আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিরা সোচিতে অলিম্পিকের জন্য নির্মাণকার্যে অগ্রগতি লক্ষ্য করেছেন. সোচিতে তার আরও একটি সফর শেষ করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সমন্বয় কমিটির সভাপতি জ্যাঁ-ক্লদ কিল্লি বলেছেন, যে বেশ কয়েকটি নির্মীয়মান ক্রীড়াকেন্দ্রে আগামী শীতকালেই পরীক্ষামুলকভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে.

     ২০১৪ সালের সোচি শীত-অলিম্পিকের জন্য ১৩টি বড় ক্রীড়াকেন্দ্র, ৪টি পাহাড়ী প্রমোদভ্রমণ এলাকা এবং ১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘের রাস্তা বানানো হচ্ছে. গোটা অলিম্পিকের নির্মাণকার্য সমুদ্র উপকূলবর্তী এবং পাহাড়ী বিভাগে ভাগ করা হয়েছে. সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় অলিম্পিক পার্ক এবং ৬টি ক্রীড়াকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে. সব কটি কেন্দ্রই নজিরবিহীন. আইস হকির জন্য একই ছাদের তলায় একটি মুল স্টেডিয়াম ও আরও একটি অনুশীলন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে. দুনিয়ায় কোথাও এমনটি নেই. নির্মাণকার্যের প্রধান মারাত আখমাদিয়েভ বলছেন, যে এটা বিশ্বে একমাত্র ছাদঢাকা ক্রীড়াকেন্দ্র, যার আয়তন ৩০ হাজার বর্গ মিটার.

     এখন কেন্দ্রটির সম্মুখভাগ ও ছাদের নির্মাণকার্য পরিচালিত হচ্ছে. ছাদটা হবে দূরদর্শনের পর্দার মতো, যেখানে ৪০ হাজার বাতি জ্বলবে, আর রাতের অন্ধকারে ছাদটা কম্পিউটার গ্রাফিকের মাধ্যমে আলোকিত হবে.

     প্রধান আইস স্টেডিয়ামের নির্মাণকার্য সময়মতোই শেষ হবে, ২০১২ সালের জুন মাসে. অলিম্পিক চলাকালীন স্টেডিয়ামটিকে প্রতিযোগিতার জন্য ও প্রমোদমুলক অনুষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হবে. ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে স্থপতিরা ফিগার স্কেটিং ও শর্ট ট্র্যাকের স্টেডিয়ামের নির্মাণকার্য শেষ করবে. অভূতপূর্ব ছাদ সহ এই ক্রীড়াকেন্দ্রটি হবে অনন্যসাধারণ.

       ছাদটার বিশেষত্ব হবে এই, যে তাকে গুটিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যাবে. সেতুর মতোই ছাদটি নাটবল্টু দিয়ে বানানো হচ্ছে.

       আরও একটা নজিরবিহীন ক্রীড়াকেন্দ্র হল ছাদওয়ালা স্কেটিং স্টেডিয়াম. সেখানকার নির্মাণকার্যের প্রধান আনাতোলি অর্লোভ বলছেন, যে পৃথিবীর কোথাও এর আগে সাব ট্রপিক্যাল অঞ্চলে এমন স্টেডিয়াম বানানো হয়নি.

       তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সমন্বয় কমিটির সভাপতি জ্যাঁ-ক্লদ কিল্লির মতে, ‘সোচি-২০১৪’-র সবচেয়ে বড় সার্থকতা হল এই, যে অলিম্পিকের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে. তিনি উল্লেখ করেছেন, যে সারাদেশ অলিম্পিক ক্রীড়ার সমর্থকে পরিণত হযেছে এবং তার প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণ করছে. শুধুমাত্র ‘সোচি-২০১৪’ অলিম্পিকের আওতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই দশ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবে.