লিবিয়া আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তেল রপ্তানি শুরু করতে পারবে।লিবিয়ার ন্যাশন্যাল এ্যারাবিয়ান গলফ অয়েল কর্পোরেশনের মহাপরিচালক নুরি বেরুইন এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।লিবিয়ার নেতা মুহাম্মর গাদ্দাফির পতনের পরই নুরিকে এই তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থা (আইইএ) এই সংবাদকে স্বাগত জানিয়েছে।আইইএ মনে করছে যে,লিবিয়া থেকে তেল রপ্তানিতে এখন বড় ধরনের কোন সমস্যা নেই।রাশিয়ার জ্বালানী নিরাপত্তা তহবিলের পর্যবেক্ষক আলেকসান্দার পাসেচিনকা বলেছেন যে,তেল বাজারে লিবিয়ার ফিরে আসা তা অবশ্যই ইতিবাচক কিন্তু তা বিপ্লবী কোন ঘটনা নয়।তিনি বলেন, ‘তেল রপ্তানীর বাজারে লিবিয়ার ফিরে আসা তেমন ঐতিহাসিক কোন ঘটনা নয় ঠিক যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে।ধীরে ধীরে পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন হবে।তবে তেল উত্তলন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৬ মাস সময় লাগবে’ ।

লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে দেশটি বিশ্বে তেল রপ্তানীকারক শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকায় স্থান ছিল।লিবিয়ার তেল রপ্তানীর শতকরা ৮০ ভাগ সরবরাহ করা হত ইউরোপের ইতালি ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে।এছাড়া চীন ছিল লিবিয়ার তেলের নিয়মিত ক্রেতা।তবে ‘ওপেক’ ও ‘আইইএ’ এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, লিবিয়ার তেল উত্তলন কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় প্রতিদিন ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাতে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগবে।এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা উদাহরণ দিয়ে বলেন যে,অনুরুপভাবে ইরাকের লেগেছিল ৪ বছর আর ইরানে ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্ববের  পর তেল উত্তলন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ৩০ বছর সময় লেগেছিল।

লিবিয়ার নতুন প্রশাসন তেল উত্তলন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করবে।লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের(টিএনসি) নেতা মুস্তাফা আবদেল জালিল এক বিবৃতিতে বলেছেন,তেল রপ্তানী নিয়ে লিবিয়ার সাথে বিভিন্ন দেশের চুক্তি বহাল থাকবে এবং এর নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব পালন করবে টিএনসি।তাছাড়া ত্রিপলি জানিয়েছে যে,এক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীনের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হবে।এই দুইটি দেশই লিবিয়ায় ন্যাটোর বিমান হামলাকে শুরু থেকেই বিরোধীতা জানায়।এমনটি বলছিলেন আলেকসান্দার পাসেচিনকা।তিনি বলেন, ‘ধারনা করছি যে, সবকিছুই পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।লিবিয়ায় কাজ করা রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পূর্বের ন্যায় সেখানে কাজ শুরু করবে।এটি সম্ভব হবে শুধুমাত্র লিবিয়ার নতুন প্রশাসনের রাশিয়ার সাথে দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরই’ ।

বর্তমানে রাশিয়া সরকার লিবিয়ার সাথে তেল-গ্যাস সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে।লিবিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।একই সাথে যেসব কারণে লিবিয়া রাশিয়ার সাথে তেল-গ্যাস সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে চাইবে সেই সব দিকও চিন্তাভাবনা চলছে।তবে আশার কথাও রয়েছে।রাশিয়ার কোম্পানীগুলোর সাথে নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে টিএনসি’র একটি প্রতিনিধি দল মস্কো আসবে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার ‘গ্যাসপ্রোম’ ও ইতালির ‘এ্যনি’ কোম্পানী লিবিয়ার স্থানীয় ‘এ্যলিফ্যান্ট’ কোম্পানীকে গ্যাস ভর্তূকিতে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশে একটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছে।এই প্রকল্পের আওতায় রাশিয়া এ্যানি কোম্পানী থেকে অর্ধেক ভর্তূতি পাবে।