ইউরোপের অর্থনীতি যা বিশ্বের জন্য হুঁশিয়ারি সংকেত নিয়ে আসছে।বিশেষজ্ঞরা এই ভেবে সংশয় প্রকাশ করছেন যে, ইউরোপীয়ন সরকারগুলোর  ট্রেজারি বন্ড বাজারে সঙ্কট যা একটি বিশ্ব আর্থিক সমস্যা হতে পারে।

গত শুক্রবার পোল্যান্ডের ব্রোছলাভ শহরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের অর্থমন্ত্রীরা মিলিত হয়েছেন।ওই বৈঠকে আলোচ্য বিষয়বলীর মধ্যে ছিল ইউরোপীয় এলাকার হয়ত সংস্কার এবং গ্রীসকে সাহায্য করার একটি নীতিমালা নির্ধারন করা।কিন্তু আলোচনা ঠিক ততটা ঐক্যবদ্ধভাবে অনুষ্ঠিত হয় নি।বৈঠকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী টিমোথি গাইথনার যোগ দেয়।অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য গাইথনার ইউরোপীয়ানদের শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের মডেল অনুসরন করারই আহবান জানান নি বরং সামগ্রিক অর্থে ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন।এমনটি বলছিলেন, ফিনানশিয়াল স্টাডার্ড বাংকের বিশ্লেষক রমান আন্দ্রেয়েভ।তিনি বলেন, ‘জনাব গাইথনার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় মার্কিন অভিজ্ঞতার আলোকে  ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং গ্রীসকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানান;তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে গ্রীসের প্রস্থানের পূর্বে তা করতে হবে।তথাপি তা কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না,স্বয়ং ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্র কারো জন্যই নয়’।

বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে ইউরোপে কোন ঐক্যমত দেখা যাচ্ছে না। অস্ট্রিয়ার মতামত হল এই পরিস্থিতির উত্তম সমাধান হচ্ছে গ্রীসের ডিফল্ট।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ)কমিশনের প্রেসিডেন্ট  জোজে মানুয়েল বারোসো ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে বলেছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে ইউরো বন্ড এর বিকল্প বিষয় উপস্থাপন করা হবে।এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখা।যদিও ইউরোপে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শাক্তিশালী দেশ জার্মানী

এই ইস্যুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন জার্মানির অর্থমন্ত্রী ফিলিপ রাসলের।তিনি বলেছেন, ‘বারোসো জার্মান সরকারের পক্ষ হয়ে কথা বলেন নি।তবে আমি উল্লেখ করতে চাই যে, জার্মান সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী সব জার্মান নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে যে, জার্মান সংসদের অনুমোদন ছাড়া  বিষয়টি অসম্ভব।আমার মতে,এর অর্থ হচ্ছে জার্মানিকে ছাড়াই  ইউরো বন্ড ইস্যু চালু হবে’।

একই সময় জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের স্ট্রাকচারাল সংস্কার বাস্তবায়নের দাবী জানাচ্ছে।এই প্রস্তাব যে সব দেশের ক্ষেত্রে প্রযোয্য তা হল-গ্রীস,আয়ারল্যান্ড,পর্তুগাল,স্পেন ও ইতালি।তবে হ্যাঁ,তারা কাজ শুরু করেছে। এই সপ্তাহে ইতালিয়ান সংসদ আমূল বাজেট ঘাটতি কমানোর একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। প্রশাসন পরবর্তী দুই বছরের জন্য সংরক্ষণ করার বেশকিছু আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।এছাড়া আগামী দুই বছর অবসর বয়স বাড়িয়ে,সরকারি খরচ কমিয়ে এবং সরকারি ট্যাক্স সিস্টেমের পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রায় ৫৪  বিলিয়ন ইউরো মজুদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রতিনিধি বেয়ান ছিজিয়াবাও এক বিবৃতিতে বলেছেন যে,বেইজিং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।অন্যদিকে রোম সরকারি এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে,ইতালিয়ান রাষ্ট্রীয় বন্ড বিক্রির বিষয়ে তারা বেইজিং এর সাথে ঐক্যমতে পৌঁছেছে।বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইকোনোমিকস ও ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ছিনহুয়া প্যাটরিক চাভানেক অবশ্য এই তথ্যের সতত্যা স্বীকার করেছেন।তিনি বলেছেন, ‘ইতালি তাদের রাষ্ট্রীয় বন্ড বিক্রির জন্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।যদি চীনের কথা বলা হয়,তাহলে এখানে তাদের নিজস্ব মতামতের গুরুত্ব পাচ্ছে।চীন এইভাবে ইউরোপীয়ন বাজারে একটি প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হবে এবং পরবর্তিতে নিজেদের সমস্যা সমাধানের সুযোগ পাবে।যে কোন ক্ষেত্রে বর্তমানে চীনের অফুরন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে।এখন কোথাও তা বিনিয়োগ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।তবে কেন তা এখনও করছে না?।

উপরন্তু,অনেক বিলম্ব ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।বিশিষ্ট মার্কিন অর্থনীতিবিদ জর্জ সারোস হুঁশিয়ারি সংকেত দিয়ে বলেছেন যে, বিশ্বে নতুন অর্থনৈতিক মন্দা ঘনিয়ে আসছে।কোন পুঁজি বিনিয়োগ ব্যাংকের হয়ত ভয়াবহ ধস নেমে আসতে পারে,ঠিক যেমনটি ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পতন ঘটেছিল বিখ্যাত স্টক ব্রোকার কোম্পানি লেহমান ব্রাদার্সের।