বর্তমানে রাশিয়া ও ভারতবর্ষের সম্পর্কের মধ্যে প্যারাডক্স হল যে, সোভিয়েত দেশের সময় থেকেই সহযোগিতার এক বিশাল ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও আজও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাজনৈতিক সম্পর্কের স্তরে পৌঁছতে পারলো না. এই বিষয় নিয়ে মস্কোতে পঞ্চমবার আয়োজিত – রাশিয়া ও ভারতবর্ষ: বিশ্ব কাঠামোয় সহযোগিতা নামের বিতর্ক সভায় অংশগ্রহণকারীরা কথা বলেছেন. “রুশ বিশ্ব” তহবিল ও ভারতের গবেষণা তহবিল “পর্যবেক্ষক” (অবসার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন) এই বিতর্ক সভার আয়োজন করেছিল.

   কয়েক বছর আগে ২০১০ সালের শেষের আগেই রাশিয়া ও ভারতবর্ষের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমানকে বাড়িয়ে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার করার কথা হয়েছিল. এই কাজ আপাততঃ শেষ হয় নি, বিগত বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান ছিল সাড়ে আটশো কোটি মার্কিন ডলার. আর এটা দুই দেশেরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের সঙ্গে করা বাণিজ্যের পরিমানের তুলনায় কম ও সেই দুই দেশই চায় ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রধাণ অর্থনৈতিক সহকর্মী দেশের পরিচয় পেতে. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ও এই সভায় অংশ নেওয়া বরিস ভলখোনস্কি এই সম্বন্ধে বলেছেন:

   “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের রুশ- ভারত সম্পর্কের উপরে প্রভাব নিয়ে এই বিতর্ক সভায় যোগ দেওয়া লোকেরা নানা রকমের মন্তব্য করেছেন – চিনের এশিয়া মহাদেশে প্রভাবকে সীমিত করার থেকে রাশিয়া – ভারত – চিন (রিক) কাঠামোর মধ্যে আরও বেশী করে সহযোগিতাকে সক্রিয় করার কথাও. তিনটি দেশই বাধ্য হয়েছে একই নৌকার সওয়ারী হতে, যদিও রাজনৈতিক ভাবে ভারত ও চিনের প্রতিযোগিতা বেশী করেই চোখে পড়ছে.

   আর আবার করেই প্যারাডক্স হচ্ছে: ভারত ও চিন কে বন্ধু রাষ্ট্র বলা কঠিন, কিন্তু এটা কোন ভাবেই সফল সহযোগিতা ও সবকর্মী হওয়া থেকে বাদ সাধছে না, আর ভারতীয় ব্যবসা আরও বেশী করেই তাদের পূর্ব দিকের প্রতিবেশীর দিকে তাকাচ্ছে. তাহলে রাশিয়া আর ভারতের মধ্যে কেন এত দ্রুত বাণিজ্য সংক্রান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধি হচ্ছে না, যেখানে রাজনৈতিক ভাবে কোন বাধাই নেই? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আজ কেউই দিতে পারছে না. কিন্তু সেই বাস্তব যে, এই সমস্যার প্রতি দুই দেশেরই বৈজ্ঞানিক অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদদের নজর যে রয়েছে, তা আশার সৃষ্টি করছে যে, দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক কোন সিদ্ধান্ত খুঁজে নেওয়া হতেই পারে, আর তা রাজনীতিবিদদের মতই ব্যবসাদারদের মধ্যেও হতে পারে”.

   খুবই গভীর মনোযোগ দিয়ে রুশ ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা “ব্রিকস” কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতাকে দেখছেন. আজ থেকে পাঁচ বছর আগে খুব কম লোকেই এই দলকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করেছিল, তখন ছিল “ব্রিক” – দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াই. আজ ব্রিকস – এটা একটা খুবই প্রভাবশালী সংস্থা, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উন্নতি করা দেশ গুলি রয়েছে. যারা একসাথে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে যাচ্ছে, বিশ্ব ব্যাঙ্কেও ঢুকছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে, “জি -২০” দেশের মধ্যেও, তার সঙ্গে রয়েছে আরও অনেক আন্তর্জাতিক কাঠামোয় যোগাযোগ. আর তাদের সঙ্গে আজ সকলকেই মত মিলিয়ে দেখতে হচ্ছে.

0   দুঃখের কথা হল যে, এই “রুশ বিশ্ব” ও “পর্যবেক্ষক” তহবিলের আয়োজিত বিতর্ক সভা, - এই ধরনের বিষয়ে জন্য একমাত্র দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠান. কিন্তু তাও যে, এই সভা এর মধ্যেই একটা ঐতিহ্য তৈরী করতে পেরেছে আর খুব শীঘ্রই নয়া দিল্লীতে এর আরও একটি অধিবেশন হতে চলেছে, তা আমাদের মনে আশা জাগাতে পারে যে, এই সভায় উচ্চারিত ধারণা ও একই সঙ্গে এখানে তৈরী করা পরামর্শ সেই সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছবে, যাঁরা রাজনৈতিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন.