১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসবাদী হানার দশম বর্ষ পূর্তিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে আমেরিকা বিরোধী মিছিল হয়েছে. ইসলামাবাদে দক্ষিণ পন্থী মৌলবাদী জামাত- ই – ইসলামি দল পাকিস্তানের রাজধানীর রাস্তায় এমন সব ফেস্টুন নিয়ে বেরিয়েছিল, যেখানে লেখা হয়েছিল যে, নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আক্রমণের কারণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের চক্রান্তের ফল. করাচী শহরে মিছিল কারীরা আফগানিস্তানের যুদ্ধের প্রতিবাদ করেছে. আমেরিকা বিরোধী মিছিল হয়েছে মুলতান শহরে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    আমেরিকা বিরোধী মিছিল হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের আমেরিকা- পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে ঘোষণার অব্যবহিত পরেই. এর কারণ ছিল কোয়েত্তা শহরে পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনীর হাতে "আল- কায়দা" দলের তিনজন প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তার হওয়া – ইউনুস আল মাউরিটানি, আবদুল্লা গফ্ফার আল- শামি ও মেস্সারা আল- শামি, আর তারই সঙ্গে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তৈরী থাকা তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাতে তুলে দেওয়ার জন্য. এই তিন জনই বিগত কিছু কাল ধরে পাকিস্তানের বেলুচিস্থান প্রদেশে ছিল. তাদের গ্রেপ্তার হওয়া সম্ভব হয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে. দুই দেশের গুপ্তচর বাহিনীর সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ক ভাল হওয়ার লক্ষণ, অন্ততঃ সম্পর্ক ভাল হওয়া বলে মনে করলে, তা সময়ের আগেই হয়ে যাবে. কারণ আমেরিকা- পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে সঙ্কটের কারণ এখনও দূর করা যায় নি, বলে মনে করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

    "পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্পর্ক বিশেষ ধরনের. একদিকে এই দেশ খুবই দুর্বল. তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তার উপরে নির্ভরশীল. তারা এই ধরনের সাহায্য ছাড়া তাদের ঐতিহাসিক প্রতিযোগী ভারতের বিরুদ্ধে পেরে উঠবে না. তারা এমনকি নিজেদের দেশের ভিতরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ত্রাণেও আন্তর্জাতিক ভাবে বড় মাপের সাহায্য না পেলে করে উঠতে পারে না, যা তাদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন যোগাযোগ করে ঠিক করে দেয়. একই সময়ে পাকিস্তানের আবার উচ্চাশা বিপুল. প্রাথমিক ভাবে এটা আফগানিস্তান চালানোর ইচ্ছা. পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনী তালিবদের বহু দলকেই নিজেদের ছায়ার তলায় রেখেছে, হাক্কানি আন্দোলন, ঐস্লামিক দল, যারা আমেরিকার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে লড়ছে, কিন্তু পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু করে না. আর এটাই আমেরিকার ভাল লাগছে না. নিজেদের দিক থেকে পাকিস্তান খুবই, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে নাক সিঁটকানো সম্পর্ক নিয়ে ব্যথিত হয়ে থাকে, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপরে আমেরিকার কোন রকমের শ্রদ্ধা না থাকাতেও. অ্যাবত্তাবাদে আমেরিকার বিশেষ বাহিনী হানা দিয়ে ওসামা বেন লাদেন ধ্বংস করেছিল, পাকিস্তানের সরকারকে আগাম জানান না দিয়েই. আর আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় আমেরিকার পাইলট বিহীণ বোমারু বিমানের হানা ও তার আঘাতে শান্তিপ্রিয় মানুষের মৃত্যু পাকিস্তানের নাগরিক সমাজে খুবই প্রতিবাদের সৃষ্টি করেছে. আর এই ক্ষেত্রেও কিছুই পাল্টায় নি".

    অবশ্যই দুই তরফ এখনও একে অপরের প্রয়োজন বোধ করে খুবই. পাকিস্তানের সামরিক ও গুপ্তচর বাহিনীকে একেবারেই নিরাহারে থাকতে হবে, যদি আমেরিকা কোনও সাহায্য না করে. আর আফগানিস্তানে নিজেদের রাজনীতি চালানোর জন্য পাকিস্তানকে দরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের. আর এটা সকলেই ভাল করে বুঝতে পারে. কিন্তু এর জন্য পাকিস্তানে আমেরিকা বিরোধী মনোভাব একটুও কমছে না. ১১ই সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের শহর গুলিতে মিছিল এটাই আবারও প্রমাণ করে দিল.