ফ্র্যাঙ্কফুর্ট শহরে উদ্বোধন হওয়া গাড়ীর প্রদর্শনীতে আজ একসাথে রাশিয়া থেকে তিনটি গাড়ীর প্রদর্শনী করা হতে চলেছে – "ইও – ক্রসওভার" (হ্যাচব্যাক ও ক্যুপে), "ইও – ট্রাক" ও স্পোর্টিং স্টাইলে তৈরী করা "ইও – কনসেপ্ট গাড়ী". এটা নতুন হাইব্রিড ধরনের গাড়ী, যা সৃষ্টি করার কাজ করছে "ইয়ারোভিট" কোম্পানী ও রাশিয়ার কোটি পতি মিখাইল প্রোখোরভের অনেকসিম বিনিয়োগ সংস্থা.

    এই ধরনের গাড়ীর প্রতিটি মডেলই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরী হয়েছে এর বডি বিভিন্ন অর্গানিক যৌগ পদার্থ দিয়ে তৈরী ও রোটারি ভেন টাইপ ইঞ্জিন, যেটির পিস্টন সরল রেখায় না চলে বৃত্তাকারে চলে এবং একই সাথে প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোল ও ২২০ ভোল্ট বিদ্যুত শক্তি দিয়েও চলতে পারে. "ইও – মোবাইল" সেন্সর নিয়ন্ত্রিত প্যানেল ড্যাশ বোর্ড সমেত তৈরী, তার সঙ্গে ইন্টারনেট যোগাযোগের স্বয়ং সম্পূর্ণ ব্যবস্থাও রয়েছে. আগামী বছরের মাঝামাঝি এই গাড়ী বাজারে বিক্রীর জন্য আসবে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের মতে এটা একেবারেই নতুন জিনিস, কারণ তিনি তা নিজে চালিয়ে দেখেছেন ও বলেছেন:

    "আমাদের সহকর্মী প্রোখোরভ এই ধরনের একটা জিনিস বাজারে নিয়ে আসছেন. এটা একেবারেই নতুন জিনিস. প্রযুক্তির দিক থেকেই নতুন".

    "ইও – মোবাইল" সম্পূর্ণ ভাবে দেখা হলে তার মধ্যে দেখতে পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ চারটি চাকার উপরেই চালিকা শক্তি প্রয়োগের ব্যবস্থা, এখানে গতির উপরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ক্রুইজ কন্ট্রোল ব্যবস্থা থাকছে, নেভিগেশন বা দিক নির্দেশ ব্যবস্থা জি পি এস ও গ্লোনাসস ব্যবস্থা, আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রচলিত গিয়ার বক্সের বদলে একটি মাত্র বাটন দিয়ে গতিবেগ পরিবর্তন ব্যবস্থা. পরবর্তী কালে এই গাড়ী স্টার্ট করা যাবে বিশেষ ধরনের "ইও- টেলিফোন" দিয়েই. এই গাড়ীর মালিকের পক্ষে কোন রকমের জ্যাম যন্ত্রণায় পড়লে সরাসরি ইন্টার নেট ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করা ছাড়াও অ্যানড্রয়েড সিস্টেম দিয়ে সাধারন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, প্ল্যানশেট বা নেট বুকে করার উপযুক্ত সব ধরনের কাজই করা সম্ভব হবে. গাড়ীর কম্পিউটারেই সম্ভব হবে গান শোনা, সিনেমা দেখা থেকে জিনিস পত্র ইন্টারনেট দোকান থেকে কিনে ফেলা.

    "ইও- আভতো" (yo-auto) কোম্পানীর ব্লগে এই গাড়ীর সম্বন্ধে শেষ অবধি পাওয়া খবর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ও গাড়ীর সম্বন্ধে একটি সুন্দর প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে. যা দেখা যাচ্ছে, তা খুবই আগ্রহের সৃষ্টি করে, কিন্তু সব কিছু এক বারে মাথায় ঢোকে না: এই ধরনের গাড়ীর ভেতরে যাত্রী কি আরাম পাবেন প্রশ্ন. গাড়ীর সম্বন্ধে মিখাইল প্রোখোরভ প্রশংসা করে বলেছেন:

    "ইও – গাড়ী বাইরে দেখতে ছোট হলেও ভেতরে খুবই প্রশস্ত. আমার ২ মিটার ৪ সেন্টিমিটার উচ্চতা নিয়ে আমি নিজে অনায়াসে এর ভেতরে বসতে পারি, যদিও আমার জন্য এই গাড়ী বানানো হয় নি, তবুও যদি আমি এর ভিতরে শান্ত ভাবে বসতে পারি, তবে সন্দেহ নেই যে, অন্যদেরও জায়গা হবে. এটা একেবারেই নতুন শ্রেনীর গাড়ী, যা ছোট মাপের মধ্যেই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অনেক বেশী প্রশস্ত, কারণ এর ইঞ্জিন ব্যবস্থা অল্পই জায়গা নেয়".

    ফ্র্যাঙ্কফুর্ট শহরে এই গাড়ীর প্রদর্শনীর পরে রাশিয়ার কুড়িটি শহরে রুশ লোকেদের জন্যই এই গুলি দেখানো হবে. যদিও এখনই এই গাড়ী কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অনেকেই দেড় লক্ষের বেশী বায়না এসেছে, অথচ এখন সেন্ট পিটার্সবার্গে শুধু কারখানাই তৈরী হচ্ছে. ঠিক হয়েছে যে এই কারখানা বছরে ৪৫ হাজার গাড়ী তৈরী করবে.