রাশিয়াতে বিনিয়োগের পরিবেশ আপাততঃ আদর্শের থেকে বহু দূরে. এর পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কম শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে না. এই বিষয়ে রাশিয়া ও বিদেশের ব্যাবসাদারদের ভরসা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন. প্রসঙ্গতঃ অনেক বিশ্ব মানের কোম্পানীই রাশিয়াতে বর্তমানে ব্যবসা করার প্রভূত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে.

    বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার বিষয়ে দেশের রাজ্য ও সম্মিলিত ভাবে সারা দেশ জুড়েই কি করা হচ্ছে – তা রাশিয়ার দক্ষিণে সোচী শহরে আয়োজিত দশম বিনিয়োগ সম্মেলনে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়েছিল. রুশ প্রজাতন্ত্রে ব্যবসার পরিবেশে ঝুঁকি ও অনির্দিষ্ট আবহাওয়া এখনও খুবই বেশী রয়েছে – এই কথা উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী পুতিন. সমস্যা গুলির বিষয়ে নির্দেশ করেছে নানা ধরনের রেটিং সংস্থা. কিন্তু এই চিত্রের পরিবর্তন হবেই – তা হবে অর্থনীতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গেই. এখানে একটি প্রধান কাজ হল – বিকেন্দ্রীকরণ. দেশের নেতৃত্ব একাধিকবার বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন: শুধু অর্থনীতির আকার বিশাল করলেই হবে না, তার ফলপ্রসূতা বৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, সত্যিকারের উত্পাদন বৃদ্ধি করে ও উদ্ভাবনী উচ্চ প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে. অর্থনীতির কাঠামো ও গুণগত পরিবর্তন করাই প্রয়োজন. এই পরিবর্তনের স্ট্র্যাটেজিতে প্রধান ভিত্তি হবে ব্যবসা যারা নিজেদের জ্ঞান প্রয়োগ করে ফল দেখতে চান তারাই এই কথা উল্লেখ করে বিশ্বাস নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

    "রাশিয়াতে বুদ্ধিমান বিনিয়োগের জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থাই করা উচিত্, তা যেমন উত্পাদন, তেমনই উচ্চ প্রযুক্তি উন্নতির ক্ষেত্রেও. তাই আমাদের উচিত্ হবে সত্ ব্যবসা করার জন্য স্বাধীন প্রয়োগের জায়গা করে দেওয়া, তাদের সাহায্য করা, যারা স্পষ্ট উদ্যোগ প্রকাশ করছেন, যার অর্থ – শুধু তাত্ক্ষণিক লাভই নয়, বরং আলাদা করে শহরের, গ্রামের এমনকি সমগ্র অঞ্চলের জীবনের মান বৃদ্ধি করা. বোঝাই যাচ্ছে এই ধরনের কাজ করে লাভ করা যাবে বলেই".

    বিগত সময়ে রাশিয়াতে উন্নয়নের ইনস্টিটিউট তৈরী হয়েছে বেশ কয়েকটি. বড় প্রকল্প গুলিকে সহায়তা করার জন্য – তা যেমন রাশিয়ার, তেমনই বিদেশে থেকে আসা প্রকল্প গুলির জন্য – সৃষ্টি হয়েছে রুশ সরাসরি বিনিয়োগ তহবিল. এই কাজের জন্য এর মধ্যেই দুশো কোটি ডলার পাঠানো হয়েছে, পাঁচ বছর পরে এই তহবিলের মূলধন হবে ১ হাজার কোটি ডলার, যা আধুনিকীকরণের কাজে ব্যয় করা হবে. রপ্তানী বীমা করার জন্য সংস্থা তৈরী করা হবে. তার কাজ, প্রধানমন্ত্রীর কথায় – দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিদেশের বাজারে প্রবেশ করার বিষয়ে উচ্চাশাকে সহায়তা করা. প্রাথমিক ভাবে রাশিয়ার উচ্চ প্রযুক্তি উত্পাদন কোম্পানী গুলি এই সহায়তা পাবে.

    স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগ সংস্থাও খোলা হয়েছে. তাতে অল্প বয়সী ব্যবসা দারেরা অংশ নিয়েছেন, যারা এর মধ্যেই ব্যবসা স্থাপন করেছেন ও সামাজিক প্রকল্প গুলিতে অংশ নিচ্ছেন. এখানে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারবেন ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাগত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তাব করতে পারবেন. স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগ সংস্থার "নতুন ব্যবসা" নামের দিক নিয়ে কাজের প্রধান আরতিওম আভেতিসিয়ান বলেছেন:

    "এই সংস্থা আগ্রহের উপযুক্ত ও উদ্ভাবনী প্রকল্প গুলিকে খুঁজে ও বেছে নেওয়ার কাজ করবে ও চেষ্টা করবে সেই গুলিকে এগিয়ে দিতে. একই সঙ্গে সংস্থা সেই সমস্ত প্রশ্ন গুলি নিয়ে কাজ করবে, যা মাঝারি মাপের ব্যবসার পরিবেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজন, ব্যাবসাদারদের সম্বন্ধে মানুষের ধারণা পরিবর্তনের কাজ করবে, বলা যেতে পারে যে, এক সামগ্রিক পরিবেশই তৈরী করবে, যাতে মাঝারি মানের ব্যবসা দ্রুত উন্নতি করতে পারে, যাতে বর্তমানে মাঝারি মাপের ব্যাবসাদারদের জন্য সমস্যা জনক সমস্ত প্রশাসনিক ও ব্যবসা সংক্রান্ত বাধা দূর করা সম্ভব হয়".

    এই সংস্থার বেছে নেওয়া প্রকল্প গুলি অর্থনৈতিক সহায়তা পাবে রাশিয়ার ভ্নেশইকনমব্যাঙ্ক ও রাশিয়ার ভেনচার কোম্পানীর কাছ থেকে. এই মর্মে সোচী শহরের সম্মেলনে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে.

    রাশিয়াতে আরও বেশী করে বিশ্বমানের কোম্পানীরা আসছে. সবচেয়ে বড় ভাবে ঘোষিত হয়েছে রাশিয়ার রসনেফত্ ও আমেরিকার এক্সোন মোবিল কর্পোরেশনের মধ্যে কৃষ্ণ সাগর ও আর্কটিকে রাশিয়ার শেল্ফের খনিজ তেল ও গ্যাস নিষ্কাশনের বিষয়ে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে সহযোগিতার চুক্তি. খনিজ তেলের দানবীয় আকারের এই কোম্পানী গুলি এবার থেকে একসাথে কাজ করবে. একই ভাবে স্ট্র্যাটেজিক মনে করা যেতে পারে সাউথ স্ট্রীম টান্সপোর্ট (দক্ষিণ প্রবাহ) সংস্থার উদ্যোগীদের মধ্যে সোচী শহরে স্বাক্ষরিত চুক্তি. এখানে কথা হচ্ছে রাশিয়ার গাজপ্রম, ইতালির এনি, ফ্রান্সের ই ডি এফ ও জার্মানীর উইন্টারশ্যাল কর্পোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত "দক্ষিণ প্রবাহ" গ্যাস পাইপ লাইন বাস্তবায়ন করার চুক্তি নিয়ে. বাস্তবে, এই দলিল স্বাক্ষর করে এই সম্মিলিত উদ্যোগের পক্ষেরা গ্যারান্টি দিয়েছেন: প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে. রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ করার পাইপ লাইন তৈরীর শুরু হতে চলেছে ২০১৩ সালে. ২০১৫ সালের মধ্যে "দক্ষিণ প্রবাহের" চারটি লাইনের প্রথম টিকে খোলা হবে. ইউরোপ এই লাইন দিয়ে বছরে ১৫, ৭৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস পাবে. ২০১৮ সালে এই পাইপ লাইন দিয়ে ইউরোপে বছরে ৬৩ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস পাঠানো হবে.

    আরও একটি ইউরো এশিয়া মানের প্রকল্প হতে চলেছে উত্তর ককেশাসে সম্মিলিত ভাবে পর্যটন কেন্দ্র খোলার কাজ. শীত "অলিম্পিক ২০১৪" সালের রাজধানীতে "উত্তর ককেশাসের পর্যটন কেন্দ্র গুলির সম্মিলিত কোম্পানী" ও ফ্রান্সের সরকারি সংস্থা "কেস দ্য ডেপো অ্য কনসিগনেশঁ" এই মর্মে একটি সহমতে আসার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে.