গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ সভায় রাজনৈতিক বিতর্কের মুখ্য বিষয় ছিল নিকট-প্রাচ্যের ভবিষ্যত. উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন – প্যালেস্টাইন আন্তর্জাতিক স্তরে রাষ্ট্রের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দাবী করবার পর নিকট-প্রাচ্যের পরিস্থিতি কি হবে?

          প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতিদান গোটা নিকট-প্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে – বলেছেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি ডিলমা রুসেফ. প্যালেস্টাইন এখনো পর্যন্ত স্বাধীনতা পায়নি বলে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন. রুসেফের পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা বুঝিয়ে দিলেন, যে তিনি এ ব্যাপারে সহমত পোষন করেন না. জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করলেই নিকট-প্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসবে না – বলেন তিনি. তার ভাষায় প্যালেস্টিনীয়রা ও ইজরায়েলিরা নিজেরাই তাদের বিরোধের মুল প্রশ্নগুলির সমাধান করুকঃ সীমান্ত ও নিরাপত্তা, প্যালেস্টিনীয় উদ্বাস্তু এবং জেরুজালেম শহরের ভবিষ্যত.

      ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোলা সারকোজি তার বক্তব্যে অতটা কড়া ছিলেন না. তিনি জাতিসংঘের আওতায় প্যালেস্টাইনকে দর্শক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার এবং একবছর সময়ের মধ্যে দুই দেশের বিতর্ক মেটানোর প্রস্তাব দেন.

      এই প্রসঙ্গে স্বয়ং প্যালেস্টাইনের মতামত জানা যায়নি. রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাত্কারের পরে মাহমুদ আব্বাস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন.শুক্রবারে আব্বাস জাতিসংঘে আবেদনপত্র জমা দেবেন, কিন্তু ভোটাভুটির দিনক্ষণ এখনো নির্দ্ধারিত হয়নি.

    বরং নতুন লিবিয়াকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিদানের প্রশ্নে ঐক্যমত ছিল. অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় পরিষদের শীর্ষনেতা মুস্তাফা জালিল বুধবারে জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে লিবিয়ার নতুন নেতার ভূমিকায় বক্তৃতা দেন. আর জাতিসংঘের সদর-দপ্তরের সামনে, যেখাতে ১৯৩টি রাষ্ট্রের পতাকা ঝুলছে, সেখানে লিবিয়ার সবুজ পতাকার বদলে বিপ্লবপূর্ববর্তী রাজতান্ত্রিক পতাকা উত্তোলিত হয়েছে.

    আফ্রিকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভের মতে –

    বিশ্বের মানচিত্রে নতুন এক অস্থিতিশীল এলাকার জন্ম হচ্ছে. সেখানে সীমান্তে কোনোকরম নিয়ন্ত্রণ নেই, চোরাচালান এবং অস্ত্রপাচারের দিকে কেউ নজর দেয় না. পরিস্থিতিকে আয়ত্তে আনার জন্য বিশ্বজনসমাজকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে. নাহলে শীঘ্রই আমরা পাবো আরও একটা সোমালি, তবে অনেক বেশি বড় ভূখন্ডের.

   জাতিসংঘের সাধারণ সভার অধিবেশনের শেষে ভাষন দিয়ে মুখ্যসচিব বান কি মুন বলেন – উত্তর আফ্রিকা ও নিকট-প্রাচ্যের ঘটনাবলী আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে. আসুন ‘আরবীয় বসন্তকে’ আমরা সবার জন্য ‘সত্যিকারের আশার মরশুমে’ পরিণত হতে সাহায্য করি.

           এই আহ্বানে সাড়া দেবে সমস্ত দেশই. তবে সমস্যা হল এটাই, যে প্রত্যেক দেশের নিজ নিজ আশা এবং পরিকল্পনা.