আজ বুশের শহরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের সরকারি ভাবে উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়েছে, ফোটো যা রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা তৈরী করেছেন. এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন রাশিয়ার জ্বালানী শক্তি মন্ত্রী সের্গেই শ্মাতকো, রাশিয়ার সরকারি কর্পোরেশন রসঅ্যাটমের প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো, ইরানের পারমানবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ফেরৈদুন আব্বাসী দাবানি, ইরানের জ্বালানী শক্তি মন্ত্রী মজিদ নামঝু. ভিডিও

    বুশেরের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রকে হটাত্ করেই এক তুলনাহীণ প্রকল্প বলা হয় না, যার বর্তমান বিশ্বে কোনও অনুকল্প নেই. এটা ১৯৭৫ সালে জার্মানীর কোম্পানীরা তৈরী করা শুরু করেছিল. কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইরানের রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে ও ঠিক তার পরেই ইরান – ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে ছিল, আর চুক্তি ভঙ্গ হয়ে গিয়েছিল. ১৯৯৫ সালে বুশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টর তৈরী করা নিয়ে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল, আর ১৯৯৮ সালে  - চুক্তি হয়েছিল যে, রাশিয়ার "অ্যাটমস্ত্রোইএক্সপোর্ট" কোম্পানী এই কেন্দ্রটি টার্ন কি ভিত্তিতে তৈরী করে দেবে.

    পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র এখনও সম্পূর্ণ শক্তি উত্পাদন শুরু করে নি, যা হল এক হাজার মেগাওয়াট. এটা আগামী দুই তিন মাসের মধ্যেই হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে, আর এখন এই স্টেশন কাজ করে তার ক্ষমতার শতকরা চল্লিশ ভাগ. দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন ইরানের মধ্যে বুশেরের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে অন্যান্য পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীর সম্ভাবনা নিয়ে. রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক ইভান জাখারভ বুশের শহরে তেহরানের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হাসান বেহেস্তিপুর এর সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছেন.

    "বুশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রকে অনেকেই নাম দিয়েছেন ইরান রুশ সহযোগিতার প্রতীক বলে, আপনিও কি এই দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে দেখেন"?

    "হ্যাঁ, আমিও এই বক্তব্যের সঙ্গে শতকরা একশ ভাগ সহমত. বুশের সত্যই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণতম অধ্যায়. এই কেন্দ্র তৈরী হওয়ার প্রত্যেক দিনই আমাদের দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা খুব ভাল করেই সহযোগিতা করেছে. ফলে ইরান পেয়েছে পারমানবিক শক্তিকে শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা ও লেই দিকেই এক বড় পদক্ষেপ নিতে পেরেছে, যাতে বিদ্যুত শক্তির বিষয়ে নিজেদের দেশের নাগরিক দের চাহিদা স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবেই মেটাতে পারে. আমি মনে করি যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই প্রকল্পে অংশ নিয়ে যে লাভই হয়েছে, তা নিয়েও কোন দ্বিমত থাকতে পারে না. রাশিয়া, এই বিকল্প রহিত কেন্দ্রকে চালু করে দিয়ে প্রমাণ করতে পেরেছে যে, তারা প্রযুক্তির দিক থেকে পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের জন্য সবচেয়ে জটিল কাজও করতে পারে. আর এটা হতেই পারে যে, এই অভিজ্ঞতা ইরানের পারমানবিক শক্তি উত্পাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য খুবই কাজের হবে".

    বুশের কেন্দ্র চালু হওয়ার পরে আরও কয়েক বছর ধরে তা রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি বিশেষজ্ঞদের গ্যারান্টির আওতায় থাকবে. দুই পক্ষের ধারণা অনুযায়ী ধীরে রাশিয়ার অংশ ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখানে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা কমবে. ফলে দুই তিন বছর পরে এই কেন্দ্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে ইরানের বিশেষজ্ঞদের হাতেই, যাদের এর জন্য বর্তমানে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে. যখনই ইরানের পক্ষ এই কেন্দ্র সম্পূর্ণ ভাবে নিজেরাই চালাতে সক্ষম হবে, তখনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র ইরানের হাতে তুলে দেওয়া হবে.