শুক্রবারে ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়া সংক্রান্ত নূতন সিদ্ধান্তের প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে. তারা লিবিয়ার উপর থেকে সেই দেশের সঞ্চিত অর্থ ফিরিয়ে নেওয়ার উপরে বাধা নিষেধ প্রত্যাহার করতে, সেখানে অস্ত্র সরবরাহ শুরু করতে ও সেই দেশের উপর থেকে উড়ান বিহীণ এলাকা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছে. এই বিষয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজি ও গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বৃহস্পতিবারে লিবিয়া সফরের পরে ঘোষণা করেছেন.

    গতকাল রাশিয়া লিবিয়ার উপর থেকে উড়ান বিহীণ এলাকা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলেছে. পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে এই বিষয়টিকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনার অধীনে আনতে চেয়েছে. মস্কো একই সঙ্গে লিবিয়াতে হাল্কা রাইফেল সরবরাহের কথা বলেছে, যা দিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কর্মী, কূটনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গুলির লোকেদের নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে.প্যারিস ও লন্ডন অবশ্য কেন অস্ত্র সরবরাহ চালু করতে চেয়েছে, তা আপাততঃ স্পষ্ট নয়. এখানে মস্কো ও চিনের অবস্থানের সঙ্গে তাদের অবস্থানের যে বিরোধ বাঁধতে পারে, তার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না. এই দুই রাজধানীর নেতৃত্ব উদ্বিগ্ন যে, গাদ্দাফির ভাণ্ডারের অস্ত্র বাস্তবে নির্বিবাদে "আল- কায়দা ও মাগ্রিবের দেশের" জঙ্গীদের হাতে পড়ে থাকতে পারে.

    শুধুশুধুই গতকাল ত্রিপোলি ও বেনগাজি শহরে গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতাদের আসার কারণে অভূতপূর্ব ভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয় নি. তাঁরা পশ্চিমের নেতাদের মধ্যে প্রথম লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে গিয়েছেন. তাদের সফর – যেমন রাজনৈতিক ও মানসিক সমর্থনের প্রমাণ হয়েছে অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের জন্য. কারণ তারা এখনও সারা দেশের নিয়ন্ত্রণ করছে না, কিন্তু আগামী সপ্তাহেই লিবিয়াকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় উপস্থাপন করতে চায়. প্যারিস ও লন্ডনের নিজেদের তরফ থেকেই প্রয়োজন অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের নিঃশর্ত আনুগত্য, এই কথা মনে করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

    "কর্নেল গাদ্দাফিকে ধ্বংস করার বিষয়ে উদ্যোগ এই ব্রিটেন আর ফ্রান্সই নিয়েছিল. তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়েছিল, যার মাধ্যমে ন্যাটো জোটের নামে সারা লিবিয়াতে কার্পেট বোমা বর্ষণ করতে পেরেছে. আর এখন তাদের প্রয়োজন এই দেশে নিজেদের জায়গা দখল করার. লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পরিকাঠামো, সমস্ত অর্থনৈতিক উত্পাদনের জায়গাকে আবার করে তৈরী করতে হবে. ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন এই কাজও শুধু নিজেদেরই হাতে রাখতে চায়, তার ওপরে লিবিয়া এই কাজের জন্য গাদ্দাফির জমানো অর্থ ও নিজেদের খনিজ তেল দিয়ে দাম দিতেই থাকবে বহুকাল".

    ত্রিপোলি শহরে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে নিকোল্যা সারকোজি অবশ্য অস্বীকার করেছেন যে, জোটের দেশ গুলি গাদ্দাফির উপরে বিজয় করিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের জন্য লিবিয়ার কাছ থেকে কোন সুবিধা বা ছাড় চাইছে, তিনি বলেছেন এটা সর্বৈব মিথ্যা. অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের লোকেরাও ঘোষণা করেছেন যে, তারা লন্ডন বা প্যারিসের সঙ্গে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জয়ের জন্য কোনও বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করেন নি বলে. এর মধ্যেই গতকাল ইউরো পার্লামেন্টে গ্রেট ব্রিটেন থেকে যাওয়া নির্দল সদস্য অ্যান্ড্রু ব্রন্স লন্ডনের খনিজ তেলের কারবারী কোম্পানী ভিটল ও অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে একশো কোটি ডলারে গোপন চুক্তির বিষয় ফাঁস করে দিয়েছেন. এই সদস্য ঘৃণা প্রকাশ করে বলেছেন যে, "বিরোধী পক্ষের জঙ্গীদের সাহায্য করার বিষয়ে, পশ্চিমের ধান্ধা বুঝতে স্বৈরতন্ত্রী গাদ্দাফির পক্ষ নিতে হয় না".

    "বিজয়ীদের সফরের" সময়ে লিবিয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, প্যারিস ও লন্ডন লিবিয়ার তহবিল থেকে টাকা দেওয়া চালিয়ে যাবে. এতেই তাদের পক্ষ থেকে সাহায্য শেষ হবে বলে মনে করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ কূটনৈতিক একাডেমীর প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন, তিনি বলেছেন:

    "ফ্রান্স বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার পরিস্থিতিতে রয়েছে. গ্রেট ব্রিটেন নিজেও অর্থনৈতিক ভাবে কঠিন অবস্থার মধ্যে. তাই আমি লিবিয়াতে আভ্যন্তরীণ শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে এই দুই দেশের ভূমিকাকে বাড়িয়ে দেখতে চাই না. আমি মনে করি যে, লিবিয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির বিষয়ে বেশী অর্থবহ হতে পারে চিন, জার্মানী ও ইজিপ্টের অবস্থান".

0    বৃহস্পতিবারে ইজিপ্টের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মুহাম্মদ কামেল আমর ও শ্রম মন্ত্রী আহমেদ এল- বরাই ত্রিপোলিতে এই দেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন. এটা গাদ্দাফি প্রশাসনের পতনের পরে আরব দেশ গুলির থেকে লিবিয়াতে প্রথম প্রতিনিধি দলের সফর. আজ সেখানে যাচ্ছেন তুরস্কের প্রধান মন্ত্রী তৈপ এরদোগান. আঙ্কারা নিজেকে এই এলাকার নতুন শক্তি কেন্দ্র বলে মনে করেছে, আর এটাও বাদ দেওয়া যায় না যে, ন্যাটো জোটের বোমা ফেলা শেষ হলে, তারা লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে উদ্যোগ নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে.