আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আবার একবার দেশের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে – প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে, তাজিক প্রজাতির মানুষ বুরখানুদ্দিন রব্বানি কে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছে. এই রাজনৈতিক নেতা দেশের সর্ব্বোচ্চ শান্তি সভার নেতৃত্ব দিতেন ও "তালিবান" আন্দোলনের সঙ্গে শান্তি প্রয়াসে আলোচনার জন্য দায়িত্ব নিয়েছিলেন.

    রব্বানি হত্যা হয়েছে তাঁরই কাবুলের বাড়ীতে ও খুবই নিষ্ঠুর ও হিসাব করেই. তাঁকে সেই সমস্ত লোকেরা হত্যা করেছে, যাদের তিনি ভাল করেই জানতেন ও বিশ্বাস করতেন. এরা ছিল তালিবানের সবচেয়ে ভরসার দূত মোহম্মদ মাসুম ও ওয়াহিদ ইয়ার. তাদের সঙ্গে রব্বানি বহুদিন ধরেই আলোচনা করছিলেন ও তার এদের ব্যবহারে কুটিল ইচ্ছা নিয়ে সন্দেহের কোনও কারণ ছিল না.

    "তালিবান" আন্দোলনের প্রতিনিধিরা নিজেদের উপরে এই রব্বানি হত্যা কাণ্ডের দায়িত্ব নিয়ে স্বীকার করেছে যে, তারা এই হত্যার ষড়যন্ত্র ধীরে সুস্থেই করেছে. তাদের কাজ ছিল – প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ও তার চারপাশের লোকেদের ভরসা আদায় করা. এর ওপরে আবার তালিবেরা বলেছে যে, এই আক্রমণই শেষ নয় ও এই বারে তাদের দল এই স্তরের লোকেদেরই ধ্বংস করবে.

    রব্বানি হত্যার কিছু আগে তালিবেরা একদল উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীকে হত্যা করেছে. তাদের তালিকায় রয়েছে কুন্দুজ রাজ্যের রাজ্যপাল মুহামেদ ওমার, কুন্দুজ রাজ্যের পুলিশ প্রধান আবদুল রহমান সৈয়দ আলি, উত্তর আফগানিস্তানের পুলিশ প্রধান জেনেরাল দাউদ দাউদ ও রাষ্ট্রপতি কারজাই এর নিজের ভাই. আর এটা "তালিবেরা" যাদের পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করছে তাদের সম্পূর্ণ তালিকাও নয়.

    কিন্তু রব্বানীর মৃত্যুর সুদূর প্রসারিত রেশ হতে পারে. আফগানিস্তানে আবার শুরু হতে পারে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ. কারণ এই দেশে অনেকেই মনে করেন যে, তালিবদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে. রব্বানীর একজন সহকর্মী আমরুল্লা সালেখ, যিনি এক সময়ে তারই সঙ্গে তালিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, তিনি ঘোষণা করেছেন যে, "তালিবদের" সঙ্গে মিলনের সূত্র খোঁজা বা চুক্তির রাজনীতি শান্তি নিয়ে আসবে না. তা স্বত্ত্বেও রব্বানীর বহু সমর্থকই মনে করেন যে, মধ্যপন্থী তালিবদের সঙ্গে আলোচনার কৌশল চলতেই থাকবে. "রেডিও রাশিয়াকে" এই সম্পর্কে সর্ব্বোচ্চ শান্তি সভার এক উপদেষ্টা ও দেশের জাতীয় সভার সদস্যা সিদিকা বাল্খি বলেছেন:

    "রব্বানীর মৃত্যু দেশের সর্ব্বোচ্চ সভার জন্য ও সারা আফগানিস্তানের জন্যই – অপূরণীয় ক্ষতি. এখন খুবই কঠিন হবে বিচার করা যে কার প্রয়োজন ছিল এই মৃত্যুতে. দুঃখের কথা হল, আজ আমাদের দেশে বিখ্যাত লোকেদের, যাদের উপরে অনেক কিছু নির্ভর করে, তাদের হত্যা করাটা একটা স্বাভাবিক কাজে পরিনত হয়েছে. কিন্তু আমরা পরাজয় মানব না, আর আমি সম্পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গেই বলতে পারি যে, শান্তি সভা কাজ চালিয়ে যাবে, যা রব্বানীর সময়ে শুরু হয়েছিল ও আগের মতই দেশের সমস্ত সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে আলোচনার মাধ্যমেই. তার মধ্যে সেই তালিবেরাও থাকবে, যারা সশস্ত্র প্রতিপক্ষ হওয়ার ইচ্ছা ত্যাগ করবে".

    রব্বানি হত্যার পিছনে রয়েছে অশান্ত তালিবেরা. আর আপাততঃ এই ধরনের লোকেরাই বেশী. তাদের লক্ষ্য হল শান্তিপ্রিয় মানুষদের ভয় দেখানো ও নিজেদের মধ্যপন্থী সমর্থকদের সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা থেকে হঠিয়ে দেওয়া, এই রকম মনে করে রাশিয়ার প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    "এটা শুধু একটা আঘাত, যা আলোচনার ধারণার উপরেই করা হয়েছে. রব্বানি সেই ধরনের চরিত্র ছিলেন না, যাঁর কাজ এই প্রক্রিয়াতে কোন একটা ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল. তাঁকে নির্দিষ্ট করেছিলেন রাষ্ট্রপতি কারজাই. এটা বাস্তবে কারজাই এর প্রশাসনের উপরেই আঘাত করা হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার উপরেও আঘাত করা হল".

    রব্বানীর কাজকে নানা ভাবেই মূল্যায়ণ করা সম্ভব. একজন প্রফেসর ধর্ম জ্ঞানী, আশির দশকে তিনি ২০ হাজার লোকের বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে সোভিয়েত দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন. তারপরে তিনি তালিবদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন. বর্তমানে রব্বানি চাইছিলেন তালিবদের সঙ্গে সহমতে আসার, যাতে দেশে শান্তি আসে, কারণ তার আফগানিস্তানের জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কিছু সদিচ্ছা ছিল.