রাশিয়ার যুদ্ধ-শিল্পয়ান প্রকল্পের রয়েছে যথেষ্ট ইতিবাচক ভাবমূর্তি।রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন উরাল আঞ্চলের নিঝনেম তাগিলে(উরাল) সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ক ৮ম আন্তর্জাতিক ‘রাশিয়ান এক্সপো আর্মস’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।পুতিন বলেন,প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া বেশিরভাগ প্রযুক্তি রাশিয়ার তৈরী।যার জন্য রাশিয়া গর্ব করতে পারে।এ সব প্রযুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে রাশিয়ার স্বাধীনতা ও সতন্ত্র রক্ষায় ব্যবহার করা।

নিঝনেম তাগিলে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীকে ‘শক্তি,আধিপত্য ও সৌন্দর্য’ এমন নামকরনই করা যেতে পারে।প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তির মহড়া যা উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে।স্বংয় রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থেই আমাদের কিছু আছে যা আমরা অন্যদের দেখাতে পারি।পুতিন বলছেন,নিঝনেম তাগিলে  অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রথম সামরিক প্রযুক্তির প্রদর্শনীতে শুধুমাত্র স্থল পথের সামরিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী করা হয় নি বরং প্রায় প্রতিটি যুদ্ধ ক্ষেত্রেরই প্রযুক্তি এখানে রয়েছে।প্রথমেই রয়েছে,চৌকুশ যন্ত্র রিস,আধুনিক ট্যাঙ্ক টি ৯০সি,জেনিট ক্ষোপোনাস্ত্র ও রকেট।এছাড়া সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা হল অপারেশনাল ও কৌশলী সেট ‘ইস্কান্দার এম’ । যার জন্য রাশিয়া গর্বিত।এটিই মূলত আমাদের জানিয়ে দেয় যে, আমাদের সামরিক প্রযুক্তিতে কতটা উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে।সরকার এই খাতে আরও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করবে।আগামী ১০ বছরের মধ্যে সামরিক শক্তির পুরোটাই আমাদের নিজস্ব প্রযক্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে’ ।

তবে বিশেষজ্ঞরা ৮ম আন্তর্জাতিক সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে আধুনিক ট্যাঙ্ক টি-৯০সি’কে প্রধান আকর্ষন বলে দাবী করেছেন।এর ওজন হচ্ছে ৪৮ টন যা যুক্তরাষ্ট্রের এ্যানালোগ ‘আবর্মাস’ অথবা জার্মানীর ‘লেওপার্দ’ থেকে  ওজনে মাত্র ১২ কিলোগ্রম কম।আর এর অর্থ হচ্ছে টি-৯০ সি যা অনেক বেশী কর্মতত্পর এবং দ্রুতগামী।এই ট্যাঙ্ক থেকে ছোড়া গোলা যা ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে পারে।এই ট্যাঙ্কের আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হচ্ছে,এটির নিয়ন্ত্রন প্রক্রিয়া ১টি স্থান থেকে করা হয়।

প্রযুক্তি বিষয়ক ৮ম আন্তর্জাতিক ‘রাশিয়ান এক্সপো আর্মস’ ফোরামের কথা যদি বলা হয় তাহলে সেখানে অভ্যন্তরীণ ও পশ্চিমা বিভিন্ন কোম্পানীর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।এ বছরের প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ২৫০টি এবং যুক্তরাষ্ট্র,অষ্ট্রেলিয়া,ফ্রান্স,চিলি ও ইরানসহ মোট ১২টি দেশের সামরিক প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।