গত বুধবার দিল্লীর বাসিন্দাদের জন্য সত্যি এক কালো দিন হয়েছে. এই দিন সকালে দিল্লী হাইকোর্টের বাইরে সদর দরজার কাছে এক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে. আর বেশ রাতে হয়েছে ভূমিকম্প. কিন্তু ভূমিকম্প এই সন্ত্রাসবাদী হানার তুলনায় একেবারেই কোন রকম ক্ষতির কারণ হয় নি. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    সন্ত্রাসবাদী হানার কারণে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী ১২ জন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে. এই বোমা রাখা ছিল একটি বাক্সে, যা দরজার কাছে বদমাশ লোকেরা রেখে গিয়েছিল. যখন এই দরজা সামনে অনেক লোক জমা হয়েছিল, তখনই বোমা ফাটানো হয়েছে. এই ঘটনার দায়িত্ব নিয়েছে চরমপন্থী ঐস্লামিক দল হরকত উল – জেহাদী আল- ইসলামি (সংক্ষেপে হুজি), যারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী দল আল- কায়দার সঙ্গে যুক্ত. প্রথম ধর পাকড় শুরু হয়েছে.

    বলা হয়ে থাকে যে, সন্ত্রাসবাদের কোন মুখ হয় না, তা সারা বিশ্ব জুড়েই. সম্ভবতঃ, এটা সেই রকমই. কিন্তু ভারতের সন্ত্রাসবাদীদের, সে যারা পুরানো আর তার সঙ্গে নতুনরা সকলেই, একটা বিশেষত্ব রয়েছে, এই রকম মনে করে মস্কোর পি টি আই সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি বিনয় শুক্লা বলেছেন:

    "দিল্লীতে এই যে নতুন সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড ঘটল, তা আবার দেখালো যে, ভারতের সন্ত্রাসবাদীরা, তা এখন অবধি যতই সঠিক ভাবে নির্ণিত না হয়ে থাকুক, চেষ্টা করে দেশের সমস্ত প্রতীক হওয়া জায়গাতেই আঘাত করতে চায়. ভারতের জন্য হাই কোর্ট, পার্লামেন্ট, রাজধানীর অন্যান্য বিখ্যাত জায়গা বিশেষ ভাবে অর্থবহ. হতে পারে এমনকি অন্যান্য দেশের মানুষদের চেয়েও. এই জায়গা গুলির সঙ্গে ভারতের লোকেরা তাঁদের ন্যায় সম্বন্ধে ধারণাকে যুক্ত করে ভাবেন. তাই সন্ত্রাসবাদীরাও এটা খেয়াল করে সেখানেই সবচেয়ে বেদনা দায়ক আঘাত করার চেষ্টা করে থাকে".

    ২০০১ সালে তারা ভারতের পার্লামেন্ট আক্রমণ করেছিল. বহু বার চেষ্টা করেছে হাই কোর্টের সামনে বিস্ফোরণ করতে, অন্যান্য প্রধান জায়গা গুলির সামনে রাজধানীতে সন্ত্রাসবাদী হানা দিতে. এর উদ্দেশ্য একটাই – দেশের লোককে ভয় দেখানো, দেশের পরিস্থিতি ভারসাম্য যাতে হারায়, নিজেদের জানান দিতে ও দেখাতে যে তারা কত শক্তিধর. প্রসঙ্গতঃ এই সমস্ত সন্ত্রাসবাদীরা তখনই বেশী করে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যখন ভারত তার প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সু সম্পর্ক তৈরী করতে চায়. এমন হয়েছিল মে মাসেও, যখন ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক চলছিল, তখন বোমা ছিল কম শক্তির, তাই বেশী লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নি. শেষ সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডও করা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ঢাকা সফরের সময়, যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে, ছিটমহল নিয়ে চুক্তি হয়েছে, যা বহু বছর ধরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে খারাপ সম্পর্কের কারণ হয়েছিল.

    সন্ত্রাসবাদীরা চায় না এই অঞ্চলে কোন ভাল প্রতিবেশী সম্পর্ক থাকুক. তাছাড়া ওই হুজি দল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে.

    ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হানায় রক্ত ক্ষয়ের পরে ভারতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নানা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে. কিন্তু তাও এই কাণ্ড হয়েই চলেছে. ভারতের প্রধানমন্ত্রী  এই বিস্ফোরণকে নিন্দা করেছেন ও বলেছেন এটা কাপুরুষের আচরণ, আর আহ্বান করেছেন ভারতবাসীদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হতে. ভারতীয়দের নিজেদের এই সন্ত্রাসবাদী মোকাবিলার কাজে সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী ও প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানি.