

মিখাইল কনারোভস্কি বলেছেন যে, বুরখানুদ্দিন রব্বানীর মৃত্যু, প্রসারিত ভাবে অনেক অর্থবহ ঘটনা. একজন প্রখ্যাত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন, যিনি এক সময়ে আফগানিস্তানের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ভাবে কয়েকটি অধ্যায়ে মূখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন.

প্রথমতঃ, সেই সমস্ত লক্ষ্য পূরণের জন্য, যা নিজেদের সামনে সোভিয়েত সেনা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের সময়ে আফগানিস্তানের ঐস্লামিক মোজাহেদ সংঘ ও তখনকার আফগানিস্তানের মিত্ররা রেখেছিল. এই অর্থে ১৯৯২ সালে রাষ্ট্রপতির পদে রব্বানীর নির্বাচন ছিল একেবারেই যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ.

জানা আছে যেমন, কাবুল থেকে তখনকার বিরোধীদের বিতাড়িত করে, মোজাহেদ দলের লোকেরা তারপরে আর সত্যিকারের সংহতি সাধনের কোন কারণ খুঁজে পান নি. যা পরবর্তী কালের জন্য আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছিল তালিবদের আশাতীত জয়কে. কিন্তু রব্বানি আত্মসমর্পণ করেন নি ও তাঁর সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিলেন, উত্তরের জোটের একজন নেতা হিসাবে. আর শুধু যখন তালিবদের শাসনের পতনের পরে আন্তর্জাতিক সমাজ নতুন করে আফগানিস্তান গঠনের পথ বেছেছিল, রব্বানি, তখনও আইন সঙ্গত দেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে, মর্যাদার সঙ্গে দেশের নেতার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন হামিদ কারজাই এর হাতে.

এখন কনারোভস্কির মতে, এই বড় রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু আফগানিস্তানের পরিস্থিতির পরিবর্তনে খুবই নেতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে.

"এখনও খুবই কঠিন হবে বলা যে, এই মৃত্যু কিসে পরিনত হবে. কিন্তু, দেখাই যাচ্ছে যে, জাতীয় সংহতির আন্দোলন, যা বিগত সময়ে কারজাই প্রশাসন ও তার পশ্চিমের সহযোগী দেশ গুলি নিয়েছিল, তা থেমে যেতে পারে", বলেছেন মিখাইল কনারোভস্কি. আর কাবুলের খুবই গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে কি করে বর্তমানের প্রশাসনের গঠন পাল্টাতে হবে, যাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য গুলিকে পূরণ করা সম্ভব হয়. এটা প্রাথমিক ভাবে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করা. আর তার দিকে অন্ততঃ যেতে হলেও, দরকার হবে বর্তমানের সরকারের বিরোধীদের আলোচনায় বসাতে বিশ্বাস করানো. এই কাজ আগেও ছিল খুবই জটিল. আর এখন, বুরখানুদ্দিন রব্বানীর মতো এই ধরনের বড় নেতা যাওয়ার পরে এই কাজ, মিখাইল কনারোভস্কির মতে আরও বেশী করেই কঠিন হবে.