রাশিয়া তৈরী আছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিষয়ে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্তে সায় দিতেই তৈরী আছে, শুধু নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অনুপ্রবেশ ছাড়া. এই বিষয়ে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার ৬৬তম অধিবেশনে ঘোষণা করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে জানিয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিকা এলিজাভেতা ইসাকোভা.

মন্ত্রী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, মস্কোতে লিবিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাওয়া হচ্ছে না ও সিরিয়ার প্রতি কোন নিষেধাজ্ঞাও বিবেচনা করা হচ্ছে না. প্রধান হল – দুই পক্ষ থেকেই হিংসা বন্ধ করা ও বর্তমানের সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করা.

সোমবার (২০শে সেপ্টেম্বর) সিরিয়ার বিষয় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিবের আলোচনার একটি প্রধান বিষয় হয়েছিল. চার ঘন্টারও বেশী সময় ধরে কূটনীতিবিদেরা শুধু দামাস্কাসের ভবিষ্যত নিয়েই আলোচনা করেন নি, বরং তার মধ্যে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র, রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদান ও রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল. এই গুলির কোন একটিতেও দুই পক্ষ সহমতে আসতে পারে নি. তার ওপরে, ওয়াশিংটনের অবস্থানের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নিকট প্রাচ্য সমস্যায় মধ্যস্থতাকারী "চার পক্ষের" (রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ) বৈঠকও স্থগিত রাখার. এই বৈঠক করতে চাওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা চলা কালীণ সময়ে. কিন্তু শেষ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছিল রাশিয়াকে প্যালেস্টাইনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার বিষয়ে ভোট দানে বিরত করার. এটা স্বাভাবিক কারণেই করা সম্ভব হয় নি, কারণ মস্কো প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বাধীন বলে স্বীকার করেছে গত শতকের ৮০র দশকের শেষে. প্রসঙ্গতঃ, রাষ্ট্র দপ্তরের কৌশল সের্গেই লাভরভকে অবাক করে নি, তিনি বলেছেন:

"আপাততঃ "চার পক্ষের" বৈঠকের পরিকল্পনা করা হচ্ছে না, কিন্তু হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে সাক্ষাত্কার আমাদের দেখিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যালেস্টাইন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা রাষ্ট্রসঙ্ঘের কোথাও করতে দিতে রাজী নয় – তা যেমন নিরাপত্তা পরিষদে নয়, তেমনই সাধারন সভাতেও. আমাদের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি যে, প্যালেস্টাইনকে এই শুক্রবারে ২৩শে সেপ্টেম্বর তাদের নেতা মাহমুদ আব্বাস ও মহাসচিব বান গী মুনের বৈঠকের সময়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার কাছে যে আবেদনের সপক্ষে তারা বলতে চেয়েছে, সেই অধিকার হরণ করা উচিত্ হবে না".

প্যালেস্তিনীয়দের হিসাব অনুযায়ী, তাদের আবেদন, সিদ্ধান্ত হিসাবে সমর্থন করতে পারে ১৪০টি দেশ, তার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য দেশ রাশিয়া ও চিনও রয়েছে. এই প্রসঙ্গে প্যালেস্তিনীয়রা বিশ্বাস করেন যে, সাধারন সবার সিদ্ধান্তের পরেও ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চলবে. এই বিষয়ে এমনকি তেল আভিভ থেকে করা কঠোর ঘোষণা যে, প্যালেস্তিনীয় জাতীয় প্রশাসনকে স্বীকার করা হলে রামাল্লার সঙ্গে আর কোন আলোচনা করা হবে না, তাও কোন বাধার সৃষ্টি করবে না.

প্যালেস্তিনীয়রা, অবশ্যই, খুবই আশা করছে মস্কোর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে তাদের আবেদন সমর্থনের, এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ প্রধান মিখাইল বগদানোভ. কিন্তু প্রধান প্রশ্ন – এর পরে কি হবে? তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল যাতে মধ্যস্থতা কারী চার দেশের কাজ বন্ধ না করা হয়.

মঙ্গলবারে আলোচনার বিষয় শুধু সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে সীমাবদ্ধ থাকে নি. খুবই উত্তেজিত বিতর্ক হয়েছে এই এলাকার আরও একটি রাষ্ট্র লিবিয়াকে নিয়ে. এই রাষ্ট্রের উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে লিবিয়া সংক্রান্ত ক্ষুদ্র শীর্ষ বৈঠকে কথা হয়েছে. নাম ক্ষুদ্র হওয়া স্বত্ত্বেও এতে যোগ দিয়েছেন একশরও বেশী উচ্চ পদস্থ অংশগ্রহণকারী, যাদের মধ্যে ৬০ জন নতুন রাষ্ট্রের গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব দিতে চেয়েছিলেন. এত বেশী লোক বলতে চেয়েছিলেন যে, তাদের মধ্যে একাংশ সময়ই করতে পারেন নি. তাদের মধ্যে রাশিয়াও ছিল, যাদের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে ছিলেন মিখাইল বগদানোভ. কিন্তু সমস্ত ইচ্ছাই পরে বিবেচনা করে দেখা হয়েছে ও সভা শেষের ঘোষণায় তার উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব.

লিবিয়ার সমস্যার আরও একটি দিক হল – অর্থনৈতিক – যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুবই ছোট আকারে. সব মিলিয়ে তিন হাজার আটশো কোটি ডলার দুই বছরের মধ্যে লিবিয়া, টিউনিশিয়া, ইজিপ্ট, মরক্কো ও জর্ডনের অর্থনীতির উন্নতির জন্য আলাদা করে দেওয়া হবে "বড় আট" দেশের পক্ষ থেকে. এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রথমে মন্ত্রী পর্যায়ে, তথাকথিত দোভিল সহযোগিতা নামের আলোচনায়, যা শুরু হয়েছিল মে মাসে. মন্ত্রীরা তাঁদের ভরসা প্রকাশ করেছেন যে, এই কাজে নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশ গুলিও সহযোগিতা করবে. সভা শেষের ঘোষণাতে "আরব বসন্তের" দেশ গুলিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কাজের জন্য নতুন পথ নির্দেশের প্রধান বিষয় গুলির উল্লেখ করা হয়েছে. তার মধ্যে – আইন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া, নাগরিক সমাজকে সহায়তা করা, আঞ্চলিক ও বিশ্ব সমাকলনে সাহায্য করা. রাশিয়া নিজের পক্ষ থেকে এর মধ্যেই বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, তার মধ্যে ইজিপ্ট ও জর্ডনের সঙ্গে বিনিয়োগ বিষয়ে সহায়তার উন্নতি রয়েছে.