লিবিয়াতে ন্যাটো জোটের শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, আর রাশিয়া একেবারেই চায় না যে, সিরিয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্ব রাজনৈতিক সম্মেলনে "ইউরো নিউজ" টেলিভিশন চ্যানেল কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন. দেশের নেতা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্মেলনে বহু সংস্কৃতি সমন্বয় নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা আভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্য যুক্ত সমাজ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল.

দিমিত্রি মেদভেদেভ সেই তথ্য সমর্থন করে বলেছেন যে, এই সপ্তাহে মস্কোতে তিনি সিরিয়ার সম্পর্কে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফ্রান্স ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন. কিন্তু এখানে বিষয় হল যে, রাশিয়া লিবিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে সন্তুষ্ট নয়, তাই তিনি বলেছেন:

"আমরা মনে করি যে, লিবিয়া সম্পর্কে নেওয়া ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তের থেকে বার করে আনা মিশন মাত্রাতিরিক্ত ভাবে করা হয়েছে. আমরা একেবারেই চাই না যে, একই জিনিস সিরিয়ার ক্ষেত্রেও করা হোক. এই কথা ঠিক যে, আমরা সিরিয়ার সমস্যা দেখতে পাচ্ছি, আমরা তারই সঙ্গে খেয়াল করেছি শক্তির অপরিমিত প্রয়োগ, আর অনেক ক্ষতি. আমাদেরও এটা একেবারেই মানতে ইচ্ছে হয় না. কিন্তু আমরা মনে করি যে, সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত, যা আমরা গ্রহণ করে থাকি ও যেটাকে বলা হয়ে থাকে, যাতে একটা কঠোর বার্তা প্রেরণ করা সম্ভব হয়, এমনকি সেই সিরিয়ার নেতৃত্বকেই, তা হওয়া উচিত্ উভয় পক্ষকে উদ্দেশ্য করেই".

দিমিত্রি মেদভেদেভ পশ্চিমকে সিরিয়াতে পরিস্থিতি আদর্শ হিসাবে না দেখতে, কারণ তা, মেদভেদেভের কথায় একেবারেই "নির্বীজিত" নয়. যারা আজ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে, - এরা মোটেও স্ফটিক স্বচ্ছ ইউরোপীয় গণতন্ত্রের সমর্থক নয়, এরা খুবই বিভিন্ন ধরনের লোকজন. তাদের মধ্যে কেউ আছে চরমপন্থী, কাউকে আবার সন্ত্রাসবাদী নাম দেওয়া যেতে পারে. এখানে শক্তি ও স্বার্থের ভারসাম্যের খেয়াল করে এগোতে হবে, উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও একই সঙ্গে নিজের বিদেশী সহকর্মীদের প্রতি ভরসা দিয়ে বলেছেন:

"আমরা নানা রকমের পথই নিতে তৈরী আছি, কিন্তু তা কখনোই একতরফা ভাবে সিরিয়া প্রশাসন বা রাষ্ট্রপতি আসাদের সমালোচনা করে হতে পারে না. তা সমস্ত বিরোধী পক্ষকেই কড়া সঙ্কেত দিতে বাধ্য: আলোচনার টেবিলে বসতে হবে ও রক্তপাত বন্ধ করতে হবে".

0রাশিয়া সিরিয়ার খুবই মিত্র দেশ হিসাবে এই বিষয়ে আগ্রহী, যাদের সঙ্গে খুবই প্রসারিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে. সুতরাং এই পরিস্থিতি থেকে সম্ভাব্য বেরোনোর পথ খোঁজা চলবেই – উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ.