রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির আফ্রিকা সংক্রান্ত প্রতিনিধি ও জাতীয় সভার আন্তর্জাতিক বিষয় পরিষদের সভাপতি মিখাইল মার্গেলভ মঙ্গলবার ১৩ই সেপ্টেম্বর নিকট প্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সফর শুরু করতে যাচ্ছেন. তাঁর লক্ষ্য – আরব বিশ্বের খবর একেবারে প্রাথমিক উত্স থেকে পাওয়া.

রাশিয়ার এই দূতের সফরের মেয়াদ ছয় দিন. মিখাইল মার্গেলভ লেবানন, নাইজার, মালি, মৌরিতানিয়া ও মরক্কো যাবেন. এখানে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে, তা যথেষ্ট প্রসারিত, কিন্তু তা হলেও প্রধান মনোযোগ দেওয়া হতে চলেছে লেবানন ও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে. রাশিয়ার জন্য মুখ্য হবে কি করে এই এলাকার দেশ গুলি লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অংশ নেবে ও দামাস্কাসের প্রতি তাদের অবস্থান কি. যাতে এই চিত্র সম্পূর্ণ হয়, কয়েক দিনের মধ্যে সিরিয়া যাবেন রাশিয়ার জাতীয় সভার এক প্রতিনিধি দল, এই কথা উল্লেখ করে মিখাইল মার্গেলভ বলেছেন:

"রুশ প্রজাতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল সিরিয়াতে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু করার সময়ে সহায়তা করা. রাজনৈতিক সঙ্কট গুলির সমাধান হতে পারে শুধু রাজনৈতিক ভাবেই. আমরা এই বিষয়ে তথাকথিত আরব বসন্তের সমস্ত সময় ধরেই বারবার প্রমাণ পেয়েছি. আর আমরা কোন ভাবেই চাই না যে, সিরিয়াতে লিবিয়ার বা অন্য কোন জায়গার মত রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরম্পরা হোক".

এই বিষয়ে আগামীকাল মার্গেলভের সঙ্গে লেবাননের রাষ্ট্রপতি মিশেল সুলেইমানের আলোচনা হবে. মস্কোর মতই বেইরুট খুবই উদ্বিগ্ন সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে, যেখানে বিগত কয়েক মাস ধরেই তীক্ষ্ণ আভ্যন্তরীণ সঙ্কট চলছে.

লেবানন থেকে সেনেট সদস্য যাবেন নাইজার দেশে, তারপরে মালি ও মৌরিতানিয়া. বিগত সময় পর্যন্ত এই দেশ গুলি সেই সমস্ত দেশের মধ্যেই ছিল, যারা মুহম্মর গাদ্দাফিকে সমর্থন করেছিল, এখন প্রকৃষ্ট সময়, যখন এই দেশ গুলির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন লিবিয়ার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা সম্বন্ধে. এই মত দিয়েছেন আরব ও ঐস্লামিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ত্কাচেঙ্কো, তিনি বলেছেন:

"আফ্রিকা সঙ্ঘের অনেক সদস্য দেশই লিবিয়ার সমস্যা কে অন্যভাবে দেখে থাকে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গী উন্নত গণতন্ত্রের দেশ গুলি থেকে আলাদা. তাদের মূল্যায়ণে ভারসাম্য সঙ্কটের কারণ হিসাবে গাদ্দাফিকে গৃহযুদ্ধের আগুণ জ্বালানোর দোষ দেওয়াতে নেই. গাদ্দাফির দায়িত্ব ও জঙ্গী বিরোধী পক্ষের দায়িত্ব দেখা হচ্ছে সমান ভাবেই. যেহেতু হিসাবের মধ্যে দেখা গিয়েছে যে, বিশ্ব সমাজে এই বিরোধের উত্স ও তার সমাধানের পথ নিয়ে কোন সহমত নেই, তাই এটাকে সরাসরি ভাবেই বলবো যে, কূটনৈতিক ভাবে সমাধানের জন্য একেবারেই ভাল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে নি. তাহলেও একমাত্র রাজনৈতিক ভাবে লিবিয়ার সঙ্কটের সমাধান সম্বন্ধে অনেক নেতিবাচক জিনিস থাকা স্বত্ত্বেও, এমনকি খুবই অল্প সুযোগ, যা এই পথে রয়েছে, তা ব্যবহার করা দরকার ও কিছু আলাদা শক্তি প্রয়োগ করা দরকার. এই নিয়েই, সব দেখে মনে হয়েছে, মার্গেলভের সফর উদ্দেশ্য করা হয়েছে".

মালিতে মার্গেলভকে এক বিশেষ মিশন নিয়ে যেতে হবে. রুশ প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশে তিনি সেই দেশের রাষ্ট্রপতি আমাদ তুমানি তুরে কে রাশিয়ার প্যারাট্রুপার বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ পদক – "সেনা বাহিনীর জেনেরাল মার্গেলভ", নামের পদক দেবেন. এটা শুধু মালির নেতার জন্যই শুধু খুবই সম্মানের ও সুখের বিষয় হবে না, যিনি রাশিয়ার রিয়াজান শহরের ভাসিলি মার্গেলভের নামাঙ্কিত প্যারাট্রুপার সেনা বাহিনীর ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েট, বরং মিখাইল মার্গেলভের জন্যেও, যাঁর দাদু রাশিয়ার প্যারাট্রুপার বাহিনীর স্রষ্টা.

মরক্কো তে রাশিয়ার দূত পরিকল্পনা করেছেন পশ্চিম সাহারার চারপাশে বিরোধের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করার – বিগত স্পেনের উপনিবেশ, যার জন্য এই দেশের রাজধানী রাবাত, পলিসারিও ফ্রন্টের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যে দল এই অঞ্চলের মানুষদের একত্রিত করেছে, তাদের সঙ্গে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে ২০০৭ সাল থেকে বিরোধী পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আপাততঃ কোনও ফল দেয় নি, তাই এই প্রশ্নের সমাধানে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখনও বাস্তব বলে মার্গেলভ বিশ্বাস করেন.

যদিও আফ্রিকাতে এই আলোচনার চরিত্র প্রধানতঃ হবে রাজনৈতিক, রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য ও অর্থনীতি সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয় গুলিও এখানে বাদ পড়বে না বলে ভরসা দিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি.