একই সঙ্গে বেশ কিছু ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জেনেরাল ও বিশেষজ্ঞরা খুবই কড়া ঘোষণা করেছেন. তাঁরা সেই বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভারতীয় সেনা বাহিনী আরও বেশী কেই চিনের সামরিক শক্তির থেকে পিছিয়ে পড়ছে ও আহ্বান করেছেন দেশের সামরিক বাহিনীকে দ্রুত আধুনিক করে তুলতে.

    অবসর প্রাপ্ত জেনেরাল – লেফটেন্যান্ট পি. সি. কাটোচ, ভারত ও চিনের সামরিক বাজেটের তুলনা করে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, চিন সরকারি ভাবে সামরিক খাতে ভারতের চেয়ে তিন গুণ বেশী খরচ করে (৯ হাজার ১৫ শো কোটি চিনের আর তিন হাজার ২ শো কোটি ভারতের), আর বেসরকারি ভাবে হতে পারে যে, হয়ত পাঁচ গুণ বেশী প্রায় ১৫ হাজার কোটি জলার খরচ করছে. অন্য আরেকজন বিশেষজ্ঞ ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নির্দেশ কেন্দ্রের ডিরেক্টর কর্নেল রাজেশ কুন্দ্রা প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, ভারতের সামরিক বাজেটের পরিকল্পনা কখনই পরম্পরা মেনে করা হয় নি, আগে থেকে তৈরী থাকার বদলে তা শুধু সঙ্কটের মুহূর্তেই প্রতিক্রিয়া করেছে.

    এই ধরনের ও নির্দিষ্ট ভাবে এই সব ঘোষণা এখনই হওয়াটা খুবই পূর্ব লক্ষণ পূর্ণ, মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি, তিনি বলেছেন:

    "ভারত ও চিনের বর্তমান সম্পর্ক এখন দ্বিমুখী চরিত্রের হয়েছে. এক দিকে, দুটি নেতৃ স্থানীয় বড় দেশ, সরকারি স্তরে সব রকম ভাবে সম্পর্কের বন্ধুত্ব মূলক চরিত্র তুলে ধরতে চাইছে, যা প্রমাণিত হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বড় যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে. আবার অন্য দিকে, যেমন ভারত, তেমনই চিন সক্রিয়ভাবে নিজেদের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে – প্রসঙ্গতঃ প্রত্যেক দেশই এটা শুধু নিজেদের সীমান্ত বরাবরই করছে না, বরং বলা যেতে পারে একে অপরের চারপাশে ঘিরে ফেলার জন্যই করছে. চিন খুবই সক্রিয়ভাবে ভারত মহাসাগরে নেমেছে, আর ভারতের নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের মহড়াতে আরও বেশী করেই অংশ নিচ্ছে, তার মধ্যে সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে একত্র ভাবে, যাদের চিনের সঙ্গে খুব স্বাভাবিক সম্পর্ক নয়. একেক সময়ে এটা একেবারে খোলাখুলি বিরোধের সামনে উপস্থিত করে. যেমন হয়েছিল এই বছরের জুলাই মাসে, যখন ভারতের নৌবাহিনীর জাহাজ চিনের নৌবাহিনীর জাহাজ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণ চিন সাগরে ভিয়েতনামের বন্দরের কিছু আগে, যা চিন মনে করে আছে, যে তাদের জায়গা.

    আর অবশ্যই, পাকিস্তানকেও হিসাব থেকে বাদ দেওয়া যায় না, যাদের জন্য বর্তমানে চিন হয়ে রয়েছে একমাত্র সহযোগী দেশ, যারা তাদের অর্থনৈতিক, সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ ইত্যাদি বিষয়ে সাহায্য করছে. আর ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে চিনের এই কাণ্ড ভারতের ক্রমাগত "মাথা ব্যাথার কারণই" হয়েছে".

    বাস্তবে উচ্চ পদস্থ নেতৃত্বের ঘোষণা গুলির বিতর্কের অংশ বাদ দিলেও, দেখা যাচ্ছে যে, দুই দেশই এক অন্যের হাত দিয়ে বিরোধের নীতি নিয়েছে. চিন সক্রিয়ভাবে সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যারা ভারতের প্রভাব ভারত মহাসাগরে ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াতে বেঁধে রাখতে পারে. ভারত পূর্ব এশিয়াতে একই কাজ করছে ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতেও করতে চাইছে. আর এই প্রসঙ্গে গত বছর গুলিতে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানী কারক দেশ হয়েছে, যে বিষয়ে তারা চিনের চেয়েও এগিয়ে.

    এশিয়া – প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা খুবই তীব্র বিরোধের সম্ভাবনাময় এলাকা. এখানে অনেক নিষ্পত্তি না হওয়া আঞ্চলিক বিবাদ রয়েছে, যা সামরিক ভাবে যুদ্ধে পরিনত হতে পারে. আর এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা, যে বিষয়ে ভারত ও চিন শুধু যোগ দেয় নি, তা এর মধ্যেই হাল এমন করেছে যে, এই অঞ্চল অনেক দিন হল বিশ্বে সামরিক খরচ করার বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছে.