ইয়ারোস্লাভল শহরে “সামাজিক বহুরূপের যুগে আধুনিক রাষ্ট্র” নামের বিশ্ব রাজনৈতিক সম্মেলনের উদ্বোধন হয়েছে. ৭-৮ সেপ্টেম্বর এই দুই দিনে এখানে অনেক রুশী ও বিদেশী রাজনীতিবিদ এবং রাজনীতিজ্ঞ বক্তৃতা দেবেন. এখানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও তুরস্কের রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা গ্যুল.

   ইয়ারোস্লাভল শহরের এই সম্মেলন এবারে তৃতীয় বার হচ্ছে. আর এখন বলা যেতে পারে যে, এটা রাশিয়াতে বিতর্কের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ. এই সম্মেলনে অংশ নিতে আসছেন বিশাল সংখ্যক রুশ ও পশ্চিমের বিশেষজ্ঞরা, দেশ নেতারা ও বিভিন্ন দেশের বড় রাজনৈতিক নেতারা. প্রসঙ্গতঃ প্রত্যেক বছরের সঙ্গেই এই সম্মেলন আরও বেশী করে লোকের জানার বিষয় হচ্ছে, তাতে আরও বেশী করে প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী গবেষকেরা আসছেন, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্ব রাজনৈতিক সম্মেলনের আয়োজক পরিষদের প্রধান ভ্লাদিস্লাভ ইনোজেমতসেভ বলেছেন:

   “এটি বাস্তবিক ভাবে এক দারুণ গঠনমূলক, অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ আলোচনার মঞ্চ হয়েছে রাশিয়ার রাজনীতিজ্ঞ, রাজনীতিবিদ এবং ইউরোপের, আমেরিকার, চিনের সামাজিক ধারণার প্রতিনিধি ও আরও বহু দেশের প্রতিনিধিদের জন্য. এই বছরে এই সম্মেলন আগের বছর গুলির তুলনায় একটু আলাদা কাঠামোতে হচ্ছে. কাজ হবে সম্পূর্ণ দুই দিনই. প্রথম দিনে আমাদের তিনটি বিভাগ, যার প্রতিটিতে লাঞ্চের আগে ও পরে বৈঠক চলবে, মনে করা হয়েছে যে, তার প্রতিটি অধিবেশনেই ২৫- ২৭ জন অংশগ্রহণকারী সম্পূর্ণ ভাবে তাঁদের মত প্রকাশ করবেন, আর পরে তাঁরা সকলে মিলে বিতর্কে অংশ নেবেন”.

   এই সম্মেলনের প্রধান বিতর্ক তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে: “বহু প্রজাতিগত সমাজের গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউট গুলি”, “ধনী ও দরিদ্র: ন্যায় কোথায়?” এবং “বিশ্ব নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক বিরোধ গুলি”. যদিও প্রত্যেক বছরে এই সম্মেলনে নতুন বাস্তব সমস্যার প্রতিই লক্ষ্য করে করা হয়ে থাকে, তাহলেও মূলগত ভাবে, এখানের অংশগ্রহণকারীরা একই ও সেই সমস্ত প্রশ্নেরই উত্তরই খুঁজে পেতে চাইছেন, এই কথা ঘোষণা করে সামাজিক প্রকল্প নির্মাণ ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর এবং “ধনী ও দরিদ্র: ন্যায় কোথায়?” বিভাগের অংশগ্রহণকারী মিখাইল রগোঝনিকভ বলেছেন:

   “বিশ্ব রাজনৈতিক সম্মেলন ইয়ারোস্লাভল শহরে একেবারে শুরু থেকেই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে: বিশ্ব নিরাপত্তা, বিশ্ব জোড়া দারিদ্র ও বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতি. এর উদ্ভব হয়েছে, কারণ বিগত তিরিশ বছর ধরে এই প্রশ্ন গুলির সমাধান সন্তোষজনক ভাবে করা হয় নি. এই সম্মেলনে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার এলাকা নিয়ে উত্তর খোঁজা হয় নি, বরং বলা যেতে পারে, খোঁজা হয়েছে রাষ্ট্রের গুণগত উন্নতির এলাকা ও বাস্তব গণতান্ত্রিক কর্মে অংশ নেওয়ার জন্য নীতিগত ভাবে প্রসারের জন্য. এটা এমন এক সমস্যা, যা বর্তমানে একেবারেই আলোচনার মঞ্চে আনা হচ্ছে না ও তা ঠিক করে বুঝে দেখাই হচ্ছে না. মনে করা হচ্ছে যে, যদি রাষ্ট্রের ভিতরে ক্ষমতায় পরিবর্তনের সময়ে পরিকাঠামো ভাল কাজ করে, তাহলেই সব ভাল. আর সেই বিষয়ে, সব দেশেই যে গণতান্ত্রিক অংশ গ্রহণের সম্ভাবনাকে একেবারে সবচেয়ে কম মাত্রায় করা হয়েছে – তা সে পুরনো ও নতুন গণতন্ত্র সমস্ত ক্ষেত্রেই – এটা যে একটা সমস্যা, যার কোন সমাধান বাস্তবে আলোচিত হচ্ছে না”.

   এই সম্মেলনের অতিথিরা উল্লেখ করেছেন যে, এই সাক্ষাত্কারের সময়ে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে, তা বহু বছর ধরেই বাস্তব প্রযোজনীয়তা কমায় নি. এই বিষয়েই বলেছেন ভারতবর্ষ থেকে এই সম্মেলনে আসা অংশগ্রহণকারী, নয়াদিল্লীর উন্নতিশীল সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর প্রফেসর রাজী ভার্গব.

   আমি আমার বিদেশী সহকর্মীদের কাছ থেকে আধুনিক সমাজের সমস্যা গুলি, গণতন্ত্রের আদর্শরূপ দেওয়া নিয়ে এই ইয়ারোস্লাভলের সম্মেলনে যে সমস্ত আগ্রহজনক আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে, তা অনেকবার শুনেছি, আর তাই এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আমন্ত্রণ পত্র পেয়ে খুশী হয়েছি. তিনি এই কথা উল্লেখ করে আরও বলেছেন:

   “ইয়ারোস্লাভলের সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে, যা আধুনিক রাষ্ট্র গুলির সামনে উপস্থিত হয়েছে. তার মধ্যে – বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির এক সঙ্গে থাকা এবং সম্প্রদায়ের সহাবস্থান. এই প্রশ্নের সমাধানের জন্য আজকের বহু সম্প্রদায়ের ভারতবর্ষ বহুরূপের মধ্যেই ঐক্যের নীতির পথ গ্রহণ করেছে. তা বহু জাতি ও বহু ধর্মমতের দেশ রাশিয়াও যে পথে চলছে, তারই সঙ্গে ঐক্যতানে রয়েছে. আমি আশা করব যে, এই অভিজ্ঞতা পশ্চিমের দেশ গুলির জন্যেও প্রয়োজনীয় হবে”.

   ইয়ারোস্লাভল শহরে নিজের বক্তৃতায় প্রফেসর রাজী ভার্গব বিশেষ করে উল্লেখ করবেন বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের প্রশ্ন গুলি নিয়ে. তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য রুশ ও বিদেশী সহকর্মীরা, যাঁরা ভারতবর্ষের অভিজ্ঞতা নিয়ে চর্চা করেন, তাঁরা অপেক্ষায় রয়েছেন.

   এই সম্মেলনের সমস্ত বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির বৈঠক একই সঙ্গে তাত্ক্ষণিক ভাবে বিশ্বের ১১টি ভাষাতে অনুদিত হবে, তার মধ্যে ইংরাজী, জার্মান, ফরাসী ও চৈনিক ভাষাও রয়েছে. সম্মেলনের কাঠামোর মধ্যে বিভাগের আলোচনা ও বিতর্ক ছাড়াও খোলা ভাবে বিতর্কের জন্য জায়গা রয়েছে. আয়োজকেরা ভেবে বার করেছেন কি করে এই সম্মেলনের ভৌগলিক বাধা দূর করা যেতে পারে, তাই যাঁরা এখানে নানা কারণে আসতে পারেন নি, তাঁদের জন্য বেশ কয়েকটি ভিডিও কনফারেন্স ও টেলি ব্রীজের ব্যবস্থাও করা হয়েছে.