স্ক্যাণ্ডিনেভিয়ার ফিওর্ড দেখতে যাওয়া ৪৬ বছরের ইতালির নাগরিক জোভান্নি কোলাজান্তে, তার বেড়াতে যাওয়ার শেষ দেখেছেন সেখানের জেলের কামরায়. বাচ্চার সঙ্গে নিষ্ঠুর ব্যবহারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সুইডেনের পুলিশ. এখন স্টকহোম শহরের আদালত ঠিক করছে, কতটা কঠিন শাস্তি ইতালির এই বাবার পাওনা, যে কিনা তার ১২ বছরের ছেলেকে সবার সামনে মাথায় চাঁটি লাগিয়েছে.

   স্থানীয় সম্মানিত রাজনীতিবিদ, আপুলী রাজ্যের কানোজা শহরের জোভান্নি কোলাজান্তে তার পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে স্ক্যাণ্ডিনেভিয়াতে প্রমোদ তরণী চড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন. আর স্টকহোমে পৌঁছে এই বেড়ানোর দলের লোকেরা সবাই মিলে রওয়ানা হয়েছিলেন এক রেস্তোরাঁতে খেতে. কেন যে এই রেস্তোরাঁ কিশোর ছেলের পছন্দ হয় নি, তা এখন আর কেউ ঠিক করে বলতে পারবে না. কিন্তু ছেলেটা রেস্তোরাঁর দরজার সামনে পৌঁছে বেঁকে বসেছিল. চটরাগি ইতালীয় বাপ, খুব একটা না ভেবেই, ঠিক করেছিল অভিভাবকত্ব ফলানোর. ছেলেকে কলার ধরে ঠিক করেছিল রেস্তোরাঁয় ঢোকানোর.

   কিন্তু ভবিতব্য এখানেই দাঁড়িয়ে ছিল. খুবই সতর্ক সুইডিশ জনগণ পুলিশ ডাকায় দেরী করে নি. তত্ক্ষণাত্ সাক্ষী জুটে গিয়েছিল, যারা বলেছিল যে, সেই ব্যক্তি খুবই নিষ্ঠুর ভাবে কিশোরের সঙ্গে আচরণ করেছে: তাকে কান মলে দিয়েছে ও চুল ধরে হিঁচড়ে টেনেছে. আর পুলিশ তখনই জোভান্নি কোলাজান্তে কে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে তিন দিনের জন্য জেলের ভাত খাওয়াতে নিয়ে গেছে, যাতে আর কোনদিনও বাচ্চাদের উপরে অসভ্যতা করার ইচ্ছা না হয়.

   এখানে বলার দরকার যে, সেই কিশোর ছেলেটি কিন্তু নিজেই তার বাবার শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতির চেয়ে, বাবাকেই পথে টেনে নামানো ও বাড়ীর সকলের ও বন্ধুবান্ধবদের সামনে অন্য ইউরোপীয় দেশের শহরের মাঝখানে গ্রেপ্তার হওয়া দেখে বেশী ভয় পেয়ে ও ঘাবড়ে গিয়ে একসার হয়েছে. সত্যিকারের ইতালিতে জন্মানো মানুষের মতই তার জন্য এই রাগ দেখানোর মত আবেগ প্রকাশকে স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল বলে মনে করেছেন ইতার– তাস সংস্থার ইতালি শাখার ডিরেক্টর আলেক্সেই বুকালভ.

   তাঁর কথামতো, প্রয়োজনে মাথায় চাঁটি মারা অথবা নিজের বাচ্চার ব্যবহারে রাগ করা – এটা খুবই ইতালির লোকেদের জন্য স্বাভাবিক চরিত্রের ও বহু প্রসারিত ব্যাপার. কেউই সংসারের মধ্যে এটাকে খুব একটা বড় ব্যাপার বলে মনে করে না.

   তিন দিন বাদে ইতালির কূটনীতিবিদদের কথায় বিশ্বাস করে জোভান্নি কোলাজান্তে কে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে. কিন্তু কোলাজান্তে কে এখন বাচ্চার মানবাধিকার ভঙ্গের অপরাধের জন্য সুইডিশ বিচারপতির রায় শোনার অপেক্ষায় থাকতে হবে.

সেই কিশোর অবশ্য এখন তার নিজের বাড়ীতেই – তার ফিওর্ড দেখার জন্য বেড়াতে যাওয়া, কাজে দেখা গেল ট্যুরিস্ট কোম্পানীর এজেন্টের ট্যুর বিক্রী করার আগের বর্ণনার চেয়ে খুবই সংক্ষিপ্ত ও কঠোর.