রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মত বিনিময় করেছে যে, নিকট প্রাচ্য সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী চার পক্ষের উচিত্ হবে প্যালেস্টাইন – ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনাকে কানা গলি থেকে উদ্ধার করার. তার ওপরে এখন, যখন প্যালেস্টাইনের স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চল রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছ থেকে তাদের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করানোর চেষ্টা করছে. এই ঘোষণা শোনা গিয়েছে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার উদ্বোধনের আগে মার্কিন রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বৈঠকের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতিনিধির মুখ থেকেই.

    রাশিয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্র স্বীকার করার কোনও অসুবিধা নেই, এই কথা নিউইয়র্ক যাত্রার আগে সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন. রাশিয়া এই কাজ করেছে সেই ১৯৮৮ সালে. তা স্বত্ত্বেও যেমন মস্কো, তেমনই ওয়াশিংটন সহমত যে, প্যালেস্টাইন – ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনার কোনও বিকল্প নেই. বিশেষজ্ঞরা এই ধারণায় একমত যে, যদি এমনকি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভাতেও প্যালেস্টাইনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাহলেও তা হবে প্রতীকী চরিত্রের এবং সমস্যা কোথাও উধাও হয়ে যাবে না. প্যালেস্টাইনের অধিকৃত অঞ্চলে ইজরায়েলের বসতি নির্মাণ হাওয়াতে মিলিয়ে যাবে না. আর সীমান্ত সমস্যাও থেকে যাবে অমীমাংসিত. ইজরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে ১৯৬৭ সালের সীমান্তে ফিরে যেতে মনে হয় না যে, তৈরী হবে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার মস্কো রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের নিকট প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির মরোজভ বলেছেন:

    "নাথানিয়াখু সরকার বসতি নির্মাণ বন্ধ করা নিয়ে কোনও আলোচনা করতে রাজী হবে না. তাই এই বিষয়ে কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না. ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী কোন দেশ মেনে নিতে ইজরায়েল কখনোই রাজী হবে না. কারণ ইজরায়েলের স্বার্থের এলাকায় প্যালেস্টাইনের বহু জমি রয়েছে. প্রথমতঃ এখানে ইহুদী বসতি হয়েছে, যেখান থেকে ইজরায়েল কখনই নিজেদের জমিতে ফিরে যেতে চাইবে না. এই প্রশ্নে কোন রকমের স্বপ্ন দেখার দরকার নেই".

    আর এই দুটি সমস্যাই প্যালেস্টাইন – ইজরায়েলের বিরোধের জন্য মূল হতে পারে. প্যালেস্তিনীয়দের জন্য আলোচনার টেবিলে ফেরার শর্ত হবে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত মেনে নেওয়া ও অধিকৃত অঞ্চলে বসতি নির্মাণ বন্ধ করা. এই ঘটনাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গত বছরে আলোচনা আবার শুরু করাতে জল ঢেলে দিয়েছিল.

    রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দপ্তরের প্রধানদের সক্রিয়তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার ৬৬তম অধিবেশনের উদ্বোধনের পূর্বে সেই কারণেই কোনও সহমতে আসার পথ খোঁজার কাজে ব্যস্ত. লাভরভ ও ক্লিন্টন এই বিষয়ে সহমতে এসেছেন যে, প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েল আলোচনার সম্বন্ধে প্রধান নীতিতে সহমতে আসতে বাধ্য ও কোন এক পক্ষ থেকে আলাদা কিছু না করতে বাধ্য, যা সমস্ত প্রচেষ্টাকেই নিষ্ফল করতে পারে. এখানে মুখ্য ভূমিকা নিকট প্রাচ্য সমস্যার মীমাংসার কাজে মধ্যস্থ চার পক্ষের (রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাষ্ট্রসংঘ ও ইউরোপীয় সংঘ). এখন এই কাজ করা হচ্ছে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে. আর যে মুহূর্তে সহমতে কোন অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হবে, মন্ত্রী পর্যায়ে তখনই আলোচনা হবে.

    আপাততঃ মধ্যস্থ চার পক্ষের মধ্যেও সহমত নেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে. শেষের পক্ষ প্রস্তাব করেছে আলোচনার জন্য কঠোর সময় সূচী তৈরী করতে হবে ও প্যালেস্তিনীয়দের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে আবেদনকে স্থগিত রাখতে হবে. ওয়াশিংটন গত বছরের প্রচেষ্টায় বিফল হওয়ার পর থেকে কোন ধরনের সময় বেঁধে দেওয়ার বিপক্ষে. এমনকি ভবিষ্যত সহমতে আসার বিষয়েও কোনও সহমত নেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবী করেছে "ইজরায়েল – ইহুদী রাষ্ট্র" বলে মেনে নেওয়ার. ইউরোপের লোকেরা বলছে যে দুটি জাতির জন্য দুটি রাষ্ট্র হোক এমন বলা দরকার.

    স্বাভাবিক ভাবেই, এই সবই সের্গেই লাভরভ ও হিলারি ক্লিন্টনের আলোচনার সময়ে দেখা হয়েছে. আর তাঁরা সহমত হয়েছেন যে, দুই পক্ষেরই উপযুক্ত এমন পথ খোঁজার প্রয়োজন রয়েছে. শুধু এই কাজের জন্য সময় খালি কমেই যাচ্ছে. প্যালেস্টাইন আর ইজরায়েল বিগত সময়ে একে অপরের প্রতি কঠোর ঘোষণা করেই চলেছে ও একে অপরকে ছাড় দিতে রাজী নয়. প্যালেস্টাইনের নেতা মাহমুদ আব্বাস এমনকি নিউইয়র্কে ইজরায়েলের নেতা বেনিয়ামিন নাথানিয়াখু এর সঙ্গে বৈঠককেও বলেছেন অর্থহীণ, যা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন, যদি ইজরায়েলের পক্ষ থেকে উপলব্ধির উপযুক্ত কোনও পদক্ষেপ এই বৈঠকের আগে না নেওয়া হয়. এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির উচিত্ হবে সত্যই এক পাহাড় প্রমাণ শক্তি প্রয়োগের, যাতে নিকট প্রাচ্যের এই জটিল গ্রন্থিকে আলেকজান্ডার দি গ্রেটের মতো তরোয়ালের এক কোপেই কাটা যায়.