মস্কো শহরে ব্রিকস দলের দেশ গুলি অর্থাত্ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গবেষণা করার জন্য জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়েছে. এই পরিষদের প্রধান উদ্যোগ নিয়েছে “রুশ বিশ্ব” তহবিল ও রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমী. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাশিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান সাফল্যের সঙ্গেই তুলে ধরতে পারবে.

   এই প্রকল্পের ধারণা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, এই বছরের এপ্রিল মাসে ব্রিকস দলের হাইনান দ্বীপে শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে প্রকাশ করেছিলেন. কিন্তু এই ধারণাকে বাস্তবায়িত করতে কিছুটা সময় লাগলো. নতুন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য হল – রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক উত্সের ধারণার সঙ্গে এই দেশ গুলির বিশেষজ্ঞ সমাজের ধারণাকে মিলিয়ে দেখা. সহজ করে বললে, নতুন এই কাঠামো রাশিয়ার সমস্ত ইনস্টিটিউট, যারা আজ ব্রিকস দলের দেশগুলির উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করছে, তাদের সকলকে যুক্ত করা. এই প্রসঙ্গে আবার বিজ্ঞানীদের এই পাঁচটি দেশের নতুন সহযোগিতার দিক নিয়ে গবেষণা থেকে দিক নির্দেশ তৈরী করাকে সক্রিয় করা হবে ও নানা রকমের সম্মিলিত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরী করা হবে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিময় ও থাকবে. নতুন সংস্থার জন্য অর্থ যোগানোর কাজ করা হবে রাষ্ট্রীয় ও বৃহত্ পূঁজির মধ্যে ভাগ করে.

   রাশিয়াকে এই নতুন জাতীয় পরিষদ প্রাথমিক ভাবে সাহায্য করতে পারে ব্রিকস দলের মধ্যে নিজেদের অবস্থানকে সঠিক ভাবে নির্ণয় করাতে, এই কথা উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে নতুন পরিষদের অন্যতম প্রধান, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেন:

   “এখানে মনে রাখতে হবে যে, ব্রিকস – এটা আর রাশিয়া, ব্রাজিল, চিন ও ভারতের একটা ইউরোপ ও এশিয়া জোড়া জাতীয় প্রকল্প নয়. এখন থেকে এখানে আর্থ- বিনিয়োগ দিকই বেশী প্রাধান্য পাবে. অর্থাত্ চেষ্টা হবে নতুন বিশ্ব কাঠামো তৈরীর, তারমধ্যে ধীরে জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের মাত্রা বাড়ানো হবে ও সঞ্চিত বিদেশী মুদ্রার ঝুড়িতেও নানা নতুন বিনিময় মুদ্রা প্রবেশ করবে. আর রাশিয়ার এখানে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ভূমিকা, রাষ্ট্র সঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার অভিজ্ঞতা খুবই বড়. তাই আমাদের এই কাঠামোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান খুবই নির্দিষ্ট করে ফেলতে হবে, যাতে এই ধরনের সহযোগিতা থেকে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে”.

   সের্গেই লুজিয়ানিন মনে করেন যে, ব্রিকস দলের মধ্যে রাশিয়া আজ একটা সর্বাঙ্গ সুন্দর মধ্যমণি হয়ে আছে. আর তাই রাশিয়ার উচিত্ হবে না সহযোগিতার ক্ষেত্রে শুধু কোন একটা বিষয় নিয়েই উন্নতি করার, যেমন জ্বালানী ও শক্তি ক্ষেত্রে. আবার সমস্ত কিছু একসাথে করাও ঠিক কাজ নয়. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল, প্রাথমিক কাজের তালিকা ঠিক করে তৈরী করা. আর নতুন জাতীয় পরিষদে, ব্রিকস দলের বিষয় গুলি নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে, যা বিজ্ঞানী ও কূটনীতিবিদদের এক জায়গায় করবে, তা এই তালিকা নির্ণয়ে সাহায্য করতে বাধ্য.

   ““পাঁচটি” দেশকে নিয়ে গবেষণার জন্য জাতীয় পরিষদের সৃষ্টি জীবনেরই দাবী” – বলে বিশ্বাস করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. কারণ ব্রিকস দেশ গুলি আজকের দিনে বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক উন্নতির অর্ধেকের জোগাড় দিয়েছে. এটা পৃথিবীর স্থলভাগের শতকরা ৩০ ভাগ জায়গা, ৪৫ ভাগ মানুষ ও সারা বিশ্বের সার্বিক বাত্সরিক জাতীয় উত্পাদনের শতকরা ২৫ ভাগ. তাই এত বড় এক দলে রাশিয়ার যোগদান শুধু নিজের দেশের অর্থনীতির আধুনিকীকরণের জন্যই দেশের বাইরের ভাল পরিস্থিতি নয়, বরং বিশ্বের মঞ্চে মস্কোর পররাষ্ট্র রাজনীতি নিয়ে অবস্থানকেও মজবুত করে. আর এই বিষয়ে সাফল্য এর মধ্যেই দেখা গিয়েছে. যেমন, ব্রিকস দলের দেশ গুলির প্রচেষ্টার ফলেই ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে “পাঁচটি” দেশের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর কথা বিবেচনাকরা হতে চলেছে. এই দলের দেশ গুলির প্রতিনিধিরাও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে আরও বেশী করে নেতৃ স্থানীয় পদে আসীন হতে পারবেন.