ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে. বিগত ১২ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ঢাকা সফর, সম্ভবতঃ, সেই বিষয়কেই সুবিধা করে দিয়েছে যে, হিম শীতল যুগ, যা দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে বিগত কিছু দশক ধরে তৈরী হয়েছিল, তা সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, এবারে অতীতে পরিনত হতে চলেছে. বিষয়টিকে নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

   সম্পর্ক ভাল হতে শুরু করেছে বাংলাদেশে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরে “আওয়ামী লীগ” দলের বিজয় ও হাসিনা ওয়াজেদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই. মঙ্গলবারে ঢাকা শহরে মনমোহন সিংহ ও হাসিনা ওয়াজেদের আলোচনার সময়ে সীমান্ত নির্ণয় নিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে. ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত বহু বছর ধরেই সঠিক ভাবে নির্ণীত না হয়ে পড়েছিল. এই সুযোগ নিয়েছে ভারত বিরোধী চরমপন্থী দলেরা, তার মধ্যে “লস্কর এ তৈবার” মতো দলের লোকেরাও ছিল. সীমান্তে প্রায়শঃই গুলি গোলা উত্তেজনা তৈরী হয়েছে, বহু মানুষ হতাহত হয়েছে. সীমান্ত নির্ণয় চুক্তির পরে দিল্লী ও ঢাকাতে আশা করা হয়েছে যে, এই পরিস্থিতির লক্ষ্যণীয় রকমের পরিবর্তন হবে.

   ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে. দুই দেশের সীমান্ত বরাবরই এই ধরনের জায়গা বেশীর ভাগ ছিল. এই জায়গা গুলিতে পঞ্চাশ হাজার লোক বাস করেন. এই সমস্যা সমাধান হওয়াতে দুই দেশের পক্ষেই স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় করাখা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রাচ্যবিশারদ ও বিজ্ঞানী ইভগেনি সাতানোভস্কি, তিনি বলেছেন:

   “এর মানে হল, যে দুই দেশই ঠাণ্ডা শান্তির পর্যায় থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে, প্রসঙ্গতঃ স্বাভাবিক থাকাটা তত্কালীণ ভাবে নয়, যা খুবই ভঙ্গুর, যা একজন বা অন্য একজন রাজনীতিবিদের বিদায় নেওয়ার পরেই ফুরিয়ে যায় না, বরং থাকে বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী হয়েই”. (এই কথা তিনি ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়েও কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের ভারতকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে বিশিষ্ট দেশ বলার ক্ষেত্রেও বলেছিলেন – অনুবাদক).

   গত সপ্তাহে ভারত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেই দেশের সমুদ্র তীরবর্তী বন্দর অঞ্চলে নির্মাণ ও পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য ৭৫ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব মঞ্জুর করেছে. দিল্লী একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও বাড়াতে চাইছে. প্রতিবেশী দেশকে সামরিক প্রযুক্তি ও তার সঙ্গে যন্ত্রাংশ সরবরাহ শুরু করে, আর তারই সঙ্গে ভারতে বাংলাদেশী সেনা বাহিনীর অস্ত্র মেরামত করে. বিগত কিছু কাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অস্ত্র পেয়েছে অন্যান্য দেশ থেকেই, তার মধ্যে চিনও ছিল. বাংলাদেশের অস্ত্র বাজারে ভারতের এই প্রবেশ দুই দেশের মধ্যে লক্ষ্যনীয় ভাবে ভরসা বৃদ্ধির এক প্রমাণ হতে পারে. আর এটা আলাদা করে ইতিবাচক ভাবে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে.