লিবিয়ার সরকার ও ন্যাটো জোট, সম্ভবতঃ, মুহম্মর গাদ্দাফির খোঁজ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে. বিদ্রোহীরা গাদ্দাফি অনুগতদের অধীকৃত শহর গুলি চষে ফেলছে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপগ্রহ ও চালক বিহীণ বিমান দিয়ে এই অদৃশ্য কর্নেলকে শিকারের কাজ করছে.

   বিদ্রোহীরা মনে হচ্ছে, আস্তে আস্তে তাঁর চিহ্ণ হারিয়ে ফেলছে. তাদের কাছ থেকে গাদ্দাফির অবস্থান নিয়ে খবর আসছে পরস্পর বিরোধী. একবার বলা হচ্ছে যে, তিনি একই সাথে সির্ত, সাবহা ও বেনি- ওয়ালিদে, যেখানে প্রাক্তন প্রশাসনের এখনও দখল রয়েছে, সেখানে লুকিয়ে আছেন, আবার বলা হচ্ছে লিবিয়ার দক্ষিণে মরুভূমি অঞ্চলে পালিয়ে গিয়েছেন, নতুবা নিগের ও বুরকিনা ফাসো দেশ হয়ে ২০০ গাড়ী কিংবা মাত্র ১০টি সাঁজোয়া গাড়ীর এক ক্যারাভান নিয়ে চলেছেন. এই প্রসঙ্গে নিগের দেশের প্রশাসন একেবারেই অস্বীকার করেছে এমন কোন খবর সম্বন্ধে, যে, তাদের দেশের মধ্যে দিয়ে গাদ্দাফির কোন শত গাড়ীর ক্যারাভান গিয়েছে বলে. আর বুরকিনা ফাসো এক দিনের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলেছে, তারা ঘোষণা করেছে যে, আলজিরিয়ার মতই তারা কর্নেলকে কোন রকমের আত্মগোপন করার জায়গা দেবে না.

   ন্যাটো জোটের শক্তিরা নিজেদের খেলা খেলছে. হোয়াইট হাউসের তথ্য প্রচার সম্পাদক জে কারিন তো স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটের সঙ্গীদের নিয়ে সক্রিয়ভাবে গাদ্দাফিকে খুঁজছে. এই প্রসঙ্গে এটা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের লিবিয়ার আকাশ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে কি করে খাপ খায়, তা বিষদ করে বলতে তিনি কোন ভাবেই এখন বলতে রাজী হন নি. তা স্বত্ত্বেও রাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া নুল্যাণ্ড গোপন খবর সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন. নিগের দেশে কনভয় নিয়ে লিবিয়া থেকে কিছু উচ্চপদস্থ প্রাক্তন প্রশানের লোক এসেছেন, এই খবর সত্যি, কিন্তু “আমরা মনে করি না, যে সেখানে গাদ্দাফি আছেন”, - বলেছেন নুল্যাণ্ড. “তিনি লিবিয়াতে, নিরাপদ, সুস্থ ও উল্লসিত আছেন” - বলেছেন কর্নেলের প্রতিনিধি মুসা ইব্রাহিম, যিনি দেখা যাচ্ছে যে, নিগের দেশে ঢুকেছে বলে এরকম কোন রকমের সামরিক সাঁজোয়া গাড়ীর কনভয় নিয়ে কিছুই শোনেন নি.

   গোয়েন্দা গল্পের রূপ নিয়েছে সম্ভাব্য “বুনো হাঁস” নামের ইউক্রেন ও বেলোরাশিয়ার থেকে যাওয়া লোকেদের গাদ্দাফির পক্ষে অংশ নেওয়া নিয়েও. প্রায় কুড়ি জন ইউক্রেনের স্নাইপারকে নাকি অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় পরিষদের লোকেরা ধরে রেখেছে লিবিয়াতে. কিয়েভ এই ধরনের সংবাদের সততা সম্পূর্ণ ভাবেই অস্বীকার করেছে যে, তাদের দেশের লোকেরা সেনা বাহিনীর লোক বলে. তারা সমর্থন করে বলেছে যে, এঁরা হলেন খনিজ তেল উত্পাদনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ লোক. বেলোরাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকেও গাদ্দাফির পক্ষে তাদের দেশ থেকে কোন পুরনো ও অভিজ্ঞ, ভাড়াটে স্নাইপার গিয়ে যুদ্ধ করেছে বলে রটানো খবরকে মিত্যা বলা হয়েছে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, এই ধরনের “অপপ্রচারের” কাজ অম্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদ ইচ্ছা করেই করছে, যাতে তাদের হয়ে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে, তাঁর প্রশাসন পতনের জন্য, খোলাখুলি ভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়া গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, কাতার ও সৌদি আরব থেকে আনা বিশেষ বাহিনীর যোদ্ধাদের অংশ নেওয়া নিয়ে স্ক্যাণ্ডালকে চাপা দেওয়া যায়.

   একই সঙ্গে আফ্রিকা মহাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভ মনে করেছেন যে, এবারে সময় এসেছে লিবিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে ঐতিহ্য অনুযায়ী উচ্চ স্তরে উন্নীত করার ও এই দেশে রাশিয়া থেকে নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠানোর. লিবিয়াতে রাজনৈতিক সঙ্কটের শুরুর সময় থেকে সেখানের রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির চামভকে বরখাস্ত করে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, তাই বর্তমানে সেখানে সর্ব্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রতিনিধি হয়ে রয়েছেন অস্থায়ী কার্যকরী প্রতিনিধি.

   অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মস্কো শহরে আসন্ন বৈঠকের সময়ে এই প্রশ্ন যে আলোচনা করা হতেই পারে, তার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া হচ্ছে না. লিবিয়ার লোকেরা নিজেরাই এই সফরের উদ্যোগ নিয়েছে, অংশত এই কারণে যাতে এখানে এসে রাশিয়ার লিবিয়াতে প্রকল্প গুলির ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয়. লিবিয়াতে রাশিয়ার স্বার্থ বহু ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ ও প্রাচ্য বিশারদ স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

   “গাদ্দাফি প্রশাসনের সময়ে যে সমস্ত চুক্তি করা হয়েছিল, তার সর্বমোট অর্থ মূল্য এক হাজার কোটি ডলার. এটা “লুকঅয়েল” কোম্পানী, “তাতনেফত্” কোম্পানী, “গাজপ্রম নেফত্” কোম্পানী, “রাশিয়ার রেল পথ” কোম্পানীর সঙ্গে হওয়া নানা চুক্তি, সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও পরিকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত সহযোগিতা”.

   রাশিয়া ঐতিহ্য অনুযায়ী লিবিয়ার খুবই ভরসা যোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ সহকর্মী দেশ. সেখানে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্য মস্কোর অবস্থা বুঝে আচরণ দিয়েই প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে.

   ইরাকের সঙ্গে সহযোগিতার অভিজ্ঞতা যেমন প্রমাণ করেছে যে, লিবিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা শুধু সেখানে সরকার গঠনের পরেই সম্ভব হতে পারে. বর্তমানে রাশিয়ার কোম্পানী গুলির সেখানে কারও সঙ্গেই নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মতো পরিস্থিতি নেই. আবার একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, ইতালির “এনি” কোম্পানী, যাদের সঙ্গে “গাজপ্রম নেফত্” কোম্পানী একসাথে যৌথ উদ্যোগে লিবিয়াতে তেল উত্পাদনের কাজ করবে বলে ঠিক করেছিল, তাদের অবস্থানও, এই রকম মনে করে স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

   “ইতালির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা রাশিয়ার পক্ষ থেকে, সেখানে উপস্থিতির জন্য জোর দেবে. খুব সম্ভবতঃ রাশিয়ার কোম্পানী গুলির নিজস্ব চুক্তির কিছুটা সংরক্ষিত হবে”.

   নতুন সরকার না বুঝে পারে না যে, বহু সময় ধরে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু দেশের পক্ষ থেকে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন পেতে পারে না. এই কথা আরব দেশ গুলি, চিন ও লাতিন আমেরিকার দেশ গুলিতেও বোঝা হয়েছে, যারা ত্রিপোলির সঙ্গে সবসময়েই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছিল. তাই রাজনৈতিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগের বিভিন্ন দিকে প্রসারই অন্তর্বর্তীকালীণ জাতীয় পরিষদকে শুধু আইন সঙ্গত ভাবেই নয়, এমনকি বাস্তবিক ভাবেই সকলের কাছে স্বীকারের যোগ্য করে তুলতে পারে. সুতরাং লিবিয়া, রাশিয়ার স্বার্থ নষ্ট করার কথা ভুলেও ভেবো না. এই কথা বলতে চাওয়া হচ্ছে, রাশিয়ার ধনী লোকেদের পক্ষ থেকে.