ব্রিকস দেশ গুলি আগামী ২৩ থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আসন্ন নেতৃত্বদানকারী সংস্থার বার্ষিক বৈঠকে এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে. ২২শে সেপ্টেম্বর প্রথমবার এই সম্মেলনের পশ্চাত্পটে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারতবর্ষ, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থমন্ত্রীরা আলোচনা করবেন. সেখানে ইউরোপকে ঋণের গাড্ডা থেকে উদ্ধারের প্রয়াস নিয়ে সম্মিলিত অবস্থান তৈরী করা হতে পারে.

    আসা করা হয়েছে যে, ব্রিকস দেশ গুলির অর্থমন্ত্রীরা ইউরোপের দেশ গুলিকে আলাদা করে অথবা সামগ্রিক ভাবে ইউরোপীয় সঙ্ঘকে সাহায্য করার সম্ভাবনা গুলি সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন. এই প্রসঙ্গে প্রাথমিক ভাবে ইচ্ছা এর মধ্যেই জানানো হয়েছে. চিন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র সভার প্রধানমন্ত্রী ভেন জিয়াবাও ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা ইউরোপকে এই অঞ্চলে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাহায্য করতে তৈরী. এটা দেশ গুলির ঋণপত্র কেনাও হতে পারে, যারা এখন ঋণের গহ্বরে আটকে পড়েছেন, এই কথা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন চিন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিষদের উপ সভাপতি চ্ঝান সিয়াও্তসিয়ান.

    রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রী আলেক্সেই কুদরিন ঘোষণা করেছেন যে, যে সমস্ত দেশ গুলির সঞ্চয় বিশাল, তারা নির্দিষ্ট শর্তে ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলিকে সাহায্য করতেই পারে. ব্রাজিলের সংবাদপত্র "ভ্যালর ইকনোমিকো" জানিয়েছে যে, ব্রিকস দেশ গুলি জার্মানী ও গ্রেট ব্রিটেনের ঋণপত্র কিনতে পারে. এই প্রসঙ্গে ব্রাজিল তৈরী আছে  ১ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত প্রস্তাব করতে. "পাঁচটি দেশ" আগ্রহী যাতে তাদের ইউরোপীয় সহকর্মী দেশ গুলি দেউলিয়া না হয়ে পড়ে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিষেবা অ্যাকাডেমীর বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার পেনকিন বলেছেন:

    "ব্রিকস দেশ গুলির সদস্যদের যুক্তি বোধগম্য. তাদের অর্থনীতি ইউরোপে রপ্তানী ও সক্রিয়ভাবে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সমাকলিত হওয়ার কাজে সংলগ্ন. আর যে কোন ধরনেরই ইউরোপের বাজারের অস্থিরতা তাদের উপরে খুবই ভারী প্রভাব ফেলে. তাই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যথেষ্ট রকমের নিজেদের ভালর জন্যেই আত্মপ্রসাদ লাভের উদ্দেশ্য নিয়ে সেবার উত্সাহ."

    চিনের রপ্তানীর উপরে বিশ্বের চাহিদার অভাব খুবই বড় মাপের আগাত করেছে. প্রসঙ্গতঃ প্রথমবার চিন থেকে নতুন জিনিসের জন্য বিদেশের বায়না অর্ধেকের বেশী কমিয়ে দেওয়া হয়েছে. এখান থেকেই চিন প্রজাতন্ত্রের নিজেদের জন্য একটি বৃহত্তম বাজারে বিনিয়োগের উত্সাহের কারণ উদ্ভব হয়েছে. অংশতঃ, ইতালির রাষ্ট্রীয় ঋণপত্রের একটি বড় অংশ কিনে নেওয়ার ইচ্ছা দিয়ে – যা ইউরো অংশের অর্থনীতিতে তৃতীয় বৃহত্তম দেশের ঋণ. তারই মধ্যে বিশ্লেষকেরা মনে করেছেন যে, সাহায্যের পরিবর্তে চিন ইউরোপীয় সঙ্ঘের কাছ থেকে দ্রুত নিজেদের অর্থনীতিকে বাজার অর্থনীতি বলে প্রমাণের স্বীকৃতী আদায় করতে চেষ্টা করবে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রিকসের পক্ষ থেকে ইউরো অঞ্চলে আলাদা করে সাহায্যের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে নিজেদের দেশের কোটা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে.

    এই প্রসঙ্গে ইউরোপ খুবই সাহায্যের আশা করেছে. আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ইনস্টিটিউট, যেখানে বিশ্বের চারশো টি বৃহত্তম ব্যাঙ্ক রয়েছে, তারা ব্রিকস দেশ গুলিকে আহ্বান করেছে গ্রীস দেশকে সাহায্য করার জন্য ২হাজার কোটি ইউরো দেওয়ার. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী টিমোথি হাইটনার ঘোষণা করেছেন যে, ব্রিকস দেশ গুলির দ্রুত ও স্থিতিশীল উন্নয়ন – আমেরিকার রপ্তানীর জন্য সবচেয়ে বৃহত্তম জয়. এই গুলি খুবই প্রতীকী বাস্তব, মনে করে আলেকজান্ডার পেনকিন বলেছেন:

    "ব্রিকস দেশ গুলি আরও বেশী করে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য প্রভাবশালী শক্তিতে পরিনত হচ্ছে. এটা উন্নত দেশ গুলির পক্ষ থেকে বিশ্ব বিনিয়োগ বাজার ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের জবাব হিসাবে কোন অন্য পথ নির্দেশ না দিতে পারার পরিপ্রেক্ষিতেই ঘটছে".

    এই কথা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে মঙ্গলবারে প্রকাশিত নতুন ভবিষ্যদ্বাণী ও বিশ্লেষণ মূলক রিপোর্টে সমর্থন করেছে. এই তহবিলের বিশেষজ্ঞরা আশা করেছেন যে, ব্রিকস এলাকায় সার্বিক জাতীয় আয়ের পরিমান হবে সর্বাধিক. নেতৃত্ব স্থানীয় বলে নাম দেওয়া হয়েছে চিনের – শতকরা ৯, ৯৫ ভাগ উন্নতি ও ভারতবর্ষ – শতকরা ৭, ৫ – ৭, ৮ শতাংশ উন্নতি বাত্সরিক হিসাবে. এই ভবিষ্যদ্বাণী গুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় এলাকার উন্নয়নের সম্ভাবনা থেকে অনেক গুণে ভাল.