রাশিয়ার সইউজ মহাকাশ যান আগে থেকে নির্ধারিত কাজাখস্থানের মাঠে নেমেছে. পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন রুশ মহাকাশচারী আন্দ্রেই বরিসেঙ্কো, আলেকজান্ডার সামোকুতিয়ায়েভ ও মার্কিন অ্যাস্ট্রোনট রোনাল্ড গেরান – যাঁরা ২৮তম মহাকাশ অভিযানের যাত্রী ছিলেন ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ছয় মাসের কিছু বেশী সময় ধরে কাজ করেছেন. এখন কক্ষপথে রয়েছেন তিনজনের সংক্ষিপ্ত মূল দল: এটা নাসা থেকে মাইকেল ফোস্সাম, রাশিয়ার সের্গেই ভোলকভ ও জাপানের সাতোসী ফুরুকাওয়া. খুব শীঘ্রই তাঁদের দলে লোক বাড়বে, কারণ ১৪ই নভেম্বর পরিকল্পনা রয়েছে দুইজন রুশ মহাকাশচারী ও একজন মার্কিন কে নিয়ে নতুন সইউজ মহাকাশ যানের যাত্রার. তার আগে ৩০শে অক্টোবর মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে পরিবহনের যান প্রোগ্রেস রওয়ানা হবে.

    আগামী বছর গুলিতে রাশিয়ার মহাকাশ যানগুলিই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার জন্য একমাত্র যান হবে. যদিও কিছু দিন আগেও ঠিক ছিল না, কখন এই যাত্রা আবার করে শুরু হবে. ২৪শে আগষ্টের পরে এই পরিস্থিতি হয়েছে, কারণ মালবাহী প্রোগ্রেস মহাকাশ যান তৃতীয় দফার ইঞ্জিনে গোলযোগের ফলে উড়ান শুরু ছয় মিনিটের মাথায় আলতাই রাজ্যের উপরে ভেঙে পড়েছিল. তারপর থেকেই সমস্ত রকমের সইউজ ও প্রোগ্রেস পাঠানো বন্ধ ছিল, কারণ দুটি যানেই একই ধরনের রকেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে. প্রাথমিক ভাবে সইউজ মহাকাশ যানের ওড়ার কথা ছিল ২২শে সেপ্টেম্বর.

    এই রকম ভাবে অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত রকেট পাঠানো বন্ধ করা সম্ভব হয় নি, যদি নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রী পাঠানো সম্ভব না হয়, তবে কক্ষপথ থেকে সমস্ত লোককেই ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হতে পারে ও গত দশ বছরের মধ্যে প্রথমবার স্টেশন জন শূণ্য থাকবে ও পাইলট বিহীণ ভাবে উড়তে থাকবে.

    নাসার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ফাঁকা মহাকাশ স্টেশনে বিপদ আছে বায়ু শূণ্য হওয়ার ও ঠাণ্ডা করার যন্ত্র খারাপ হওয়ার, কারণ আগেও এই যন্ত্রের পাম্প খারাপ হয়ে গিয়েছিল. যদিও সোভিয়েত "স্যালিউট" মহাকাশ স্টেশনের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে উল্টোটাই মহাকাশ যাত্রীরা অনেক দিনের জন্যই স্টেশন ছেড়ে চলে গিয়েছেন ও সেই যানের কিছুই হয় নি. মীর মহাকাশ স্টেশনের ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছিল সর্বদা মানুষের উপস্থিতি.

    অক্সিজেনের সঞ্চয়, খাবার দাবার ও জল এই স্টেশনে বহু মালের জন্যই রয়েছে. কিন্তু এই মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে জোড়া থাকা নেমে আসার একটি সইউজ মহাকাশ যানের গ্যারান্টির সময় শেষ হতে চলেছে. তার থামার ব্যবস্থা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দিয়ে কাজ করে ও তা অনেক সময়ে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে না ও বিভিন্ন যৌগে ভেঙে পরিনত হয়ে থাকে. যদি থামার ব্যবস্থায় কোন রকমের গণ্ডগোল দেখা যায়, তবে মহাকাশ থেকে ফেরার পথে মহাকাশচারীদের সময় বেড়ে কয়েকদিন হতে পারে ও তখন শ্বাস কষ্টে মহাকাশচারীরা মারা যেতেও পারেন, কারণ সেখানে অক্সিজেনের সঞ্চয় কম.

    সরকারি পরিষদ প্রোগ্রেস মহাকাশ যানের ভেঙে পড়ার কারণ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে, সেই যানের টার্বোপাম্প সিস্টেমে ময়লা থাকার কারণে তা জ্বলে গিয়েছিল. সমস্ত একই ধরনের রকেট পরীক্ষা করে দেখা হবে, এই কাজের জন্য দুটি মহাকাশ যানকে আবার ফরাসী গায়ানার কুরু মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে.

    যদি এই ধরনের দূর্ঘটনা প্রোগ্রেসের সঙ্গে না হয়ে পাইলট চালিত মহাকাশযানের সঙ্গে হয়, তবে এক ব্যবস্থা আপনা থেকেই কাজ করে, যাতে উড়ানের যে কোন সময়ে যাত্রীদের বাঁচানো সম্ভব হয়. মালবাহী যানে এই ধরনের ব্যবস্থা লাগানো হয় না, এই কথা বলে মহাকাশ বিজ্ঞানের খবর জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর মারিনিন বলেছেন:

    "আমাদের দেশে পাইলট চালিত মহাকাশ যানে দুইবার এই ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে ছিল. ১৯৭৫ সালে তৃতীয় স্তরে, তখন দূর্ঘটনা ত্রাণের ব্যবস্থা কাজ করেছিল, মাথার অংশ আলাদা হয়ে গিয়েছিল ও সেটি ২২ গুণ বেশী মাধ্যাকর্ষণ শক্তির চাপের মধ্যে থেকেও ব্যালিস্টিক রকেটের মতো আলতাই রাজ্যের পাহাড়ে এসে প্যারাশ্যুট দিয়ে নেমেছিল. দ্বিতীয়বার ১৯৮৩ সালে উড়ানের মঞ্চে আগুণ ধরে যাওয়াতে এই ব্যবস্থা মহাকাশচারীদের নিয়ে মঞ্চ থেকে চার কিলোমিটার দূরে উড়ে গিয়ে নেমেছিল".

    মনে হয় এই বারে মহাকাশচারীদের নেমে আসার পর থেকে আবার মহাকাশ স্টেশনের কাজ স্বাভাবিক হবে: একটি দল পৃথিবীতে ফিরে এসেছে, অন্যটি যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে. বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় যে, ৩০ শে অক্টোবর ও ১৪ই নভেম্বরের উড়ান সফল হবে ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সব সময়েই মানুষ থাকবে.