"হাক্কানি জঙ্গী সংগঠনের" নেতারা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে রাজী, যদি আফগানিস্তানের তালিবদের সর্ব্বোচ্চ নেতা মুল্লা ওমর এই কাজে রাজী হন. এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম গুলি খবর দিয়েছে এই দলের অন্যতম নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানির উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে.

    এই ধরনের খবরকে হঠাত্ই বলা যেতে পারে. "হাক্কানি সংগঠনের" নেতারা সিরাজুদ্দিন ও জালালুদ্দিন হাক্কানি সব সময়েই খুবই স্বাধীন ছিল, তারা কখনও কারও কথা শোনে নি. তাদের দল মোল্লা ওমর এর নেতৃত্বকে অংশতঃ স্বীকার করে থাকে. আর তারা যদি সত্যই শান্তি চাইত, তবে তার জন্য অন্ততঃ মোল্লা ওমরের কাছ থেকে কোন ছাড়পত্রের প্রয়োজন হত না.

    প্রাথমিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একেবারেই কোন ধরনের আলোচনা করতে চায় নি. কিন্তু কয়েক বছর আগে প্রথমে গোপনে, পরে খোলাখুলি ভাবেই এই ধরনের আলোচনা শুরু করেছে মধ্য পন্থী তালিবদের সঙ্গে, - এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

    "আমেরিকার লোকেরা আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সক্রিয় অংশের আগে তালিবদের সঙ্গে চুক্তি করার কোন রকমের প্রচেষ্টাকেই ছাড়ছে না, যাতে দেশের সামরিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভেঙে না পড়ে. এর জন্য ওয়াশিংটনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রয়োজন হয়েছে অন্ততঃ তথাকথিত মধ্যপন্থী তালিবদের সঙ্গে চুক্তির. কিন্তু এই ধরনের মধ্যপন্থী খুঁজে বার করা আফগানিস্তানের তালিবদের মধ্যে কোন সহজ কাজ নয়. আর, সত্যই, ঐস্লামিক চরমপন্থী আন্দোলনের কিছু প্রতিনিধি নিজেরাই রাষ্ট্রপতি কারজাই এর প্রশাসন ও ন্যাটো জোটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আগ্রহী হয়েছিল. কিন্তু এই ধরনের যোগাযোগ কোন ভাবেই আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে কোন পরিবর্তন করতে পারে নি. সশস্ত্র যুদ্ধ চলছেই".

তার ওপরে, শক্তি শালী আক্রমণ, যা গত সপ্তাহে জঙ্গীরা ভারদাক রাজ্যে সৈয়দাবাদ ব্লক পোস্টে করেছে, অথবা কাবুল শহরের মার্কিন রাজদূতাবাসের উপরে ও ন্যাটো জোটের কেন্দ্রীয় দপ্তর ও "টোলো" টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসের উপরে রকেট হামলা করে নিজেদের আত্ম বিশ্বাস বেড়ে যাওয়ারই প্রমাণ করেছে. এখন হাক্কানি সংগঠনের নেতারা নিজেরাই আলোচনার জন্য শর্ত দিতে চাইছে, তারা আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো জোটের বা বর্তমানের কাবুলের প্রশাসনের প্রতিনিধিদের কোন কথা শুনতে রাজী নয়. সিরাজুদ্দিন হাক্কানি তো ঘোষণাই করেছে যে, "সেই সময় গিয়েছে, যখন আমাদের যোদ্ধারা পাক আফগান সীমান্তের কাছে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হত". এখন আমরা সমতলে আফগানিস্তানের জনগনের মধ্যেই আছি. আমাদের পক্ষে – দেশের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মীরাও আছেন. এটা সত্যই তাই অথবা তা নয় - বলা কঠিন. কিন্তু হাক্কানি সংগঠনের নেতারা এই সম্বন্ধে বলছে. আর আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত খালি তাদের বেশী করে উচ্চাশা জাগিয়েছে. তালিবদের জন্য আমেরিকার সেনা বাহিনী প্রত্যাহার নিজেদের বিজয় ঘোষণার মতই হবে.

তাহলে কি করে হাক্কানি সংগঠনের নেতার ঘোষণার মূল্যায়ণ করা উচিত্ হবে যে, তারা আলোচনায় প্রস্তুত? সম্ভবতঃ এখানে ব্যাপারটা হল যে, হাক্কানি সংগঠনের নেতারা আলোচনা বা চুক্তিতে রাজী নয়, তারা নিজেদের উপরে কোন রকমের চুক্তির দায়িত্ব নিতে চায় না. তাই তারা যারা এই ধরনের আলোচনা করতে চাইছে, তাদের অর্থাত্ পাকিস্তানের মধ্যস্থ ও আমেরিকার নিজেদের প্রতিনিধিদের পাঠাচ্ছে মোল্লা ওমরের কাছে. কিন্তু এই পথের কোন বেরোনোর জায়গা নেই. মুল্লা ওমর একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, সে কোন রকমের আলোচনা আমেরিকার লোকেদের সঙ্গে করতে রাজী নয়, যতদিন না সেনা বাহিনী এই জায়গা থেকে পাকাপাকি ভাবে চলে যাবে. আর আফগানিস্তানের ভবিষ্যত মোল্লা ওমরের কাছে পরিস্কার – এটা হবে ঐস্লামিক রাষ্ট্র, আর তা চলবে শরিয়তের নীতিতেই.