মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে পুনরায় সহিংসু আর বিক্ষোভের ঘটনা শোনা যাচ্ছে।পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে হয়তবা ব্যর্থ হচ্ছে অথবা দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছে।শুক্রবারের জুম্মার নামায শেষে বিভিন্ন বয়সের কয়েশ মিশরীয়রা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।তারা ইসরাইলের সাথে মিশরের সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবী জানায়।গত ১৮ আগষ্ট ইসরায়েলি সেনাদের হাতে পাঁচ মিসরীয় সীমান্তরক্ষী নিহত হওয়ার পর মিশরীয়রা বিভিন্ন আন্দোলন করে যাচ্ছে।এ ঘটনার পরপরই তেল আবিব মিশরের কাছে ক্ষমা চেয়েছে কিন্তু তা মিশরীয়দের তেমন  সান্তনা দিতে পারে নি। শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা রাজধানী কায়রোর ইসরাইলি দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে।তাঁরা দূতাবাসের মূল্যবান নথিপত্র ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।এমনকি তারা ইসরাইলি পতাকা কেঁটে টুকরো টুকরো করেছে।ওই সময় পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করলেও তারা পুনরায় দূতাবাসের আশেপাশে জড়ে হতে থাকে।বিক্ষোভকারীরা এবার দূতাবাসের ইটের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে।

এদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টানিসলাভ তারাসোভ বলছেন যে,এ ঘটনায় মিশরের উগ্রপন্থি ইসলামিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নিয়েছে এবং আরব বিশ্বের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক নষ্ট করাই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য।তিনি বলছেন, ‘বিষয়টা একেবারেই পরিষ্কার  ছিল যে, আরব বিপ্লব নামে মিশরে যা ঘটে গেল তারপরই উগ্রপন্থি ইসলামিক নেতা-কর্মীদের আবির্ভাব হবে।এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড ‘ এর কথা।মিশরে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পূ্র্বে তাই তারা সাধারণ মিশরীয়দের এবং মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।এই পরিস্থিতিতে অবশ্য ইসরাইল-মিশর সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘটার সমূহ সম্ভাবনা ছিল।তাছাড়া এক সময় তুরষ্ক-ইসরাইলের সম্পর্ক একইভাবে নষ্ট হয়েছিল।বর্তমানে জর্দানসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার চিন্তাভাবনা করছে’ ।

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে প্রতি দিনই নতুন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।কায়রোর ইসরাইলি দূতাবাসে হামলার পরই বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সদর দপ্তর ও সৌদি আরবের দূতাবাসেও হামলা করেছে।মিশরীয়রা যেন অপেক্ষা করতে চান না।তাই নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার সেনাবাহিনী থেকে সরকারের কাছে অর্পন করা এখন আরও জটিল হয়ে গেল।

পুলিশ গতকাল রাতে কায়রোর বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় কায়রোর সাম্প্রতিক ঘটনায় বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।তবে মিশর জানিয়েছে যে, তারা কূটনৈতিক পাড়ায় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।অন্যদিকে রাশিয়ার পর্যটন বিষয়ক সংস্থা রসটুরিজম আপাতত রাশিয়ার সব পর্যটন কোম্পানীকে কায়রো ভ্রমনের প্যাকোজ ট্যুর বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।