উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলির ঘটনার ঘনঘটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলিতেও ঐস্লামিকদের সক্রিয় করে তুলেছে. ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো বেনো জলের প্লাবন বাংলাদেশেও ঢুকেছে. সোমবারে এই দেশের ঐস্লামিক রাজনৈতিক দল জামাত – এ – ইসলামি ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বড় শহর গুলিতে মিছিল বের করেছিল. বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই সব মিছিলের লোকেরা দাবী জানিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের জেল থেকে ছেড়ে দিতে হবে, যাদের সরকার ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে গণহত্যা ও পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে নিজেদের দেশের লোকেদের উপরে হত্যা, গণ ধর্ষণ, লুঠ, ডাকাতি এই সমস্ত ঘৃণিত কাণ্ডের অভিযোগে অবশেষে দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরে বিচারের জন্য গ্রেপ্তার করেছে. সরকারে অধিষ্ঠিত হয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী, সাধারন মানুষ ও মহিলাদের উপরে অত্যাচারের জন্য এদের ধরেছিলেন. মিছিলের লোকেরা দাবী করেছে এই সব কুত্তা রাজাকার দেরই ছেড়ে দিতে হবে. আর সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে.

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ও জাতির নেতা মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর থেকেই এই সমস্ত চরমপন্থী ঐস্লামিক দল এই দেশে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি নাম দিয়ে শাসনভার লুঠ করে নিয়েছিল. বর্তমানের এই দলের নেতা ও জামাত – এ – ইসলামি দলের নেতারা পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে. আমেরিকার উস্কানিতে আরব ও উত্তর আফ্রিকায় এই ধরনের জনতা আজ পরিস্থিতিকে বিষাক্ত করে তুলেছে, বাংলাদেশেও এই ধরনের লোকেরা এখন ক্ষমতা দখলের জন্য খালেদা জিয়া নামক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে সরকারে আসতে চাইছে. এই প্রসঙ্গে মস্কো শহরের ভারতীয় উপমহাদেশ গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ফেলিক্স অরলোভ বলেছেন:

    "আমি এখানে কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করতে চাই না, কারণ রাজনৈতিক ভাবে এই কাজ করা খুব একটা ভাল নয়, তা যেমন মহত কাজ নয়, তেমনই ফলপ্রসূও নয়. কিন্তু আমার মনে হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ঘটনা এখানে ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ, তাতে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে চরমপন্থী দলগুলিও শুরু করেছে. চিন যেমন বর্তমানে মায়ানমার দেশে ভারত বিরোধী চরমপন্থীদের একসাথে করে অস্ত্র দিয়ে ভারতে সন্ত্রাস করতে পাঠাচ্ছে, তেমনই বাংলাদেশেও এই ধরনের লোকেদের উস্কানি দিচ্ছে. ভুলে গেলে চলবে না, চিনের সিনজিয়ান প্রদেশে ঐস্লামিক চরমপন্থীরা রয়েছে ও তাদের গোপন ঘাঁটি পাকিস্তানেই. তাই বাংলাদেশ ও মায়ানমারে এই ধরনের কাজে উস্কানি দিলে আখেরে চিনেরই ক্ষতি. রাজাকাররা কখনোই বাংলাদেশের আম জনতার সহানুভূতি পাবে না. বিদেশের মানুষের তো নয়ই. আমেরিকা বর্তমানে ভারতের পক্ষে, তাই চিন নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার নীতিতেই চলছে. এই ক্ষেত্রে তারা আবারও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার প্রমাণই দিচ্ছে. বাংলাদেশে আগামী কয়েক বছরে সরকার পাল্টানোর সম্ভাবনা নেই, অন্ততঃ ২০১৩ সাল অবধি সংবিধান স্বীকৃত ভাবেই".

    এখানে কঠিন হবে বাংলাদেশে আরব বসন্তের প্রভাব অস্বীকার করা হলে – যেখানে ঐস্লামিক চরমপন্থীরা এখন সক্রিয়. তাই বাংলাদেশের কিছু লোকও নিজেদের দেশের এই নোংরা রাজনীতিকে আরব বসন্ত বলে স্বীকৃতী পেতে চাইছে. এই বছরেই এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে "আল্লা সবার উপরে" কথাটি তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে বহু দিন ধরে হরতাল ও মিছিল হয়েছিল, সরকারের তাতে কোন ব্যত্যয় হয় নি, আর হবেও না. কারণ বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র. দেশে শরিয়তের আইন চালু করা হোক বলেও বহু লোক পথে নেমেছিল, তারা চায় বহু বিবাহ ও মুখের কথায় আইন সঙ্গত স্ত্রীকে পথে ছুঁড়ে ফেলা ও নারী নির্যাতনকে স্বীকৃতী দিতে, তার উপরে মহিলা ও পুরুষের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য এই সব শারীরিক ভাবে অপুষ্ট, অশিক্ষিত ও বর্বর লোকেদের জন্য একমাত্র আত্মপ্রসাদ লাভের উপায়. তারা শিক্ষা, বিজ্ঞান, যুক্তি ইত্যাদির জায়গায় চায় চিরকাল নির্বোধ ও কাপুরুষ হয়ে থাকতে ও নানা রকমের হুজুগে মেতে উঠতে.

    ইজিপ্ট, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন ইত্যাদি দেশে ধর্মের সমস্যার থেকেও বেশী করে মানুষকে চিন্তিত করেছে অর্থনৈতিক সাম্যের অভাব, রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি, সমাজে উত্তরণের পথে অন্তরায় হয়ে থাকা ক্ষমতাসীন লোকেদের তৈরী বাধা. বাংলাদেশে এই ধরনের সমস্যা থাকলেও তা বর্তমানে কম, অথচ দেশের মানুষকে খেপিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা দেশের ভিতর ও বাহির থেকে সমানেই করা হচ্ছে. কি ধরনের রাজনৈতিক শক্তি এই বন্যার ঘোলা জলে পাক খেয়ে উপরে ভেসে উঠবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়, তবে সেই আবর্জনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় এই ধরনের চরমপন্থী মনোভাবের লোকেদের সঙ্গ পরিত্যাগ করা ও আশা রইল বাংলাদেশের আম জনতা এই ক্ষেত্রে অন্ততঃ নিষ্ক্রিয় থেকে তাঁদের বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতাকে জলাঞ্জলি দেবেন না.